সুপার ওভারে পাকিস্তানকে হারাল জিম্বাবুয়ে   

  • স্পোর্টস ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-11-03 21:15:46 BdST

শেষ বলে বাউন্ডারিতে পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা ম্যাচ সুপার ওভারে নিলেন মোহাম্মদ মুসা। অসাধারণ বোলিংয়ে সেখানে পাকিস্তানের সঙ্গে ব্যবধান গড়ে দিলেন ব্লেসিং মুজারাবানি। দারুণ এক জয়ে ওয়ানডে লিগে প্রথম পয়েন্ট পেল জিম্বাবুয়ে।  

রাওয়ালপিন্ডিতে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে সুপার ওভারে মুজারাবানির সামনে দাঁড়াতেই পারেনি পাকিস্তান। প্রথম বলেই স্লোয়ারে বিভ্রান্ত হয়ে ক্যাচ দেন ইফতিখার আহমেদ। দুই সিঙ্গেলের পর বোল্ড হয়ে যান খুশদিল শাহ।

বিস্ময় জাগিয়ে পাকিস্তান অধিনায়ক ও দলের সেরা ব্যাটসম্যান বাবর আজম সুপার ওভারে ব্যাটিং করেননি।

শাহিন শাহ আফ্রিদির ওভারে ৩ বল বাকি থাকতেই প্রয়োজনীয় ৩ রান তুলে নেন ব্রেন্ডন টেইলর ও সিকান্দার রাজা। 

মূল ম্যাচে মঙ্গলবার জিম্বাবুয়ে ৬ উইকেটে করেছিল ২৭৮। পাকিস্তান ৯ উইকেটে করে ঠিক ২৭৮ রানই।

বল হাতে আগুন ঝরিয়েছেন গতিময় পেসার মোহাম্মদ হাসনাইন। তার দারুণ বোলিংয়ের পরও শন উইলিয়ামসের সেঞ্চুরিতে লড়াইয়ের পুঁজি পায় জিম্বাবুয়ে। শুরুতেই পথ হারানো দলকে দারুণ এক সেঞ্চুরিতে টানেন বাবর। অধিনায়কের চেষ্টা যথেষ্ট ছিল না।

জয়ের জন্য শেষ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১৩ রান, ক্রিজে ছিলেন শেষ দুই ব্যাটসম্যান। রিচার্ড এনগারাভার ওভারে ১২ রান তুলে ফেলেন মুসা ও হাসনাইন। শেষ বলে দরকার ছিল ৫, কাভার দিয়ে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে স্বাগতিকদের হার এড়ান মুসা। অবশ্য টেন্ডাই চিসোরোর বাজে ফিল্ডিংয়েরও যথেষ্ট দায় আছে এই বাউন্ডারির পেছনে।

মূল ম্যাচে ৫ উইকেট নেওয়ার পর সুপার ওভারে নায়ক মুজারাবানি। ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছেন তিনিই।

রান তাড়ায় ২০ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে পাকিস্তান। ইনিংসের তৃতীয় বলে দারুণ এক ডেলিভারিতে ইমাম-উল-হককে বোল্ড করে দেন মুজারাবানি। পরের ওভারে বাঁহাতি পেসার এনগারাভার বলে এলবিডব্লিউ ফখর জামান।

চার নম্বরে নেমে মুখোমুখি হওয়া প্রথম চার বলে এনগারাভাকে দারুণ তিনটি চার মারেন হায়দার আলি। নিজের পরের ওভারেই তরুণ এই ব্যাটসম্যানকে এলবিডব্লিউ করে প্রতিশোধ নেন এনগারাভা।

মোহাম্মদ রিজওয়ানকে নিয়ে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন অধিনায়ক বাবর। তবে জুটি বড় হতে দেননি ডনাল্ড টিরিপানো। সিরিজে প্রথমবার খেলতে নামা ডানহাতি এই পেসার নিজের প্রথম ওভারেই বোল্ড করে ফেরান রিজওয়ানকে।

বেশিদূর যেতে পারেননি ইফতিখারও। আগের ম্যাচে বল হাতে ৫ উইকেট নেওয়া এই ব্যাটিং অলরাউন্ডার ১৮ রান করে ফেরেন টিরিপানোর দ্বিতীয় শিকার হয়ে। তখন ৮৮ রানে ৫ উইকেট নেই পাকিস্তানের।

এরপর জিম্বাবুয়ের বোলারদের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে যান বাবর। প্রথমে অধিনায়ককে দারুণ সঙ্গ দেন অভিষিক্ত খুশদিল। আক্রমণে ফিরে খুশদিলকে থামিয়ে ৬৩ রানের জুটি ভাঙেন মুজারবানি।

এরপর আট নম্বরে নেমে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে অধিনায়কের সঙ্গে দলকে এগিয়ে নেন ওয়াহাব রিয়াজ। বাবর তুলে নেন সেঞ্চুরি, ওয়াহাব ফিফটি। পাকিস্তানের জন্য তখন জয় মনে হচ্ছিল হাতের নাগালে। তবে ৪৭তম ওভারে ওয়াহাবকে ফিরিয়ে ১০০ রানের জুটি ভেঙে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন মুজারাবানি।

শেষ দুই ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ২০ রান। ৪৯তম ওভারে মুজারাবানির দ্বিতীয় বল ছক্কায় ওড়ান বাবর। তবে শেষ দুই বলে আফ্রিদি ও বাবরকে ফিরিয়ে দেন মুজারাবানি। একই সঙ্গে পূর্ণ করেন তিনি পাঁচ উইকেট। বাবর ১২৫ বলে ১৩ চার ও একটি ছক্কায় করেন ১২৫ রান।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংয়ের শুরুটাও ছিল ভীষণ বাজে। ২২ রানের মধ্যেই হারায় টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে। তিন জনই হাসানাইনের শিকার।

শুরুর সেই ধাক্কা জিম্বাবুয়ে সামাল দেয় যথারীতি টেইলর ও উইলিয়ামসের ব্যাটে। প্রথম ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান টেইলর ফিফটি করে ফিরলে ভাঙে ৮৪ রানের জুটি। তার ৬৮ বলে ৫৬ রানের ইনিংস সাজানো ৮ চারে।

টেইলর থামলেও এগিয়ে যান উইলিয়ামস। পঞ্চম উইকেটে ওয়েসলি মাধেভেরের সঙ্গে ৭৫ রানের আরেকটি ভালো জুটি গড়ার পথে বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান ফিফটি পূরণ করেন ৮১ বলে। মাধেভেরেকে ফিরতি ক্যাচে ফিরিয়ে ষষ্ঠ ম্যাচে প্রথম পাঁচ উইকেট নেন হাসনাইন।

জিম্বাবুয়ের রানের জোয়ার অবশ্য থামেনি। সাত নম্বরে নেমে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন রাজা। ৪৮তম ওভারে উইলিয়ামস পেয়ে যান তিন অঙ্কের দেখা। ওয়াহাবের বলে দুই রান নিয়ে ১২৬ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি।

শেষ ওভারে আউট হওয়া রাজা ৩৬ বলে ৪ চার ও একটি ছক্কায় করেন ৪৫। ভাঙে ৯৭ রানের জুটি। উইলিয়ামসের ১৩৫ বলের ইনিংসে ছিল ১৩টি চার ও একটি ছক্কা। শেষ ১০ ওভারে জিম্বাবুয়ে তোলে ৮৯ রান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

জিম্বাবুয়ে: ৫০ ওভারে ২৭৮/৬ (চারি ৯, চিবাবা ০, আরভিন ১, টেইলর ৫৬, উইলিয়ামস ১১৮*, মাধেভেরে ৩৩, রাজা ৪৫, টিরিপানো ১*; আফ্রিদি ১০-১-৪২-০, হাসনাইন ১০-৩-২৬-৫, মুসা ১০-০-৮০-০, ওয়াহাব ১০-০-৬৫-১, ইফতিখার ১০-০-৬০-০)

পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ২৭৮/৯  (ইমাম ৪, ফখর ২, বাবর ১২৫, হায়দার ১৩, রিজওয়ান ১০, ইফতিখার ১৮, খুশদিল ৩৩, ওয়াহাব ৫২, আফ্রিদি ২, হাসনাইন ৩*, মুসা ৯*; মুজারাবানি ১০-১-৪৯-৫, এনগারাভা ৯-০-৬২-২, চিসোরো ৭-০-৪৮-০, টিরিপানো ৭-০-৩৯-২, রাজা ১০-০-৪২-০, উইলিয়ামস ৭-০-৩৭-০)

ফল: জিম্বাবুয়ে সুপার ওভারে জয়ী     

সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজ পাকিস্তান ২-০ তে জয়ী 

ম্যান অব দা ম্যাচ: ব্লেসিং মুজারাবানি

ম্যান অব দা সিরিজ: বাবর আজম।


ট্যাগ:  বাবর  জিম্বাবুয়ে  হাসনাইন  মুজারাবানি   উইলিয়ামস  পাকিস্তান