উমর গুলের অশ্রুসিক্ত বিদায়

  • স্পোর্টস ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-10-17 10:34:40 BdST

পাকিস্তানের ন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি কাপ থেকে বিদায় নিল বেলুচিস্তান, থেমে গেল উমর গুলের পথচলাও। সব ধরনের ক্রিকেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেন ৩৬ বছর বয়সী এই পেসার। বিদায় বেলায় পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী পেসারের চোখে ছিল জল।

গত মাসেই গুল ঘোষণা দিয়েছিলেন, এই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট দিয়েই ইতি টানবেন খেলোয়াড়ী জীবনের। সাউদার্ন পাঞ্জাবের বিপক্ষে শুক্রবার বেলুচিস্তান হেরে গিয়ে বাদ পড়ে যায় টুর্নামেন্ট থেকে। ম্যাচের পর ছোট্ট আনুষ্ঠানিকতায় তাকে বিদায় জানানো হয়। ক্যারিয়ারের শেষ টুর্নামেন্টে ৬ ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়েছেন গুল।

২০০২ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ দিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেটের মূল স্রোতে তার এগিয়ে চলা। পরের বছরই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেক। কয়েক মাস পর পা রাখেন টেস্ট ক্রিকেটেও। অভিষেক সিরিজে বাংলাদেশের বিপক্ষে নেন ১৫ উইকেট।

এরপর ক্রমেই তার এগিয়ে চলা। একসময় হয়ে ওঠেন পাকিস্তানের পেস আক্রমণের মূল ভরসা। বিশেষ করে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তিনি ছিলেন দলের বড় অস্ত্র। ২০০৭ টি-টোয়েন্ট বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ফাইনালে ওঠায় ও ২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ে তার ছিল বড় অবদান। দুটিতেই টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন তিনি।

নতুন বল দুই দিকেই সুইং করাতে পারতেন তিনি। পুরোনো বলে রিভার্স সুইং করানোর দক্ষতাও ছিল। একসময় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করেছেন নিয়মিত। নিখুঁত নিশানায় গতিময় ইয়র্কারের জন্য সীমিত ওভারের ক্রিকেটে, বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি তিনি ছিলেন ভয়ঙ্কর। ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩ ওভারে ৬ রানে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট, সে সময় যা ছিল এই সংস্করণের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড।

২০১৩ সালে আবার ৬ রানে ৫ উইকেট নেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে, এবার ২.২ ওভারেই।

পাকিস্তানের হয়ে সবশেষ খেলেছেন তিনি ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ৪৭ টেস্টের ক্যারিয়ারে তার শিকার ১৬৩ উইকেট, ১৩০ ওয়ানডেতে উইকেট ১৭৯টি ও ৬০ টি-টোয়েন্টি খেলে উইকেট ৮৫টি।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার উইকেট ৪৭৯টি। সব ধরনের স্বীকৃত ক্রিকেটে তার মোট শিকার ৯৮৭ উইকেট।

বিদায়ী ম্যাচে মাইক্রোফেনের সামনে বারবার ধরে এলো গুলের কণ্ঠ, চোখের জল মুছলেন অনেকবার। ধন্যবাদ জানালেন তার দীর্ঘ পথচলার সব সঙ্গীকে।

“দুই দশক ধরে আমার ক্লাব, শহর, প্রদেশ ও দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারা ছিল অনেক বড় সম্মান। ক্রিকেট পুরোপুরি উপভোগ করেছি আমি। এই খেলা আমাকে শিখিয়েছে কঠোর পরিশ্রম, নিবেদন ও প্রতিজ্ঞার মূল্য। এই ভ্রমণে অসংখ্য মানুষকে পাশে পেয়েছি, যারা সহায়তা ও সমর্থন করেছেন। তাদের সবাইকে, আমার সব সতীর্থের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।”


ট্যাগ:  পাকিস্তান