পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

ব্যর্থ সাব্বির, অভিষেকে উজ্জ্বল অভিষেক

  • ক্রীড়া প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-03-15 18:08:48 BdST

bdnews24
অভিষেক দাস

দুই মাস পর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরার ম্যাচে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারলেন না সাব্বির রহমান। অভিজ্ঞ নাঈম ইসলাম খুলতে পারলেন না রানের খাতা। টি-টোয়েন্টির পর লিস্ট ‘এ’ অভিষেকেও আলো ছড়ালেন আলিস আল ইসলাম। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে নিজের প্রথম ম্যাচ রাঙালেন অভিষেক দাসও। লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে উড়িয়ে দিল ওল্ড ডিওএইচএস স্পোর্টিং ক্লাব।

ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে ফেরা দলটি টুর্নামেন্টের প্রথম দিনে জিতেছে ২৫ রানে। তাদের ২৩০ রানের জবাবে ২০৫ রানে থেমেছে গত দুই মৌসুমের রানার্সআপ রূপগঞ্জ।
 
বিকেএসপিতে রোববার ওল্ড ডিওএইচএস ব্যাটিংয়ে নেমেছিল টস হেরে। দলকে দারুণ শুরু এনে দেন আনিসুল ইসলাম ইমন ও রাকিন আহমেদ। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১০৬ রান। এরপর কোনো জুটি ছাড়াতে পারেনি ৩০ রানও। সর্বোচ্চ ৫৯ রান আসে আনিসুলের ব্যাট থেকে। পরে বোলারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ধরা দিয়েছে জয়। ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা যুব বিশ্বকাপ জয়ী দলের অলরাউন্ডার অভিষেক।
 
প্রথম উইকেটের জন্য রূপগঞ্জকে অপেক্ষায় থাকতে হয় ২৩.১ ওভার পর্যন্ত। আনিসুলকে ফিরিয়ে শুরুর জুটি ভাঙেন অফ স্পিনার সোহাগ গাজী। ৭৬ বলে ৭ চার ও এক ছক্কায় ইনিংসটি সাজান আনিসুল।
 
ওল্ড ডিওএইচএস এরপর উইকেট হারায় নিয়মিত। ফিফটির কাছাকাছি গিয়ে আল আমিন হোসেনকে ক্রস খেলতে গিয়ে বোল্ড হন ওপেনার রাকিন। ৭৭ বলে ৪ চারে ৪৮ রান করেন তিনি।
 
যুব বিশ্বকাপ জিতে আসা মাহমুদুল হাসান এগোচ্ছিলন দলকে আশা জুগিয়ে। তবে সোহাগ ও মোহাম্মদ শহিদকে দারুণ দুটি ছক্কা মারলেও বড় করতে পারেননি ইনিংস। বিদায় নেন ৩৫ বলে ৩৫ করে।
 
বাকিরা ছিলেন কেবল আসা-যাওয়ার মিছিলে। অভিষিক্ত প্রিতম কুমারের ৩৩ ছাড়া আর কেউ পনেরো পার করতে পারেননি। ৪০ রানে তারা হারায় শেষ ৫ উইকেট।
 
৫৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে রূপগঞ্জের সেরা বোলার সোহাগ। দুই পেসার শহিদ ও আল আমিন নেন দুটি করে উইকেট।
 
লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই রূপগঞ্জের রানের গতি ছিল স্লথ। পিনাক ঘোষ ও মেহেদি মারুফ ২৪ রানের উদ্বোধনী জুটিতে খেলেন ৪৪ বল। ১০ রান করা মারুফের বিদায়ে ভাঙে জুটি।

গত বিপিএলের পর মাঠে নামা সাব্বির থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ১৮ রান করতে খেলেছেন তিনি ৩১ বল। অধিনায়ক নাঈম ইসলাম ফেরেন ৫ বলে শূন্য করে। একই ওভারে সাব্বিরকে এলবিডব্লিউ করার পর নাঈমকে ফিরতি ক্যাচে ফেরান আলিস।
 
বেশিক্ষণ টেকেননি আল আমিন জুনিয়র। পিনাক এক প্রান্ত ধরে রেখে ফিফটি করার পরপরই ফেরেন ৫৩ রানে। তার ৯৩ বলের ইনিংসে ছিল ৬টি চার।
 
১৫৩ রানে ৭ উইকেট হারানো দলটিকে একটা পর্যায়ে আশা দেখিয়েছিল সোহাগ ও সানজামুলের অষ্টম উইকেট জুটি। তবে শেষ পাঁচ ওভারে ৫৪ রানের সমীকরণ মেলাতে পারেননি তারা। শেষের আগের ওভারে ৫০ রানের জুটি ভাঙতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় রূপগঞ্জ।
 
এই ওভারে পরপর দুই বলে উইকেট নেওয়া আব্দুর রশিদ ওল্ড ডিওএইচএসের সেরা বোলার। ডানহাতি পেসার ৩৫ রানে নেন ৩ উইকেট। অভিষেক ৩ উইকেট নেন ৪৪ রানে।
 
গত বছর বিপিএলে টি-টোয়েন্টি অভিষেকে হ্যাটট্রিক করা আলিস নিজের প্রথম পাঁচ ওভারে দিয়েছিলেন মাত্র ৭ রান। কোটা শেষ করে ৩৬ রানে ২ উইকেট নেন তরুণ অফ স্পিনার। যুব বিশ্বকাপজয়ী বাঁহাতি স্পিনার রকিবুল হাসান ২ উইকেট নেন ২৮ রানে।
 
সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ওল্ড ডিওএইচএস স্পোর্টিং ক্লাব: ৪৯ ওভারে ২৩০ (আনিসুল ৫৯, রাকিন ৪৮, মাহমুদুল ৩৫, মোহাইমিনুল ১২, রাকিব ২, প্রিতম ৩৩, অভিষেক ১৪, রকিবুল ১, সোহেল ২, আব্দুর রশিদ ৭, আলিস ৩*; শফিউল ৯-১-২৯-০, শহিদ ১০-২-৪১-২, আল আমিন ১০-০-৫১-২, সানজামুল ১০-০-৪৭-১, সোহাগ গাজী ১০-০-৫৪-৩)

লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জ: ৫০ ওভারে ২০৫ (পিনাক ৫৩, মারুফ ১০, সাব্বির ১৮, নাঈম ০, আল আমিন ৭, জাকের ২৮, সানজামুল ৪০, শহিদ ৯, সোহাগ ৩২, শফিউল ০, আল আমিন ১*; রশিদ ৯-০-৩৫-৩, অভিষেক ৯-১-৪৪-৩, মোহাইমিনুল ৭-০-৩৬-০, আলিস ১০-২-৩৬-২, রকিবুল ১০-০-২৮-২, সোহেল ৫-০-২৩-০)

ফল: ওল্ড ডিওএইচএস স্পোর্টিং ক্লাব ২৫ রানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: অভিষেক দাস।