ছক্কা বৃষ্টির রোমাঞ্চে রাজস্থানের অবিশ্বাস্য জয়

  • স্পোর্টস ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-09-28 01:01:08 BdST

ক্রিকেটের উত্তেজনা, রোমাঞ্চ ও নাটকীয়তার রূপ দেখা গেল শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। রান পাহাড় গড়েও জেতা হলো না কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের। শেষের দিকে বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে রান তাড়ার রেকর্ড গড়ে অবিশ্বাস্য এক জয় তুলে নিল রাজস্থান রয়্যালস।

আইপিএলে রান উৎসবের ম্যাচটিতে রোববার ৪ উইকেটে জিতেছে রাজস্থান। ছোট মাঠ ও নিখাদ ব্যাটিং উইকেটের ম্যাচে মায়াঙ্ক আগারওয়ালের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে পাঞ্জাব ২০ ওভারে তুলেছিল ২২৩ রান। রাজস্থান তা পেরিয়ে গেছে ৩ বল বাকি থাকতে।

শেষ ৫ ওভারে ৮৪ রান দরকার ছিল রাজস্থানের। ম্যাচ তখন মনে হচ্ছিল পাঞ্জাবের মুঠোয়। কিন্তু এরপর ১১টি ছক্কায় রাজস্থান এগিয়ে যায় অসাধারণ জয়ের পথে। শেষ ১৫ বলের মধ্যেই এসেছে ৮টি ছয়!

আইপিএলে সর্বোচ্চ রান তাড়ায় জয়ের আগের রেকর্ড ছিল রাজস্থানেরই। ২০০৮ সালে টুর্নামেন্টের প্রথম আসরে ডেকান চার্জার্সের ২১৪ তাড়া করে জিতেছিল তারা।

মায়াঙ্কের মতো কোনো সেঞ্চুরি রাজস্থানের ইনিংসে না থাকলেও ছিল কার্যকর সব দুর্দান্ত ইনিংস। ওপেনিংয়ে অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ ২৭ বলে করেছেন ৫০। চোখধাঁধানো ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতায় সাঞ্জু স্যামসন খেলেছেন ৪২ বলে ৮৫ রানের ইনিংস।

বিধ্বংসী ইনিংসের পথে স্যামসনের একটি শট। ছবি: বিসিসিআই।

বিধ্বংসী ইনিংসের পথে স্যামসনের একটি শট। ছবি: বিসিসিআই।

তবে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত ইনিংসটি নিঃসন্দেহে রাহুল তেওয়াতিয়ার। দ্রুত রান তোলার ভাবনায় ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পাওয়া এই ব্যাটসম্যান শুরুতে বলে ব্যাট ছোঁয়াতেই ধুঁকছিলেন। এক পর্যায়ে তার রান ছিল ১৯ বলে ৮। সেই ব্যাটসম্যানই পরের ১১ বলে মেরেছেন ৭ ছক্কা!

রাজস্থানের রান তাড়ার শুরুটা ছিল জস বাটলারকে হারিয়ে। তবে আরেক ওপেনার স্মিথ ও স্যামসনের ব্যাটে রান আসতে থাকে ঝড়ের গতিতে। ৯ ওভারেই দল তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পর ফেরেন স্মিথ।

সহজাত আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে এরপর রানের চাকা সচল রাখেন স্যামসন। কিন্তু পিঞ্চ হিটিংয়ের জন্য যাকে ওপরে আনা, সেই তেওয়াতিয়া ধুঁকছিলেন টাইমিং পেতে।  

স্যামসনের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের পরও তাই রাজস্থানের সমীকরণ ক্রমেই হয়ে ওঠে ভীষণ কঠিন। শেষ ৬ ওভারে তাদের প্রয়োজন ছিল ৯২।  নিজের প্রথম ২ ওভারে মাত্র ৮ রান দেওয়া গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের তৃতীয় ওভার থেকে ২১ রান নেন স্যামসন।

পরের ওভারেই স্যামসনের বিদায়ে আবার চোট লাগে রাজস্থানের আশায়। তার ৪২ বলে খেলা ৮৫ রানের ইনিংস গড়া ৭ ছক্কা ও চারটি চারে।

ওই ওভারের শেষ দুই বলে রবিন উথাপার দুই বাউন্ডারির পর শেষ তিন ওভারে রাজস্থানের প্রয়োজন পড়ে ৫১ রান। দৃশ্যপটে অন্য এক তেওয়াতিয়ার আবির্ভাব তখনই।

এতক্ষণ ব্যাটে-বলেই যিনি ঠিকমতো করতে পারছিলেন না, সেই তেওয়াতিয়া ক্যারিবিয়ান পেসার শেলডন কটরেলের এক ওভারেই ৫ ছক্কা মেরে জমিয়ে দেন ম্যাচ।

পরের ওভারে মোহাম্মদ শামির বলে জফ্রা আর্চারের দুই ছক্কায় সহজ হয়ে যায় সমীকরণ। ওই ওভারেই আরেকটি ছক্কায় তেওয়াতিয়া ফিফটি স্পর্শ করেন ৩০ বলে।

মায়াঙ্কের সেঞ্চুরি যথেষ্ট হয়নি দলের জয়ের জন্য। ছবি: বিসিসিআই।

মায়াঙ্কের সেঞ্চুরি যথেষ্ট হয়নি দলের জয়ের জন্য। ছবি: বিসিসিআই।

৩১ বলে ৫৩ করে তেওয়াতিয়া যখন আউট হলেন, শেষ ওভারে রাজস্থানের প্রয়োজন তখন কেবল ২ রান। লেগ স্পিনার মুরুগান অশ্বিন প্রথম বলে রান দেননি, দ্বিতীয় বলে গুগলিতে নেন উইকেট। তবে ম্যাচে আর নতুন রোমাঞ্চ আসেনি। তৃতীয় বলেই টম কারানের বাউন্ডারিতে জিতে যায় রাজস্থান।

অথচ ম্যাচের প্রথম ভাগ ছিল পুরোপুরিই পাঞ্জাবের। মায়াঙ্ক ও লোকেশ রাহুল উদ্বোধনী জুটিতেই দলকে এনে দেন ১৮৩ রান!

২৬ বলে ফিফটি স্পর্শ করা মায়াঙ্ক তিন অঙ্কে যান ৪৫ বলে। টি-টোয়েন্টিতে নিজের দ্বিতীয় ও আইপিএলে প্রথম সেঞ্চুরিতে ৫০ বলে ১০ চার ও ৭ ছক্কায় করেন ১০৬ রান।

৩৫ বলে ফিফটিতে পৌঁছানো রাহুল ৫৪ বলে করেন ৬৯। শেষের দিকে ৮ বলে ২৫  রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন নিকোলাস পুরান। পাঞ্জাব তখন ২২৩ রানের উচ্চতায়। কিন্তু রাজস্থান পরে বুঝিয়ে দিল, এই যুগে কোনো উচ্চতাই নিরাপদ নয়!

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব: ২০ ওভারে ২২৩/২ (রাহুল ৬৯, মায়াঙ্ক ১০৬, ম্যাক্সওয়েল ১৩*, পুরান ২৫*; উনাদকাট ৩-০-৩০-০, রাজপুত ৪-০-৩৯-১, আর্চার ৪-০-৪৬-০, গোপাল ৪-০-৪৪-০, তেওয়াতিয়া ১-০-১৯-০, কারান ৪-০-৪৪-১)

রাজস্থান রয়্যালস: ১৯.৩ ওভারে ২২৬/৬ (বাটলার ৪, স্মিথ ৫০, স্যামসন ৮৫, তেওয়াতিয়া ৫৩, উথাপা ৯, আর্চার ১৩*, পরাগ ০, কারান ৪*; কটরেল ৩-০-৫২-১, শামি ৪-০-৫৩-৩, বিষ্ণই ৪-০-৩৪-০, নিশাম ৪-০-৪০-১, অশ্বিন ১.৩-০-১৬-১, ম্যাক্সওয়েল ৩-০-২৯-০)

ফল: রাজস্থান রয়্যালস ৪ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: সাঞ্জু স্যামসন


ট্যাগ:  মায়াঙ্ক  ভারত  আইপিএল  স্যামসন  টি-টোয়েন্টি