১৭ নভেম্বর ২০১৯, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

শেষ সুযোগ কাজে লাগাতে মরিয়া বাংলাদেশ

  • নাগপুর থেকে অনীক মিশকাত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-11-09 21:49:04 BdST

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের সবশেষ অবস্থা কি? অনুশীলনের মাঝে খবর রাখছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। মহাবিপদ সঙ্কেত দেখাতে বলা হয়েছে শুনে তাদের চোখে-মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ। সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় টি-টোয়েন্টি যেন ক্ষণিকের জন্য হয়ে গেল গৌণ। খানিক পরেই অবশ্য মনোযোগ ফিরল প্রস্তুতিতে। ব্যাটিং-বোলিং ব্যর্থতায় হাতছাড়া হয়ে গেছে সিরিজ জয়ের প্রথম সুযোগ। যেভাবেই হোক কাজে লাগাতে হবে দ্বিতীয় ও শেষ সুযোগটি।

নাগপুরের বিদর্ভ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে রোববার তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে ভারত ও বাংলাদেশ। খেলা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়। 

দিল্লিতে ৭ উইকেটে জিতে সিরিজে এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। রাজকোটে ৮ উইকেটে জিতে সমতা আনে ভারত। তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে স্বাগতিকদের চাওয়া ব্যাটিং সহায়ক উইকেট, সফরকারীরা চাওয়া উল্টো। ম্যাচের আগের দিনের উইকেট দেখে খুশি রাসেল ডমিঙ্গো। বাংলাদেশের প্রধান কোচ সম্ভাবনা দেখছেন নিজেদের পছন্দের উইকেট পাওয়ার।

পেসার আল আমিন হোসেন নিশ্চিত, দিল্লির মতোই উইকেট পাওয়া যাবে নাগপুরে,

“মনে হচ্ছে ১৫০ রানের উইকেট। তবে শিশির একটা ফ্যাক্টর হতে পারে।”     

নাগপুরে এ পর্যন্ত ১১টি টি-টোয়েন্টি হয়েছে, এর আটটিতে জিতেছে আগে ব্যাটিং করা দল। এখানকার উইকেট বোলারদের পক্ষেই কথা বলেছে বেশি। মাত্র তিন ম্যাচে আগে ব্যাট করা দল ছাড়াতে পেরেছে দেড়শ।

স্পিনারদের সহায়তা আছে দেখে নিজের খুশি আড়াল করেননি ডমিঙ্গো। লেগ স্পিনার আমিনুলের সঙ্গে আছেন তিন অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ, আফিফ হোসেন ও মোসাদ্দেক হোসেন। প্রয়োজনে দুই বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত সানি ও তাইজুল ইসলামকেও একাদশে ফেরাতে পারে বাংলাদেশ। 

রাজকোটে জয়ের পর খোলাখুলিভাবেই সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ব্যাটিং সহায়ক উইকেট চেয়েছিল ভারত। তবে ঘরের মাঠে যে সে আশা পূরণ হচ্ছে না, তা অনুমান করতে পারছেন রোহিত।

অনুশীলনের ফাঁকে লম্বা সময় ধরে পিচের পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলতে দেখা গেছে ভারত অধিনায়ককে। তিনি অবশ্য উইকেট যেমনই হোক, নিজেদের সামর্থ্যে আস্থা রাখছেন।

দেশের মাটিতে এখনও তিন ম্যাচের কোনো টি-টোয়েন্টি সিরিজে হারেনি ভারত। মাহমুদউল্লাহর দলের সামনে ইতিহাস গড়ার হাতছানি। দলের সেরা দুই খেলোয়াড় সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালকে ছাড়া এমন কিছু সম্ভব ভাবাই কঠিন ছিল আগে।

বাংলাদেশের ক্রিকেট যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ছিল সেখান থেকে দলকে বের করে আনার কৃতিত্ব কোচকে দিয়েছিলেন খেলোয়াড়রা। ডমিঙ্গো সেটা ফিরিয়ে দিলেন ক্রিকেটারদের।

“সফরের আগের সপ্তাহগুলো কঠিন ছিল, কিন্তু খেলোয়াড়দের কৃতিত্ব প্রাপ্য। গত ১০ দিনে ছেলেরা অসাধারণ প্রাণশক্তি ও ইচ্ছাশক্তি দেখিয়েছে। ওরা নতুন কিছু চেষ্টা করতে উন্মুখ। ওরা দেশের বাইরে একটা উঁচুমানের দলের বিপক্ষে খেলছে।”   

“কেউ যদি যদি দুই সপ্তাহ আগে বলতো, নাগপুরে ১-১ সমতা নিয়ে আসব, কেউ বিশ্বাস করতো না। যেখানে আছি সেখানে থেকে আমরা খুব খুশি। আগামীকাল আমাদের জন্য দারুণ একটা সুযোগ। ছেলেরা এটা নিয়ে রোমাঞ্চিত।”

ভারতকে তাদের মাটিতে হারানো সহজ কথা নয়। বিরাট কোহলি, জাসপ্রিত বুমরাহ, হার্দিক পান্ডিয়া নেই, তারপরও শক্তিতে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে দলটি। এই সিরিজে তারা নিজেদের চ্যালেঞ্জ করতে চেয়েছিল। রান তাড়ায় ভারত দারুণ সফল একটি দল। ততটা সাফল্য নেই বোলিংয়ে পুঁজি ডিফেন্ড করায়।

এই ক্ষেত্রে নিজেদের পরীক্ষা করে নিতে চেয়েছিল ভারত। প্রথম ম্যাচে টস হেরে আগে ব্যাটিং করার সুযোগ এসেছিল কিন্তু সেই ম্যাচে পেরে ওঠেনি স্বাগতিকরা। পরের ম্যাচে টস জিতে সেই চ্যালেঞ্জের পথে আর এগোয়নি দেশটি, ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় প্রতিপক্ষকে।

হারানোর কিছু নেই, এই মনোভাব নিয়ে সিরিজ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। শেষটায় তাদের সামনে নিজেদের ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার হাতছানি। সে লক্ষ্যে নিজেদের উজাড় করে দিতে উন্মুখ মাহমুদউল্লাহ-মুশফিকুর রহিমরা।


ট্যাগ:  বাংলাদেশ  বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ