ছক কেটে শিকার ধরেছেন আমিনুল

  • দিল্লি থেকে অনীক মিশকাত, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-11-04 14:05:34 BdST

পরপর দুই ওভারে ছক্কা, তরুণ বোলারের জন্য হতে পারত বড় ধাক্কা। কিন্তু দুই ছক্কা হমজ করেও ভড়কে যাননি। এলোমেলো হয়নি ভাবনা। বোলিং করে গেছেন পরিকল্পনা অনুযায়ী। তাতে মিলেছে সাফল্য,থামিয়েছেন ঝড় তোলা শ্রেয়াস আয়ারকে। সাফল্যে উদ্বুদ্ধ আমিনুলের উপলব্ধি, ব্যাটসম্যান যাই করুক, নিজের বোলিংটাই করে যেতে হবে।

দিল্লিতে রোববার ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ে দারুণ বোলিং করেছেন আমিনুল। ৩ ওভারে ২২ রান দিয়ে নিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ ২টি উইকেট।

ম্যাচের পরের সকালে টিম হোটেলে তরুণ লেগ স্পিনার জানালেন,তার পারফরম্যান্স আর দলের জয় ভারতের বিপক্ষে বলেই তৃপ্তি বেশি।

“ আমরা তো কয়েকদিন আগে এসেছি। এখানে অনুশীলনের সুযোগ হয়েছে। আবহাওয়াসহ সব কিছুর সঙ্গে আমরা ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পেরেছি। ভারত খুবই ভালো দল। ওদের বিপক্ষে ভালো করাটা সবসময়ই আনন্দের। তবে আমি যখন যে জায়গাতেই খেলি, চেষ্টা করি নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য।”

সপ্তম ওভারে বল হাতে পেয়েছিলেন আমিনুল। তৃতীয় বলেই টার্ন করে বেরিয়ে যাওয়া বলে ফিরিয়ে দেন লোকেশ রাহুলকে।

সেই ওভারে ১৯ বছর বয়সী স্পিনারকে এক্সট্রা কাভার দিয়ে ছক্কায় আছড়ে ফেলেন শ্রেয়াস। আমিনুলের পরের ওভারে আবার তিনি ছক্কা মারেন মাথার ওপর দিয়ে।

দারুণ জমে ওঠা সেই দ্বৈরথে শেষ হাসি হাসেন এই লেগ স্পিনারই। ফুল লেংথ বলেই প্রলুব্ধ করে নেন শ্রেয়াসের উইকেট। জানালেন,বেশি কিছু করার চেষ্টা না করে স্রেফ জায়গা মতো বোলিং করে গেছেন তিনি।

“ব্যাটসম্যান ভেবে বোলিং করছিলাম। কোন জায়গায় খেলতে চাচ্ছে, এর বিপরীতে বোলিং করা, ভালো জায়গায় বোলিং করা… এটাই পরিকল্পনা ছিল। অনেক কিছুর চেষ্টা করিনি, ঠিক লাইন লেংথে বোলিং করে গেছি।”

“রিয়াদ ভাই (মাহমুদউল্লাহ) আমাকে কেবল জায়গায় বোলিং করতে বলেছেন। আমিও বুঝেছিলাম, ঠিক জায়গায় বোলিং করলে কাজ হবে। সেভাবেই পেয়েছি শ্রেয়াসের উইকেট।”

সেপ্টেম্বরে দেশের মাটিতে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল আমিনুলের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৮ রানে নিয়েছিলেন ২ উইকেট। সেই ম্যাচেই হাতে চোট পেয়ে কিছু দিন ছিলেন মাঠের বাইরে। দিল্লির ম্যাচ দিয়ে ফিরলেন দলে। আবারও নিলেন ২ উইকেট।

অভিষেক ম্যাচ সব ক্রিকেটারের মনেই আলাদা জায়গা নিয়ে থাকে। ভারতের বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে পারফরম্যান্সও বিশেষ কিছু। দুই ম্যাচের কোনো একটিকে তাই এগিয়ে রাখতে পারছেন না আমিনুল।

“অভিষেক ম্যাচ তো অভিষেক ম্যাচই। এই ম্যাচ তো সব সময় স্মরণীয় হয়ে থাকে। ওই ম্যাচটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অভিষেক ম্যাচে ভালো করা প্রত্যেকটা খেলোয়াড়ের জন্য জরুরি। আর ভারত অনেক ভালো দল,ওদের বিপক্ষে ভালো করাও খুশির।”

“যখন যেখানেই খেলি না কেন নিজের সেরাটা দিয়ে খেলার চেষ্টা করি। যদি আরও সুযোগ পাই, আরও ভালো খেলার চেষ্টা করবো। ধীরে ধীরে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।”

মাত্র ক্যারিয়ার শুরু হলো। প্রতিপক্ষ এখন পেয়ে যাবে তার বোলিংয়ের ভিডিও।করা হবে চুলচেরা বিশ্লেষণ। আমিনুলের অপেক্ষায় তাই কঠিন চ্যালেঞ্জ। তবে তাতে ঘাবড়ে না গিয়ে তিনি আলিঙ্গন করছেন বাস্তবতাকে।

“ভালো দলের বিপক্ষে এই চ্যালেঞ্জ সব সময়ই থাকে। আমার কোচ আছেন। তার সঙ্গে কথা বলব,কিভাবে করলে আরও ভালো কিছু করা যায়। সেভাবে এগোনোর চেষ্টা করব।”


ট্যাগ:  আমিনুল  বাংলাদেশ  বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ