রূপকথার নতুন অধ্যায় রচনার অপেক্ষায় বাংলাদেশ

  • রাজকোট থেকে অনীক মিশকাত, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-11-06 20:36:07 BdST

একটি জয়ে যেন পাল্টে গেছে বাংলাদেশ। কেটে গেছে মানসিক বাধা। মনোবল বেড়ে গেছে বহুগুণ। সময়টা হয়ে উঠেছে দারুণ উপভোগ্য। আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা দলটির সব সদস্য বিশ্বাস করেন, এই ভারতকে আবার হারানো সম্ভব। রাজকোটেই সেটি করে দেখাতে চান। এক ম্যাচ হাতে রেখেই জিতে নিতে চান টি-টোয়েন্টি সিরিজ। লিখতে চান নিজেদের ক্রিকেট রূপকথার নতুন অধ্যায়।

সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শুরু হবে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি। ম্যাচটি জিতলেই ভারতের বিপক্ষে প্রথমবারের এই সংস্করণে কোনো সিরিজ জিতবে বাংলাদেশ।   

বুধবারের অনুশীলনে ফুরফুরে দেখা গেছে সফরকারী ক্রিকেটারদের। এ দিন নেটে বোলিং করেননি মুস্তাফিজুর রহমান, আল আমিন হোসেন ও শফিউল ইসলাম। সেন্টার উইকেটে শার্ল ল্যাঙ্গাভেল্টের তত্ত্বাবধানে সেরেছেন প্রস্তুতি। পরে সৌম্য আলাদাভাবে করেছেন স্পট বোলিং।

নেটে অনেকটা সময় ধরে বোলিং করেন তাইজুল ইসলাম, আরাফাত সানি ও আমিনুল ইসলাম। মোহাম্মদ মিঠুনসহ সব ব্যাটসম্যান নেটে ব্যাটিং করেন লম্বা সময় ধরে। অনুশীলনের পর সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদউল্লাহ জানান, সিরিজ জেতার কাজটা সেরে ফেলতে চান রাজকোটেই।  

“অবশ্যই এটা দুর্দান্ত সুযোগ। যখন আপনি প্রথম ম্যাচে জিতে এগিয়ে থাকবেন সব সময়ই সেটা ভালো সুযোগ। ছেলেরাও ভালো কিছু করতে মরিয়া হয়ে আছে। আশা করি, কাল ভালো কিছু করে দেখাতে পারব।”

“শুরুতে আমাদের উপর আসলে কোনো চাপ ছিল না। প্রথম ম্যাচে আমাদের হারানোর কিছু ছিল না। পাওয়ার ছিল অনেক। কালও তেমনি আমাদের পাওয়ার থাকবে অনেক। আমরা আগ্রাসী ও ইতিবাচক ক্রিকেট খেলব।”

ভারতের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে জয় অনেক বড় ব্যাপার। গত কিছু দিনে বাংলাদেশের ক্রিকেট যে অবস্থার মধ্য দিয়ে গেছে তাতে এই জয়ের অর্থ হবে আরও বড়।  

“বাংলাদেশের ক্রিকেটে যা হলো গত কদিনে, এমন একটা সিরিজ জেতা বিশাল উদ্দীপক হবে বাংলাদেশের ক্রিকেট ও বাংলাদেশ দলের জন্য। ভারতকে হারাতে আমাদের সেরা ক্রিকেট খেলতে হবে। আমরা জানি, তারা খুব ভালো দল। ঘরের মাঠে এবং সব খানেই।”

“দুই দলের উপরই চাপ থাকবে। যারা নিজেদের পরিকল্পনা প্রয়োগ করতে পারবে তারাই এগিয়ে যাবে।”

ভারতের বিপক্ষে বারবার জয়ের দুয়ের গিয়ে শূন্য হাতে ফিরতে হচ্ছিল। দিল্লির জয়ে সেই গেরো কেটে গেছে। নিজেদের ক্রিকেটে সাফল্যের নতুন অধ্যায় লেখার অপেক্ষায় মাহমুদল্লাহ।

“মানসিক যে বাধার কথা বললেন, সেখান থেকে হয়তো এখন আমরা কিছুটা সরে আসবো। তবে টি-টোয়েন্টিতে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আরও অনেকই আসবে। এটা নির্ভর করে আমরা কতটা শান্ত থেকে আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করি, স্কিল কাজে লাগাই এবং ম্যাচটা জেতার চেষ্টা করি।”

“যেহেতু আমরা প্রথম ম্যাচটা জিতেছি, তাই এটা বাড়তি আত্মবিশ্বাস যোগাবে আমাদের সবার মধ্যে…কালকের ম্যাচের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। সবাই কষ্ট করছে, অনুশীলনে সবাই নিজের শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করছে। সবাই মিলে সবটুকু দিয়ে যেন কালকের ম্যাচটা জেতার চেষ্টা করতে পারি।”

অনুশীলনের ফাঁকে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা জানালেন, দলের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। সবাই বিশ্বাস করেন সিরিজে আরও ম্যাচ জেতা সম্ভব। প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোও রাজকোটে জেতার দারুণ সম্ভাবনা দেখছেন।

“এই মাঠটা অনেক বড়। সীমানা পার করা বেশ কঠিন হবে। উইকেট দেখে ব্যাটিং সহায়ক মনে হয়েছে। তবে এটা দুইশ রানের উইকেট নয়। ১৭০-১৮০ রান হতে পারে।”

জিততে কোন কোন বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে তার একটি ধারণা দিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

“আমাদের ফোকাসের জায়গা অ্যাটিটিউড, পজিটিভিটি আর অ্যাডাপ্টিবিলিটি। আমাদের সব বিভাগেই অনেক বেশি ফোকাসড থাকতে হবে। সবাই যেন সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি সেভাবেই যেন প্রস্তুত থাকি।”

“আমরা অনেক বড় একটা সিরিজ খেলতে এসেছি। ভারত দেশের মাটিতে ভীষণ শক্তিশালী। গত ১২ সিরিজে ওরা প্রমাণ করেছে দেশের মাটিতে ওরা কত শক্তিশালী। সেদিক থেকে এটা অনেক বড় অর্জন হবে যদি আমরা সিরিজ জিততে পারি।”

ভারত দলের ছিল ঐচ্ছিক অনুশীলন। ঠিক যেমন ছিল প্রথম টি-টোয়েন্টির আগের দিন। রোহিত শর্মার সঙ্গে এসেছিলেন রিশাব পান্ত, শিবাম দুবে, সঞ্জু স্যামসন ও শার্দুল ঠাকুর। 


ট্যাগ:  বাংলাদেশ  মাহমুদউল্লাহ  বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ