বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ নিজেদের ছাড়িয়ে যাওয়ার

  • দিল্লি থেকে অনীক মিশকাত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-11-02 22:17:17 BdST

ক্রিকেটে সময়টা কোনো দিক থেকেই বাংলাদেশের ভালো যাচ্ছে না। ব্যর্থতার জাল ছিন্ন করতে পারছে না মাঠের ক্রিকেট। ক্রিকেটারদের ধর্মঘট আর সাকিব আল হাসানের নিষেধাজ্ঞায় মাঠের বাইরেও অস্থিরতা। স্বস্তি নেই ভারতে গিয়েও, সফরের শুরুতে লড়াই করতে হচ্ছে দিল্লির বায়ু দূষণের সঙ্গে। অপেক্ষায় আরও বড় পরীক্ষা। পরাক্রমশালী ভারতের বিপক্ষে খেলতে হবে তাদেরই মাটিতে। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য সিরিজটি তাই সামর্থ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ।

দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে রোববারের টি-টোয়েন্টি দিয়ে শুরু হচ্ছে ভারতে বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ সফর। খেলা শুরু হবে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাতটায়।

নিষেধাজ্ঞার জন্য নেই সাকিব। সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর পাশে থাকতে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন তামিম ইকবাল। পিঠের চোটে ছিটকে গেছেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। সঠিক কম্বিনেশন খুঁজে পেতেই জেরবার বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট।

মাঠের বাজে ফল, বাইরের নানা ঘটনা মিলিয়ে দেয়ালে যেন পিঠ ঠেকে গেছে মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকুর রহিমদের। তবে অনুপ্রেরণাও একটা আছে। অতীত বলছে, এমন পরিস্থিতিতে বরাবরই বেরিয়ে আসে বাংলাদেশের সেরাটা!

এবার প্রত্যাশা তেমন কিছুর। সবাই মুখিয়ে আছেন বাজে সময় পেছনে ফেলে দেশের ক্রিকেটে স্বস্তির সুবাতাস বইয়ে দিতে। দিল্লির চরম দূষিত বাতাস নিয়েও ভাবার অবকাশ নেই দলের, জানালেন মরিয়া হয়ে থাকা মাহমুদউল্লাহ।

“কন্ডিশন তো আর আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। আমরা পরিস্থিতির চেয়ে খেলার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছি।”

সিরিজটি আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ে পাঁচ নম্বর দলের বিপক্ষে নয় নম্বর দলের। র‍্যাঙ্কিংয়ের চেয়েও বড় ব্যবধান দুই দলের শক্তি-সামর্থ্যের। ভারত এগিয়ে যোজন যোজন। তাই নিজেদের হারানোর কিছু দেখছেন না মাহমুদউল্লাহ।

সাকিবের অনুপস্থিতিতে তিন ম্যাচের সিরিজে নেতৃত্ব দিতে যাওয়া এই অলরাউন্ডার জানালেন, অনেক কিছু পাওয়ার হাতছানি তাদেরকে সামর্থ্যের বাইরে গিয়েও কিছু করতে অনুপ্রাণিত করছে।

“আমরা তো অনেক পজিটিভ। আমরা পজিটিভ আমাদের ফল নিয়ে। আমরা সবাই জানি, ভারত তাদের নিজেদের কন্ডিশনে খুব শক্তিশালী। ওদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও তাই বলে। আমাদের হারানোর কিছু নাই, পাওয়ার অনেক কিছু আছে। এভাবেই চিন্তা করে আমরা অনুপ্রাণিত যেন আমরা নিজেদের সেটা পারফরম্যান্সটা করতে পারি। ভালো ক্রিকেট খেলে যেন আমরা জিততে পারি।”

দেশের ঘটনা দেশেই ফেলে এসেছেন ক্রিকেটাররা। ভারত সফর দিয়ে নতুন শুরুর দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ। 

“সাকিবের ওই সংবাদ বা শেষ কিছু দিনে বাংলাদেশে যা ঘটেছে আমরা সেখান থেকে সরে এসেছি। দেশে থাকতেই আমরা এই ব্যাপারে কথা বলেছি। এখানে এসে রাসেল (ডমিঙ্গো, কোচ) কথা বলেছে, আমি কথা বলেছি। দল হিসেবে আমরা কথা বলেছি, আমরা আমাদের কাজটুকু কতটা ভালোভাবে করতে পারি।”

“বাংলাদেশ দলের জন্য আমরা আমাদের পারফরম্যান্স কতটা ভালো করতে পারি। এই দিকটায় সবার মনোনিবেশ করা উচিত। আমার মনে হয়, সবাই ওইভাবেই চিন্তা করছে।”

সবাই যে এভাবে চিন্তা করছেন তার আঁচ পাওয়া গেল মোসাদ্দেক হোসেনের কথায়ও। তরুণ এই অলরাউন্ডার জানালেন, স্রেফ জেতার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবেন তারা।

“আমরা জেতার লক্ষ্য নিয়ে এসেছি। অবশ্যই তিনটি ম্যাচেই জিততে চাইব।”

৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের চেয়ে অন্য কোনো কিছুই ভারতের জন্য হবে একরকম ব্যর্থতা। তবে এক বছর পরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চোখ রেখে জয়ের পাশাপাশি ছোট ছোট আরও কিছু লক্ষ্য আছে দলের, জানালেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রোহিত শর্মা।

“বিশ্বকাপের আগে আমরা সম্ভাব্য সকল পরিস্থিতিতে নিজেদের পরীক্ষা করে নিতে চাই। তা করার জন্য এটাই সবচেয়ে ভালো সময়। একই সঙ্গে আমরা প্রতিটি ম্যাচ জিততে চাই। এটা কেবল চেষ্টা করার আর সহজে ম্যাচ ছুটে যেতে দেওয়ার ব্যাপার নয়।”

“ম্যাচ জেতা অবশ্যই মূল লক্ষ্য থাকবে। এরপর অন্য বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া যাবে। টি-টোয়েন্টিতে আমাদের সময়টা বেশ ভালো কাটছে। এই সংস্করণে আমরা পঞ্চম স্থানে আছি। আমরা আরেকটু উন্নতি করতি চাই। এই লক্ষ্য অর্জন করতে না পারার কোনো কারণ দেখছি না।”

টি-টোয়েন্টিতে ধীরে ধীরে উন্নতি করছে বাংলাদেশও (২২৪)। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পেছনে ফেলে উঠে এসেছে নয় নম্বরে। খুব বেশি এগিয়ে নেই আট নম্বরে থাকা আফগানিস্তান (২৩৫)। ভারতের বিপক্ষে জিতে রশিদ খানদের সঙ্গে ব্যবধান কমানোর হাতছানি বাংলাদেশের সামনে। 


ট্যাগ:  বাংলাদেশ  মাহমুদউল্লাহ  বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ