পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

অস্ট্রেলিয়াকে পাত্তা না দিয়ে সিরিজ ইংল্যান্ডের

  • স্পোর্টস ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-09-06 22:45:04 BdST

অ্যাডাম জ্যাম্পার বল ছক্কায় উড়িয়ে ম্যাচ শেষ করলেন জস বাটলার। ওই শটে লেখা হয়ে থাকল যেন ইংলিশদের দাপটও। আগের ম্যাচে রোমাঞ্চকর জয়ের পর এবার ইংল্যান্ড জিতল অনায়াসে। নিশ্চিত হয়ে গেল তাদের সিরিজ জয়ও।

ব্যাটে-বলে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। তিন ম্যাচ সিরিজে এগিয়ে গেছে তারা ২-০তে।

সাউথ্যাম্পটনে রোববার অস্ট্রেলিয়াকে ১৫৭ রানে আটকে রেখে ইংলিশরা জিতেছে ৭ বল বাকি রেখে।

ইংল্যান্ডের পেসাররা যথারীতি রেখেছেন বড় অবদান, স্পিনে আদিল রশিদ ছিলেন বরাবরের মতোই কার্যকর। ওয়েন মর্গ্যানের নেতৃত্বও আরও একবার ছিল ক্ষুরধার। ক্যারিয়ার সেরা ৭৭ রানের অপরাজিত ইনিংসে রান তাড়ায় দলকে জয়ের ঠিকানায় নিয়ে গেছেন বাটলার।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়া ধাক্কা খায় শুরুতেই। আগের ম্যাচে ফিফটি করা ডেভিড ওয়ার্নার ফিরে যান ম্যাচের তৃতীয় বলেই। জফ্রা আর্চারের গতি ও বাউন্স তাকে থামিয়ে দেয় রানের খোতা খোলার আগেই।

ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পেয়ে তিনে নামা অ্যালেক্স কেয়ারি কাজে লাগাতে পারেননি সুযোগ। মর্গ্যানের অসাধারণ ফিল্ডিংয়ে রান আউটে কাটা পড়েন স্টিভেন স্মিথ।

৫ ওভারের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলা অস্ট্রেলিয়াকে টানেন অ্যারন ফিঞ্চ ও মার্কাস স্টয়নিস। দুজনই উইকেটে থিতু হয়ে খেলেন দারুণ কিছু শট। কিন্তু সম্ভাবনাকে পূর্ণতা দিতে পারেননি কেউই।

৩৩ বলে ৪০ করে ফিঞ্চ স্টাম্পে টেনে আনেন ক্রিস জর্ডানের বল। ২৬ বলে ৩৫ করে স্টয়নিস স্লিপে ক্যাচ দেন আদিল রশিদের টার্ন ও বাউন্সে। অস্ট্রেলিয়ার বড় স্কোরের আশা অনেকটাই শেষ হয়ে যায় তাতে।

বিপজ্জনক গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ছিলেন তখনও। তিনিও পারেননি কাজ শেষ করে আসতে (১৮ বলে ২৬)। শেষ দিকে অ্যাশটন অ্যাগারের ২০ বলে ২৩ ও শেষ ওভারে আর্চারের বলে প্যাট কামিন্সের চার-ছক্কায় দেড়শ পেরোয় অস্ট্রেলিয়া।

অপ্রতিরোধ্য ইংল্যান্ডকে এই রানে আটকানো কঠিন, অস্ট্রেলিয়া সেটি পারেওনি। মিচেল স্টার্কের শর্ট বলে জনি বেয়ারস্টো হিট উইকেট হন ৯ রান করে। তবে দ্বিতীয় জুটিতেই বাটলার ও মালান একরকম গড়ে দেন ম্যাচের ভাগ্য।

দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এই দুজন গড়েন ৬৩ বলে ৮৭ রানের জুটি। টি-টোয়েন্টিতে দারুণ ধারাবাহিকতায় ছুটে চলা মালান এ দিন খেলেন ৩২ বলে ৪২ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস।

এরপর টম ব্যান্টন ও মর্গ্যানকে দ্রুত ফিরিয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু বাটলারকে থামানোর পথই খুঁজে পায়নি তারা। শেষ দিকে চার-ছক্কায় মইন আলিও চাপে পড়তে দেননি দলকে।

৮ চার ও ২ ছক্কায় ৫৪ বলে ৭৭ রান করে দলকে জিতিয়ে ফেরেন বাটলার। ম্যাচের সেরা এই কিপার-ব্যাটসম্যানই।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

অস্ট্রেলিয়া: ২০ ওভারে ১৫৭/৭ (ওয়ার্নার ০, ফিঞ্চ ৪০, কেয়ারি ২, স্মিথ ১০, স্টয়নিস ৩৫, ম্যাক্সওয়েল ২৬, অ্যাগার ২৩, কামিন্স ১৩*, স্টার্ক ২*; আর্চার ৪-০-৩২-১, উড ৪-০-২৫-১, কারান ৩-০-২৫-০, রশিদ ৪-০-২৫-১, জর্ডান ৪-০-৪০-২, মইন ১-০-৮-০)।

ইংল্যান্ড: ১৮.৫ ওভারে ১৫৮/৪ (বাটলার ৭৭*, বেয়ারস্টো ৯, মালান ৪২, ব্যান্টন ২, মর্গ্যান ৭, মইন ১৩*; স্টার্ক ৪-০-২৫-১, কামিন্স ৩-০-২৪-০, রিচার্ডসন ২-০-১৯-০, ম্যাক্সওয়েল ২-০-১৬-০, জ্যাম্পা ৩.৫-০-৪২-১, অ্যাগার ৪-০-২৭-২)।

ফল: ইংল্যান্ড ৬ উইকেটে জয়ী

সিরিজ: ৩ ম্যাচ সিরিজে ইংল্যান্ড ২-০তে এগিয়ে

ম্যান অব দা ম্যাচ: জস বাটলার