‘ভেটোরির পরামর্শে ওয়ানডের আত্মবিশ্বাস পেয়েছি’

  • আরিফুল ইসলাম রনি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-03-19 21:11:25 BdST

খুব বেশিদিন হয়নি, বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের বিবেচনায়ও আনা হতো না তাইজুল ইসলামকে। অভিষেক ওয়ানডেতে হ্যাটট্রিকের ইতিহাস গড়লেও ৬ বছরের ক্যারিয়ারে এই সংস্করণে খেলতে পেরেছেন কেবল ৯টি ম্যাচ। সেই তাইজুলকেই সম্প্রতি লাল বলের পাশাপাশি সাদা বলের চুক্তিতেও রেখেছে বিসিবি। তিনি নিজেও সীমিত ওভারের ক্রিকেট নিয়ে ভাবছেন নতুন করে। কিভাবে এলো সব পক্ষের ভাবনার এই বদল? বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এই বাঁহাতি স্পিনার শোনালেন পেছনের গল্প। জানালেন ক্যারিয়ার নিয়ে তার সামগ্রিক ভাবনা ও স্বপ্নের কথাও।

এবার জিম্বাবুয়ে সিরিজের আগে ওয়ানডে দলে আপনাকে সেভাবে বিবেচনাই করা হয়নি। এখন আপনাকে দুই বলের চুক্তিতেই রেখেছে বিসিবি। অনেকের কাছেই এটি বিস্ময় হয়ে এসেছে, আপনি নিজে অবাক হয়েছেন?

তাইজুল ইসলাম: অবাক হইনি। আমার এখন বিশ্বাস আছে ওয়ানডেতে ভালো করার।

প্রথম যখন ওয়ানডে খেলেছিলাম, ভালো করেছিলাম। এরপর বিশ্বকাপে (২০১৫) একটি ম্যাচ খেলেছিলাম। খুব ভালো করিনি। এক ম্যাচে অতটা বোঝাও যায় না। তারপর আর সেভাবে সুযোগ পাইনি। নিশ্চয়ই আমার ঘাটতি ছিল। যারা দল গঠন করেন, তারা আমার চেয়ে ভালো জানেন ও বোঝেন।

এখন তারা আমাকে বিবেচনা করছেন, আমি অবশ্যই খুশি। অনেক দিন থেকেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছি, টেস্ট নিয়মিত খেলছি। অভিজ্ঞতা হয়েছে অনেক। আমার মনে হয়, ওই অভিজ্ঞতা ওয়ানডেতেও আমাকে সাহায্য করবে। আমার বোলিংয়ে আগে যে ব্যাপারগুলোর ঘাটতি ছিল, এখন কিছু যোগ করতে পেরেছি।

কোথায় ঘাটতি ছিল?

তাইজুল: আগে আমার বোলিংয়ের গতি ছিল একইরকম। ওয়ানডেতে একই গতি থাকলে ভালো করা কঠিন। আমার বোলিংয়ে কাজও ছিল কম। ভেটোরি আসার পর আমি এদিকটায় কাজ করা শুরু করেছি।

সুনিল যোশি যখন ছিলেন (স্পিন বোলিং কোচ), আমি তার সঙ্গে মূলত টেস্ট বোলিং নিয়েই কাজ করেছি। ভাবনা ওদিকেই ছিল শুধু। ভেটোরি আসার পর আমার বোলিং দেখে বললেন, ‘তুমি এই বোলিং দিয়েই সব ফরম্যাটে খেলতে পারবে, শুধু কিছু ফাইন টিউন করতে হবে।’

তার কথা থেকেই মূলত আমার ভাবনায় বদল এলো। যদি মূল বোলিং একই রেখে সব ফরম্যাট খেলা যায়, তাহলে কেন চেষ্টা করব না! তার সঙ্গে কিছু কাজ করেছি আমি, বিশেষ করে পেস ভেরিয়েশন নিয়ে। সেগুলো খুব সাহায্য করেছে। এখন আমার পেস ভেরিয়েশন ও অন্য কিছু জিনিস ভালো হচ্ছে আগের চেয়ে।

ভেটোরি নিজে থেকেই বলেছেন, নাকি ওয়ানডে খেলার তাড়না থেকে আপনি জিজ্ঞেস করেছিলেন?

তাইজুল: সুনির্দিষ্ট কিছু নয়। এমনিতেই যে কোচই আসুক, আমি সবসময় তাদের সঙ্গে বেশি কথা বলার চেষ্টা করি। ইংলিশ পারি বা না পারি, যতটুকু পারি, তা দিয়েই চেষ্টা করি। তাদেরও তখন হয়তো মনে হয় যে ছেলেটির আগ্রহ আছে শেখার। তারাও উৎসাহী হয়। ভেটোরির ক্ষেত্রেও মনে হয় সেটি হয়েছে। যখনই তাকে অনুশীলনে পাই, আমার সঙ্গে তার কথা হয় অনেক। কথা প্রসঙ্গেই বলেছিলেন।

এই যে অ্যাকশন ঠিক রেখে গতি বৈচিত্র্য বাড়ানোর চেষ্টা, এজন্য আপনার বোলিংয়ে টেকনিক্যাল কোন বদলগুলো এনেছেন ভেটোরি?

তাইজুল: টুকটাক অনেক কিছুই আছে। যেমন অ্যাকশন একইরকম রেখে পেস ভেরিয়েশন করার জন্য বডি পজিশন কেমন হবে, বডির অ্যাঙ্গেল, হাত কোথায় থাকবে, মাথার পজিশন, বলের গ্রিপ, বল রিলিজ করার পজিশন, এসব নিয়েই কাজ হয়েছে। এখনও চলছে কাজ।

এই কাজ করার আগেও ওয়ানডেতে আপনার পারফরম্যান্স খারাপ ছিল না। অভিষেকে হ্যাটট্রিকের অনন্য কীর্তি ছিল, নিয়মিত সুযোগ না এলেও যখন খেলানো হয়েছে, খারাপ করেননি। তারপরও ৬ বছরে মাত্র ৯টি ওয়ানডে, আপনার নিজের কাছে কারণ কি মনে হয়?

তাইজুল: আমি জানি না কারণ। সিদ্ধান্ত তো আমার ছিল না। হয়তো তারা মনে করেছেন, আমি এখন পারব না বা ওয়ানডের জন্য প্রস্তুত নই। অভিষেকে হ্যাটট্রিক করেছি, কিন্তু বড় দলের বিপক্ষে ছিল না (জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে)। সেজন্য হয়তো গুরুত্ব কম ছিল। বড় দলের বিপক্ষে হয়তো অত ভালো করতে পারিনি। তারা হয়তো মনে করেছিলেন, আরও প্রস্তুত হওয়ার পর আমাকে নেবেন। আমার তাতে অভিযোগ নেই।

টেস্ট বোলারের তকমা লেগে যাওয়াও কি একটা ব্যাপার? একসময় মোহাম্মদ রফিককে যেমন ওয়ানডে বোলার তকমা দিয়ে অনেক দিন টেস্ট খেলানো হয়নি। আপনার ক্ষেত্রেও তেমন কিছু হয়েছে?

তাইজুল: আমি কখনোই নিজেকে শুধু টেস্ট বোলার মনে করিনি। আমার মনে হয় না, নির্বাচকরাও কখনও বলেছেন। মিডিয়াই বলতে পারেন অমন বানিয়েছে। মিডিয়ার অনেকে বেশি নাড়াচাড়া করেছে টেস্ট বোলার হিসেবে। বোর্ড থেকেও কখনও এসব বলেনি। আমার তাই মনে হয় না, ট্যাগ লেগে যাওয়ায় সমস্যা হয়েছে।

আপনি অনেকটাই প্রথাগত বাঁহাতি স্পিনার, ফ্লাইট বেশি দেন, বৈচিত্র্য কম থাকাও কি একটা কারণ ওয়ানডেতে না খেলানোর?

তাইজুল: একটা কারণ তো অবশ্যই। একই পেসে বল করতাম তখন। জায়গা ও ফ্লাইট হয়তো ঠিকই থাকত, কিন্তু গতিটা সহজে অনুমান করা যেত। ব্যাটসম্যান মারতে চাইলে তখন তার জন্য সহজ হতো। টেস্টে ব্যাপারটি অন্যরকম। কিন্তু ওয়ানডেতে চলবে না ওই বোলিং দিয়ে। ব্যাটসম্যান দ্রুত ধরে ফেলত, সেভাবেই খেলত।

এখন ব্যাপার আলাদা। বোলিংয়ে বৈচিত্র্য বেড়েছে, ব্যাটসম্যান তাই একটু ভাববে এখন শট খেলতে গেলে। একটা পর্যায়ে আসতে পেরেছি আমার মনে হয়। টেস্টেও পেস ভেরিয়েশন বেড়েছে। গত ভারত সফর থেকে শুরু করে, এই জিম্বাবুয়ে সিরিজেও, ৭৮-৭৯ থেকে ৯২ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করেছি। আগে গতির পার্থক্য এত বেশি থাকত না। এই জায়গাগুলিতে আমি উন্নতি করার চেষ্টা করেছি।

রঙিন পোশাক থেকে দূরে থাকার এই লম্বা সময়ে হতাশ লাগেনি কখনও?

তাইজুল: দেখুন, এসব নিয়ে আমার কখনোই আক্ষেপ-হতাশা জাগেনি। মন খারাপ হয়নি, তা বলব না। হতেই পারে। কিন্তু হাহুতাশের কিছু নাই। কারণ আমি জানি, আমার ভাগ্যে যা আছে, সেটিই আমি পাব। হ্যাঁ, সেটি পাওয়ার জন্য আমাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, আমার মস্তিষ্ক সেভাবে ক্ষুরধার করতে হবে। কোনো কিছু শোনা মাত্র বা দেখিয়ে দেওয়া মাত্র যেন আমি ধরতে পারি ও করতে পারি। এই আর কী।

এখন ওয়ানডে নিয়ে আপনার ভাবনা কি?

তাইজুল: নির্বাচকরা হয়তো ভাবছেন, এখন আমি ওয়ানডে খেলার মতো অবস্থায় আসতে পেরেছি। আমার ভাবনা হলো, আমাকে যে আশা নিয়ে সাদা বলের চুক্তিতে রাখা হয়েছে, সেটি যেন পূরণ করতে পারি।

২০১৫ বিশ্বকাপে ছিলেন, গত বিশ্বকাপ খেলা হয়নি। ২০২৩ বিশ্বকাপ ভারতে, স্পিনারদের সুযোগ বেশি। নিশ্চয়ই বিশ্বকাপে চোখ থাকবে?

তাইজুল: আমি তো অবশ্যই চেষ্টা করব। চেষ্টা করতে তো ক্ষতি নেই। তবে সহজ হবে না। সাকিব ভাই ফিরবেন এবং ভালো করবেন। আরেক জন বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে জায়গা পাওয়া কঠিন হবে। তারপরও ভারতে যেহেতু খেলা, স্পিনার বাড়তি লাগতে পারে। আমি নিজেকে প্রস্তুত রাখতে চাই।

২০১৯ বিশ্বকাপ খেলতে পারিনি, সেটি নিয়ে আক্ষেপ নেই। আমি তো ওয়ানডে খেলিইনি অনেকদিন। পারফরম্যান্স ছিল না। তার ওপর ইংল্যান্ডে খেলা। আমি নিজেও জানতাম আমার সম্ভাবনা নাই।

আরেকটা প্রশ্নও প্রাসঙ্গিকভাবে চলে আসে, সবার কি সব ফরম্যাট খেলা জরুরি?

তাইজুল: আমার কাছে মনে হয়, আল্লাহ সবাইকে সব প্রতিভা দেন না। সবাই সব পারে না। কে কোন দিকে বেশি ভালো, এটিও বুঝতে হবে। যে যেদিকে ভালো, সেদিকে থাকতে পারে। আবার কেউ যদি মনে করে, অন্য দিকেও ভালো করতে পারে, চেষ্টা করতে ক্ষতি নেই।

আবার, একজন ক্রিকেটারের চ্যালেঞ্জও থাকে বিভিন্ন ফরম্যাটে নিজেকে দেখার। আগে আমিও নিজেকে টেস্টের জন্য মানিয়ে নিয়েছিলাম। ভেটোরি যখন বললেন যে একই বোলিং দিয়ে শুধু টুকটাক কিছু কাজ করলেই ওয়ানডে খেলতে পারব, আমারও মনে হলো যে চেষ্টা করি। রোহিত শর্মার কথাই ধরুন, কিছুদিন আগেও শুধু সাদা বলের ক্রিকেটার ছিল। এখন টেস্টে ভালো করছে। চেষ্টা করতে ক্ষতি নেই। না পারলে তো বাদ দেবেই।

আপনার অভিষেকের পর থেকে এখনও পর্যন্ত টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট আপনার (২৯ টেস্টে ১১৪ উইকেট, ২২ টেস্টে মেহেদী হাসান মিরাজের উইকেট ৯০টি, সাকিব আল হাসানের ৮৮)। এই সাফল্যের পথে আপনার ব্যক্তিগত রেসিপি কি ছিল?

তাইজুল: আমার ভাবনা খুব সাধারণ। যখনই মাঠে নামি, নিজের কাজটা ঠিকঠাক করতে চাই। সবসময় পারি না, মানুষ তো। তবে চেষ্টা করি সবসময় নিজের সেরাটা দেওয়ার। অনুশীলনেও চেষ্টা করি সর্বোচ্চ। আমার বোলিংয়ে অনেক বেশি কাজ নাই। যেটুকু আছে, আমার মূল শক্তি জায়গায় বল করা, ব্যাটসম্যানকে ভুল করতে বাধ্য করা, সেটি করার চেষ্টা করি। পাশাপাশি ব্যাটসম্যানকে বোঝার চেষ্টা করা, সেভাবে বল করা, এসব চেষ্টা করি।

সময়ের সঙ্গে অভিজ্ঞতাও বেড়েছে। অভিজ্ঞতার একটা মূল্য আছে। যেটা এখন আমি বুঝছি। আমি নিজেই বুঝতে পারি আগের আমার সঙ্গে এখনকার আমার পার্থক্য। ক্রিকেট খেলতে হলে মানসিকভাবে অনেক শক্ত থাকতে হয়। কঠিন সময়গুলো সামলাতে শিখতে হয়। এসবে এখন আমার উন্নতি হচ্ছে।

বাংলাদেশের স্পিনারদের মধ্যে জেনুইন টার্নার খুব বিরল। আপনি তাদের একজন যে ভালো টার্ন করাতে পারেন। এটা কি আগে থেকেই ছিল নাকি রপ্ত করেছেন?

তাইজুল: এটা আমার প্রকৃতিগতভাবেই ছিল আগে থেকে। আর কিছুটা কাজ তো করতে হয়েছেই। ঘষামাজা করতে হয়েছে। তবে ভেটোরি আমাকে একটা কথা বলেছেন, ‘বড় টার্ন গুরুত্বপূর্ণ নয়, কার্যকর টার্ন গুরুত্বপূর্ণ। যেটুকু টার্ন করলে ব্যাটসম্যানকে আউট করা যাবে। ছোট ছোট টার্নই ব্যাটসম্যানকে বিপদে ফেলে বেশি। তারা খেলতে গিয়ে আউট হয়।” ভেটোরি নিজেও কিন্তু বড় টার্নার ছিলেন না। কিন্তু অনেক সফল। তো বলে কাজ থাকত হবে। আমি চেষ্টা করছি কিছু যোগ করার।

নিজের বোলিংয়ে এই মুহূর্তে কোথায় উন্নতি জরুরি বলে মনে করেন?

তাইজুল: উন্নতি তো অনেক করতে হবে। উন্নতির শেষ নেই। তবে আপাতত যেটি নিয়ে কাজ করছি, সেই পেস ভেরিয়েশন আরও ভালো করতে চাই। একই অ্যাকশনে একই জায়গায় বল ফেলব, কোনোটি জোরে যাবে, কোনোটি আস্তে। ব্যাটসম্যান যেন আগে থেকে বুঝতে না পারে।

ক্রিজের ব্যবহার আরও ভালো করতে কাজ করছি। অ্যাঙ্গেলগুলো আরও ভালো করে কিভাবে কাজে লাগাতে পারি। দেখা যাক।

জাতীয় দলে আসার পর বেশ কয়েকজন স্পিন বোলিং কোচের সংস্পর্শে এসেছেন। কার কাছ থেকে বেশি উপকৃত হয়েছেন?

তাইজুল: সবার কাছ থেকেই কিছু না কিছু পেয়েছি। সুনিল যোশির সঙ্গে কাজ করে লাইন-লেংথ অনেক ভালো হয়েছে। আমাদের সোহেল ভাই আছেন (বিসিবির কোচ সোহেল ইসলাম), আমার বোলিং দেখলেই বুঝতে পারেন কোথায় সমস্যা হচ্ছে। কাজ করতে করতে এই অবস্থা হয়েছে, খালি চোখে দেখেই বলে দেন কোন জায়গায় কাজ করতে হবে। এখন ভেটোরি আছেন, তিনি কেন কিংবদন্তি, সেটাও বুঝতে পারি। সব কিছু খুব দ্রুত ধরতে পারেন, কোনটা করতে হবে আমার।

সব কোচের কাছ থেকেই আসলে নেওয়ার অনেক কিছু আছে। আমি কিভাবে ও কতটা নিতে পারি, সেটিই হলো গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যাটের হাত আপনার বরাবরই ভালো ছিল। ইদানিং আরও উন্নতির ছাপ দেখা যাচ্ছে। আগের চেয়ে বেশি শটও খেলছেন!

তাইজুল: আমি বেশির ভাগ সময় যখন নামি ক্রিজে, আরেকপাশে একজন স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান থাকে। আমার চেষ্টা থাকে অন্তত ২০-২৫ রান করার, যেন সেই ব্যাটসম্যান সময় পায় ও বড় স্কোর গড়তে পারে। চেষ্টা করি ৬০-৭০ বা ১০০ রানের একটা জুটি গড়ার।

কাজ করতে করতে শটও বাড়ছে কিছু। আগে শট খেলার সময় পেতাম না, বল চোখের পলকে চলে আসত। এখন উন্নতি হয়েছে কিছু, বলের লেংথ একটু দ্রুত বুঝতে পারি। নিল ম্যাকেঞ্জি, রায়ান কুকের সঙ্গে কাজ করে উন্নতি হয়েছে।

দেশে আপনার পারফরম্যান্স যতটা উজ্জ্বল (১৯ টেস্টে ৯৩ উইকেট), ততটাই বিবর্ণ দেশের বাইরে (১০ টেস্টে ২১ উইকেট)। দেশের বাইরে ভালো করতে উন্নতি কোথায় করতে হবে বলে মনে করেন? 

তাইজুল: দেশের বাইরে টানা খেলা খুব বেশি হয়নি। সাকিব ভাই থাকলে তো আরেকজন বাঁহাতি স্পিনারের খেলা সম্ভব নয়! তারপরও এটাও ঠিক, যখন সুযোগ পেয়েছি, খুব ভালো করিনি। যে জিনিসগুলো নিয়ে কাজ করছি, সেসব চালিয়ে যেতে হবে। এগুলো রপ্ত করতে পারলে আশা করি, ভালো করার সুযোগ আসবে।

নিজের কাছে ক্যারিয়ারে এখনও পর্যন্ত সেরা উইকেট কোনটি?

তাইজুল: বিরাট কোহলির উইকেট, যদিও ততক্ষণে ডাবল সেঞ্চুরি করে ফেলেছিল (২০১৭ সালে হায়দরাবাদ টেস্টে)। ডেলিভারিটি ভালো ছিল, কুইকার। জো রুটের উইকেট নিয়েও ভালো লেগেছে (২০১৬ সালে মিরপুরে), কুইকার ছিল সেটিও। বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানদের উইকেট অন্য রকম ভালো লাগা এনে দেয়।

ক্যারিয়ারে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে স্মরণীয় পারফরম্যান্স?

তাইজুল: জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৮ উইকেট অবশ্যই। এক ইনিংসে ৮ উইকেট পেতে ভাগ্যও লাগে। অভিষেকে হ্যাটট্রিকের কথাও বলতে হবে। হ্যাটট্রিকের মজাই আলাদা।

৮ উইকেট নেওয়ার টেস্টে ব্যাটিংয়ে ১৫ রানের ইনিংসটিও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ওই ইনিংস না হলে হয়তো আমরা জিততাম না, ৮ উইকেটই বিফলে যেত। আরেকটা কারণেও ওই টেস্ট স্মরণীয়, আমাদের দেশের ক্রিকেটের অবস্থা তখন খুব ভালো ছিল না। ওই সিরিজ জয়ের পর চেহারাই বদলে গিয়েছিল। বড় একটা টার্নিং পয়েন্ট ছিল সেটি। তো প্রথম টেস্ট জয়টা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

বেশ কিছু রেকর্ড, কীর্তি আছে আপনার, আছে সাফল্য ও দলে অবদান। কিন্তু তারকা ভাবমূর্তি কখনোই গড়ে ওঠেনি বা দেখা যায়নি…

তাইজুল: আমি কখনোই তারকা হওয়ার জন্য ক্রিকেট খেলি না। ইচ্ছাও করে না। নিজের মতো থাকতেই পছন্দ করি। ক্রিকেট খেলতে ভালো লাগে, এটা আমার পেশাও, এজন্য খেলি। ভালো খেলার জন্য খেলি। তারকা হওয়ার ইচ্ছা থাকলে সেটি মাঠের ভেতরে বা বাইরে আমার আচরণেই দেখতে পেতেন। আমি সেসব করি না। এরকমই থাকতে চাই। এভাবেই ভালো আছি, খুশি আছি।

ক্যারিয়ার নিয়ে স্বপ্ন?

তাইজুল:  স্বপ্ন তো অনেক থাকে। সব ক্রিকেটারের থাকে। আপাতত চাই, ক্যারিয়ার যত লম্বা করা যায়। ক্রিকেট আমার ভালোবাসার খেলা, আরও অনেক দিন খেলতে চাই। তবে যেদিন দেখব শরীর আর পেরে উঠছে না, নিজেই ছেড়ে দেব। ক্রিকেট ছাড়ার পর, এখন যা মনে হয়, সুযোগ থাকলে কোচিং করাব। পরে ভাবনা অন্যরকমও হতে পারে।

উইকেটের কথা যদি বলেন, ৩০০ টেস্ট উইকেট পাওয়ার স্বপ্ন দেখি। আমাদের দেশে এটা খুবই কঠিন। টেস্ট ম্যাচই তো বেশি পাই না। অনেক কঠিন হবে। তারপরও স্বপ্ন দেখি। 


ট্যাগ:  বাংলাদেশ  সাক্ষাৎকার  তাইজুল