পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

মুস্তাফিজের উজ্জ্বল দিনে রাজস্থানের বড় জয়

  • স্পোর্টস ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-05-02 20:20:15 BdST

bdnews24

আগের ম্যাচের হতাশা পেছনে ফেলে দুর্দান্ত বল করলেন মুস্তাফিজুর রহমান। তার পুরনো দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে দারুণ লাইন-লেংথ আর কাটারের বুদ্ধিদীপ্ত মিশেলে নিলেন তিন উইকেট। রাজস্থান রয়্যালস পেল বড় জয়।

আইপিএলে রোববার দিনের প্রথম ম্যাচে দিল্লিতে ২০ রানে ৩ উইকেট নেন মুস্তাফিজ। চলতি মৌসুমে সাত ম্যাচে এটিই তার সেরা বোলিং। ৪ ওভার বোলিং করে হজম করেন কেবল দুটি বাউন্ডারি। তার আলোকিত দিনে ৫৫ রানে জেতে রাজস্থান।

জস বাটলারের ক্যারিয়ার সেরা বিধ্বংসী সেঞ্চুরি রাজস্থানকে গড়ে দেয় জয়ের ভিত। ৬৪ বলে ১২৪ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন ইংলিশ ব্যাটসম্যান, ২৮২ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে যা তা প্রথম শতক।

২০ ওভারে রাজস্থান তোলে ২২০ রান। মুস্তাফিজ ও ক্রিস মরিসের দারুণ বোলিংয়ে হায়দরাবাদ থমকে যায় ১৬৫ রানে।

আগের ম্যাচে ৩.৩ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে মুস্তাফিজের প্রাপ্তি ছিল ১ উইকেট। এই ম্যাচে দেখা যায় তার ভিন্ন রূপ।  হায়দরাবাদ ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে হাতে পান বল। প্রথম বলেই তাকে চার মেরে স্বাগত জানান জনি বেয়ারস্টো। পরে নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে ৬ রান দিয়ে ওভার শেষ করেন বাঁহাতি পেসার। পাওয়ার প্লেতে তার ওভার ছিল ওই একটিই।

বেয়ারস্টো ও মনিশ পান্ডের উদ্বোধনী জুটি যখন রাজস্থানকে দুর্ভাবনায় ফেলে দেয়, তখন ত্রাতা হয়ে আসেন মুস্তাফিজ। ৬ ওভারে ওই জুটি তোলে ৫৭ রান। সপ্তম ওভারে মুস্তাফিজ বোলিংয়ে এসে প্রথম বলেই দলকে এনে দেন ব্রেক থ্রু। স্লোয়ারে ফ্লিক করতে গিয়ে বোল্ড হন মনিশ (২০ বলে ৩১)।

এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে হায়দরাবাদ। বেয়ারস্টো, বিজয় শঙ্করের পর দ্রুত ফিরে যান দলটির নতুন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। এ ম্যাচে একাদশে সুযোগ পাননি নেতৃত্ব হারানো ডেভিড ওয়ার্নার।

পঞ্চদশ ওভারে আবার বল হাতে পান মুস্তাফিজ। এবার ওভারের দ্বিতীয় বলে তার শিকার মোহাম্মদ নবি। স্লোয়ার কাটারে আফগান অলরাউন্ডার বল তুলে দেন আকাশে, বৃত্তের ভেতরই কাভারে সহজ ক্যাচ নেন অনুজ রাওয়াত। ওই ওভার থেকে আসে ৩ রান।

লেগ সাইডে ওয়াইড দিয়ে নিজের শেষ ওভার শুরু করেন মুস্তাফিজ। এক বল পরই পান তৃতীয় উইকেটের দেখা। যথারীতি এটিও স্লোয়ারে। ছক্কা মারার চেষ্টায় টাইমিংয়ে গড়বড় করেন রশিদ খান। লং অফে ক্যাচ নেন মরিস।

ওভারের শেষ বলে সন্দিপ শর্মার ব্যাটের কানায় লেগে থার্ড ম্যান দিয়ে চার হজম করায় একটু বিবর্ণ হয় তার বোলিং ফিগার। তার পরও তা দারুণ ঝকমকে!

তিন উইকেট নেন ক্রিস মরিসও।

এই নিয়ে ৭ ম্যাচে এবার মুস্তাফিজের শিকার হলো ৮ উইকেট। ওভারপ্রতি রান ৮.২৯।

হায়দরাবাদের হয়ে ২০১৬ আইপিএলের ১৭ উইকেটের পর এটিই তার সেরা আইপিএল সাফল্য। ২০১৮ আসরে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে নিয়েছিলেন ৭ ম্যাচে ৭ উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

রাজস্থান রয়্যালস: ২০ ওভারে ২২০/৩ (বাটলার ১২৪, জয়সওয়াল ১২, স্যামসন ৪৮, পরাগ ১৫*, মিলার ৭*; ভুবনেশ্বর ৪-০-৩৭-০, সন্দিপ ৪-০-৫০-১, রশিদ ৪-০-২৪-১, খলিল ৪-০-৪১-০, বিজয় ৩-০-৪২-১, নবি ১-০-২১-০)।

সানরাইজার্স হায়দরাবাদ: ২০ ওভারে ১৬৫/৮ (মনিশ ৩১, বেয়ারস্টো ৩০, উইলিয়ামসন ২০, বিজয় ৮, কেদার ১৯, নবি ১৭, সামাদ ১০, রশিদ ০, ভুবনেশ্বর ১৪*, সন্দিপ ৮*; কার্তিক ৪-০-৩২-১, মুস্তাফিজ ৪-০-২০-৩, সাকারিয়া ৪-০-৩৮-০, মরিস ৪-০-২৯-৩, তেওয়াতিয়া ৪-০-৪৫-১)।

ফল: রাজস্থান রয়্যালস ৫৫ রানে জয়ী।

ম্যান অব দান ম্যাচ: জস বাটলার।