পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

তাইজুল ও স্পিন চতুষ্টয়ের রোমাঞ্চ

  • ক্রীড়া প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-01-28 19:39:55 BdST

এক নেটে টানা বোলিং করে গেলেন তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসান। বৃহস্পতিবার অনুশীলনে ব্যাটসম্যানদের চ্যালেঞ্জ জানালেন তারা, দারুণ বোলিং করলেন, ফাঁকে ফাঁকে হাসি-মজায় মাতলেন, পোজ দিলেন ছবির জন্য। অপূর্ণতা কেবল সেখানে সাকিব আল হাসানের না থাকা। ওয়ানডেতে কুঁচকিতে চোট পাওয়া সাকিব স্ক্যান করানোর পর বিশ্রামে ছিলেন হোটেলেই। তবে এ দিন মাঠে না থাকলেও তাইজুলদের রোমাঞ্চ সাকিবকে ঘিরেই। তিনি ফেরায় যে আবার পূর্ণ হচ্ছে বাংলাদেশের স্পিন চতুষ্টয়!

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সবশেষ সিরিজে বাংলাদেশের হোয়াইটওয়াশ সাফল্যের নায়ক ছিলেন এই চারজনই। চার স্পিনার মিলেই নিয়েছিলেন দুই টেস্টে ক্যারিবিয়ানদের ৪০ উইকেটের সবকটি। মিরাজের শিকার ছিল ১৫ উইকেট, তাইজুলের ১০টি, সাকিবের ৯টি ও নাঈমের ৬টি।

এই চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে সবশেষ টেস্টেও বাংলাদেশের আক্রমণে ছিলেন এই চারজন। আফগানিস্তানের ২০ উইকেটের ১৮টি নিয়েছিলেন এই চারজন মিলে। পরে সাকিবের নিষেধাজ্ঞায় থমকে যায় চার স্পিনারের ভাবনাও।

সাকিব স্পেশালিস্ট স্পিনারের পাশাপাশি মূল ব্যাটসম্যানদেরও একজন, একাদশে বাড়তি স্পিনার নিলেও তাই ব্যালান্সে সমস্যা হয় না। কিন্তু তিনি না থাকলে বাড়তি বোলার বা বাড়তি ব্যাটসম্যান খেলানো নিয়ে গবেষণা করতে হয় অনেক।

এবার বাংলাদেশ চার স্পিনার খেলাবে কিনা, নিশ্চিত নয় এখনও। তবে সাকিব থাকায় সুযোগটি আছে। সাকিবের মতো অভিজ্ঞ ও সমৃদ্ধ একজনকে নিজেদের পাশে পাওয়া মানে বাকি স্পিনারদের কাজটিও সহজ হয়ে যাওয়া। বিসিবির ভিডিও বার্তায় সেই রোমাঞ্চ ফুটে উঠল তাইজুলের কণ্ঠে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের সবশেষ সিরিজে সবকটি উইকেট নিয়েছিলেন সাকিব-মিরাহ-তাইজুল-নাঈম

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের সবশেষ সিরিজে সবকটি উইকেট নিয়েছিলেন সাকিব-মিরাহ-তাইজুল-নাঈম

“সাকিব ভাই যখন আমাদের সঙ্গে থাকেন, বিশেষ করে স্পিনারদের অনেক সাহায্য করেন। ব্যাটসম্যান কোন মুভমেন্টে থাকে, সাকিব ভাই আগে থেকে বুঝে ফেলেন। সেটা আমাদের সঙ্গে শেয়ার করেন। আমি বলব যে আমি, মিরাজ, নাইম ও সাকিব ভাইয়ের একটা ভালো জুটি হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা ভালো করার চেষ্টা করব।”

তাইজুল নিজেও এখন যথেষ্ট অভিজ্ঞ। তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বয়স সাড়ে ৬ বছর। সাকিবের পর দেশের সফলতম টেস্ট বোলারও তিনি। নিজের দায়িত্বের জায়গাও অনুভব করছেন ২৮ বছর বয়সী স্পিনার।

“আমি ব্যক্তিগতভাবে বলব যে আমারও ৬-৭ বছর হয়ে গেছে জাতীয় দলে খেলার। সাকিব ভাইয়ের কাছে হয়তো অনেক কিছু নিতে পেরেছি, সেগুলো চেষ্টা করব করার। সাকিব ভাই কোনো কিছু বলার আগেই আমি সেগুলো করার চেষ্টা করব।”

“৬-৭ বছর খেলে আমার যে অভিজ্ঞতাটা হয়েছে, আমার যেটা মনে হয়, মাঠে বা মাঠের বাইরে টেস্ট চলাকালীন, আমি মনে করি যারা জুনিয়র আছে, তাদেরকে যেন সহায়তা করতে পারি বা অভিজ্ঞতা যতটুকুই আছে, তা যেন শেয়ার করতে পারি। আমার মনে হয় আমি যদি শেয়ার করি, তাদের উন্নতি তাড়াতাড়ি হবে।”

কোভিড বিরতির পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরলেও তাইজুলের ফেরা এখনও হয়নি। ওয়ানডে স্কোয়াডে থাকলেও খেলার সুযোগ তিনি পাননি। এই টেস্ট সিরিজ দিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক আঙিনায় ফিরবেন প্রায় ১১ মাস পর।

দীর্ঘ বিরতির পর চ্যালেঞ্জটি বেশ কঠিন দেখছেন তাইজুল। তবে অনুশীলন ভালো হওয়ায় চ্যালেঞ্জ জয়ের বিশ্বাসও তার প্রবল।

“অনেকদিন পর খেলা, সবকিছু হয়তো এতটা সহজ হবে না। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি বেশ কিছুদিন ধরে অনুশীলনের মধ্যে আছি এবং ওয়ানডে দলেও ছিলাম। ওখানে থাকার কারণে আমার অনুশীলনটা বেশি হয়েছে। আমাদের কোয়ালিটি প্র্যাকটিস সেশন হচ্ছে, আশা করি বিরতির পর মাঠে নামতে বড় ধরনের কোনো অসুবিধা হবে না।”

চট্টগ্রামে টেস্ট সিরিজ শুরু আগামী বুধবার থেকে। তার আগে শুক্রবার থেকে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বিসিবি একাদশ।