নাঈম বীরত্বেও হতাশায় শেষ বাংলাদেশের

  • নাগপুর থেকে অনীক মিশকাত, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-11-10 23:59:36 BdST

বড় রান তাড়ায় দলের বাজে শুরুর পরও দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে আশা জাগিয়েছিলেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। তরুণ এই ওপেনারের বীরত্বের পরও ভারতের বিপক্ষে পেরে ওঠেনি বাংলাদেশ। শেষের দিকের তালগোল পাকানো ব্যাটিং আর দীপক চাহারের অসাধারণ বোলিংয়ে সফরকারীরা হেরেছে ম্যাচ, সেই সঙ্গে সিরিজও। 

নাগপুরের বিদর্ভ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে রোববার তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৩০ রানে জিতেছে ভারত। ১৭৪ রান তাড়ায় বাংলাদেশ চার বল বাকি থাকতে গুটিয়ে যায় ১৪৪ রানে। প্রথম ম্যাচে হারা রোহিত শর্মার দল সিরিজ জিতেছে ২-১ ব্যবধানে।

একার প্রচেষ্টায় দলকে লড়াইয়ে রেখেছিলেন নাঈম। একটু মন্থর শুরুর পর চড়াও হন বোলারদের ওপর। মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে বড় জুটিতে চিন্তায় ফেলে দেন স্বাগতিকদের। ৮১ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে নাঈম ফেরার সময় দাঁড়িয়ে সম্মান জানায় দর্শকরা।

ছবি: বিসিসিআই

ছবি: বিসিসিআই

অসাধারণ বোলিং করা চাহার মাত্র ৭ রানে নেন ৬ উইকেট। টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে এটাই সেরা বোলিং। দলকে দারুণ জয় এনে দেওয়ার পথে শফিউল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান ও আমিনুল ইসলামকে ফিরিয়ে মাতেন হ্যাটট্রিকের উচ্ছ্বাসে।

ম্যাচে বাংলাদেশের শুরুটা অবশ্য ছিল দারুণ। ইনিংসের দ্বিতীয় ও নিজের প্রথম ওভারে বোল্ড করে রোহিত শর্মাকে ফিরিয়ে দেন শফিউল ইসলাম। ঝড় তোলার আগে শিখর ধাওয়ানকেও থামান ডানহাতি এই পেসার।

শফিউলের বলে শূন্য রানে ফিরতে পারতেন শ্রেয়াস আইয়ারও। পয়েন্টে তার সহজ ক্যাচ ছাড়া আমিনুল ইসলাম বোলিংয়েও ভালো করতে পারেননি। শেষের দিকে ছাড়েন আরেকটি ক্যাচ।

শুরু থেকে আস্থার সঙ্গে খেলেন লোকেশ রাহুল। জীবন পাওয়ার পর সাবধানী ব্যাটিংয়ে এগোন আইয়ার। দুই তরুণের ব্যাটে এগিয়ে যায় ভারত। দারুণ সব শটে রানের গতিতে দম দেন রাহুল। উইকেটের চারপাশে শট খেলে তুলে নেন ফিফটি।

এরপর অবশ্য তিনি যেতে পারেননি বেশিদূর, ধরা পড়েন আল আমিন হোসেনের লেগ কাটারে। ৩৫ বলে ৭ চারে করেন ৫২। আইয়ারের সঙ্গে গড়েন ৫৯ রানের জুটি।

রাহুলের বিদায়ের পর শট খেলতে শুরু করেন আইয়ার। আফিফ হোসেনের এক ওভারে হাঁকান তিন ছক্কা। ঝড় তুলে ২৬ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি।

চাপে থাকা রিশাভ পান্ত ব্যর্থ আবারও। সৌম্য সরকারের স্লোয়ার তেড়েফুড়ে মারতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান। সেই ওভারেই ফিরেন আইয়ার। ৩৩ বলে খেলা তার ৬২ রানের ইনিংস গড়া পাঁচ ছক্কা ও তিন চারে। 

শেষের দিকে ১৩ বলে অপরাজিত ২২ রানের ইনিংস খেলেন সিরিজে প্রথমবারের মতো খেলতে নামা মনিশ পান্ডে।   

ছবি: বিসিসিআই

ছবি: বিসিসিআই

দারুণ বোলিংয়ে ২৯ রানে ২ উইকেট নেন সৌম্য। শফিউল ২ উইকেট নেন ৩২ রানে। মিতব্যয়ী বোলিংয়ে ২২ রানে ১ উইকেট নেন আল আমিন। আগের দুই ম্যাচে নিষ্প্রভ মুস্তাফিজুর রহমান ব্যর্থ আবারও; ৪ ওভারে ৪২ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য।

বড় রান তাড়ায় শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ঝড় তোলার সামর্থ্য আছে যাদের সেই দুজনই ফিরেন দ্রুত; দিপক চাহারের বলে পুল করে সীমানায় ধরা পড়েন লিটন দাস, পরের বলে মিড অফে সহজ ক্যাচ দেন সৌম্য সরকার। ১২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা বাংলাদেশ।

মন্থর শুরুর পর বাংলাদেশ এগিয়ে যায় নাঈমের ব্যাটে। প্রথম ১৫ বলে ৮ রান করা এই বাঁহাতি ডানা মেলেন ষষ্ঠ ওভারে যুজবেন্দ্র চেহেলকে তিন বাউন্ডারি হাঁকিয়ে। পরে শিবাম দুবের বলে মারেন দুই বাউন্ডারি। দ্রুত এগোতে থাকে বাংলাদেশ। সাবধানী শুরুর পর চেহেলকে বাউন্ডারি হাঁকান মিঠুনও।

প্রথম স্পেলে দারুণ বোলিং করা ওয়াশিংটন সুন্দরও পার পাননি। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে হয়ে ওঠেন খরুচে; তার তৃতীয় ওভারে ছক্কা হাঁকান নাঈম, পরের ওভারে মিঠুন। 

৩৪ বলে ক্যারিয়ারে প্রথম ফিফটি তুলে নেন নাঈম। দুই ব্যাটসম্যানের দৃঢ়তায় ম্যাচে চালকের আসনে বসে বাংলাদেশ। শেষ আট ওভারে সফরকারীদের প্রয়োজন ছিল ৬৯ রান, ক্রিজে ছিলেন দুই থিতু ব্যাটসম্যান। হাতে ছিল ৮ উইকেট।

চাহারকে ওড়ানোর চেষ্টায় লং অফে মিঠুন ধরা পড়লে ভাঙে ৯৮ রানের জুটি। ২৯ বলে ২৭ রান করেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। বাংলাদেশের বিপর্যয়ের সেই শুরু।

পরের ওভারে প্রথম বলে শিবাম দুবের বলে বোল্ড হয়ে যান মুশফিকুর রহিম। ডান হাতি এই মিডিয়াম পেসার নিজের পরের ওভারে ফিরে আরও বড় আঘাত হানেন, নাঈমকে বোল্ড করার পরের বলেই ফিরতি ক্যাচ নেন আফিফ হোসেনের।

প্রথম তিন ওভারে ভীষণ খরুচে যুজবেন্দ্র চেহেলের বলে বোল্ড হয়ে যান মাহমুদউল্লাহ। বাংলাদেশের জয়ের আশা অনেকটাই শেষ হয়ে যায় অধিনায়কের বিদায়ে। 

নাঈম-মিঠুনের পর বাংলাদেশের আর কোনো ব্যাটসম্যান যেতে পারেননি দুই অঙ্কে। শেষ ৮ উইকেট হারায় মাত্র ৩৪ রানে।

এরপর লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের দাঁড়াতেই দেননি চাহার। শফিউলকে ফেরানোর পর ম্যাচের শেষ ওভারের প্রথম দুই বলে বিদায় করেন মুস্তাফিজ ও আমিনুলকে। গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।

টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ভারতীয় হিসেবে হ্যাটট্রিকের উচ্ছ্বাসে মাতেন চাহার। সিরিজ জয়ের আনন্দে ভাসে ভারত। ইতিহাস গড়া চাহারের বোলিং ফিগার ৩.২-০-৭-৬। দুবে ৩ উইকেট নেন ৩০ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত: ২০ ওভারে ১৭৪/৫ ( রোহিত ২, ধাওয়ান ১৯, রাহুল ৫২, শ্রেয়াস ৬২, পান্ত ৬, মনিশ ২২*, দুবে ৯*; আল আমিন ৪-০-২২-১, শফিউল ৪-১-৩২-২, মুস্তাফিজ ৪-০-৪২-০, আমিনুল ৩-০-২৯-০, সৌম্য ৪-০-২৯-২, আফিফ ১-০-২০-০)।

বাংলাদেশ: ১৯.৫ ওভারে ১৪৪  (লিটন ৯, নাঈম ৮১, সৌম্য ০, মিঠুন ২৭, মুশফিক ০, মাহমুদউল্লাহ ৮, আফিফ ০, আমিনুল ৯, শফিউল ৪, মুস্তাফিজ ১, আল আমিন ০*; খলিল ৪-০-২৭-০, সুন্দর ৪-০-৩৪-০, চাহার ৩.২-০-৭-৬, চেহেল ৪-০-৪৩-১, দুবে ৪-০-৩০-৩)।

ফল: ভারত ৩০ রানে জয়ী

ম্যাচ ও সিরিজ সেরা: দীপক চাহার

সিরিজ: ভারত ২-১ এ জয়ী


ট্যাগ:  বাংলাদেশ  নাঈম  চাহার  ম্যাচ রিপোর্ট  ভারত  বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ  টি-টোয়েন্টি