পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

হেনরি-বোল্টের ছোবল সামলে বার্নস-লরেন্সের লড়াই

  • স্পোর্টস ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-06-11 00:48:03 BdST

দিনের শুরুটা হলো আশা জাগানিয়া। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তা রূপ নিল হতাশায়। নিউ জিল্যান্ডের দারুণ বোলিংয়ে এলোমেলো হয়ে গেল ইংল্যান্ডের ব্যাটিং। লড়াই করলেন কেবল ররি বার্নস ও ড্যান লরেন্স।

এই দুই ব্যাটসম্যানের লড়াকু ফিফটিতে এজবাস্টন টেস্টের প্রথম দিন পার করতে পেরেছে ইংল্যান্ড। ৭ উইকেটে ২৫৮ রান নিয়ে দিন শেষ করেছে তারা।

টানা দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে বার্নস ফেরেন ৮১ রান করে। তার বিদায়ের পর দলকে টেনে নেওয়া লরেন্স খেলছেন ৬৭ রানে। অষ্টম উইকেট জুটিতে তাকে দারুণ সঙ্গ দিচ্ছেন মার্ক উড।

দলে ফিরেই দারুণ বোলিংয়ে আলো ছড়ান ট্রেন্ট বোল্ট, ম্যাট হেনরি ও এজাজ প্যাটেল। তিন জনই নিয়েছেন দুটি করে উইকেট।

এই ম্যাচের একাদশে জায়গা করে নিয়েই জেমস অ্যান্ডারসন গড়েছেন দারুণ এক কীর্তি। ইংল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলার রেকর্ডে ছাড়িয়ে গেছেন অ্যালেস্টার কুককে (১৬১)।

… দারুণ বোলিং করেছেন ট্রেন্ট বোল্ট।

… দারুণ বোলিং করেছেন ট্রেন্ট বোল্ট।

ছয় পরিবর্তন নিয়ে ম্যাচটি খেলতে নেমেছে নিউ জিল্যান্ড। কনুইয়ের চোটে কেন উইলিয়ামসন না থাকায় দলটিকে তৃতীয়বারের মতো নেতৃত্ব দিচ্ছেন টম ল্যাথাম। অলিভার রবিনসন নিষিদ্ধ হওয়ায় ইংল্যান্ড দলে নিয়েছে পেসার অলি স্টোনকে।

টস জিতে বৃহস্পতিবার ব্যাটিংয়ে নামা ইংল্যান্ডকে দারুণ শুরু এনে দেন বার্নস ও ডম সিবলি। তাদের ব্যাটে ২০১১ সালের পর ঘরের মাঠে কোনো টেস্টে উদ্বোধনী জুটিতে প্রথম সেশন পার করে ইংলিশরা।

উইকেটে বোলারদের জন্য ছিল সহায়তা। সুইং পেয়েছেন বোল্ট, হেনরি, নিল ওয়্যাগনাররা। শুরু থেকেই তাদের লাইন-লেংথ ছিল নিখুঁত। সাবধানী ব্যাটিংয়ে তাদের প্রথম সেশনে ঠেকিয়ে রাখেন বার্নস-সিবলি।

৬৭ রান নিয়ে লাঞ্চে যাওয়া ইংল্যান্ড বিরতির পর প্রথম ওভারে হারায় উইকেট। হেনরির বাড়তি লাফানো ডেলিভারি খেলবেন না ছেড়ে দিবেন, এমন দ্বিধায় কিপারকে ক্যাচ দেন সিবলি (৩৫)। ভাঙে ৭২ রানের উদ্বোধনী জুটি।

পরের ওভারেই ওয়্যাগনার ফিরিয়ে দেন জ্যাক ক্রলিকে। আলগা শটে তৃতীয় স্লিপে ধরা পড়েন তিনি শূন্য রানে। বিপদে পড়া দলের হাল ধরতে পারেননি জো রুটও। এবারও হেনরির ছোবল। এই পেসারের দারুণ এক বলে ইংল্যান্ড অধিনায়ক ধরা পড়েন উইকেটের পেছনে।

১৩ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারানো ইংল্যান্ডকে পথ দেখান বার্নস। এক প্রান্ত আগলে রেখে আস্থার সঙ্গে খেলতে থাকেন তিনি। ১৪১ বলে ইংলিশ ওপেনার স্পর্শ করেন ফিফটি।

৬৭ রানে অপরাজিত ড্যান লরেন্স।

৬৭ রানে অপরাজিত ড্যান লরেন্স।

অলি পোপের সঙ্গে জমে উঠছিল তার জুটি। কিন্তু থিতু হয়েও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি পোপ। বাঁহাতি স্পিনার এজাজের বল স্টাম্প ছেড়ে খেলতে গিয়ে হন কট বিহাইন্ড, ভাঙে ৪২ রানের জুটি।

সেঞ্চুরির দিকে এগোচ্ছিলেন বার্নস। দিন জুড়ে অফ স্টাম্পের বাইরের বলে তিনি ছিলেন সাবলীল। কিন্তু বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান উইকেট দিলেন তেমনই বলে। বোল্টের সুইং করে বেরিয়ে যাওয়া বল ড্রাইভ করে ধরা পড়েন দ্বিতীয় স্লিপে। শেষ হয় তার ১৮৭ বলে ১০ চারে ৮১ রানের ইনিংস।

এরপর থেকে লড়াই করছেন লরেন্স। তার দৃঢ়তায় তিনশ রানের আশা বেঁচে আছে ইংল্যান্ডের।

অভিষেক টেস্টে রানের খাতা খুলতে না পারা জেমস ব্রেসি এবার পেলেন গোল্ডেন ডাকের তেতো স্বাদ। থিতু হয়ে ফিরে যান স্টোন। তবে লরেন্সের সঙ্গে ৪৭ রানের মূল্যবান জুটি গড়েন তিনি।

উডকে নিয়ে শেষের ১৫ ওভার কাটিয়ে দেন লরেন্স। এই জুটির পথেই ৭৫ বলে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি তুলে নেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। ১০০ বলের ইনিংসে তার চার ১১টি।

উড খেলছেন ৫৮ বলে ১৬ রান নিয়ে। তাদের দুইজনের অবিচ্ছিন্ন জুটি ৩৬ রানের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ইংল্যান্ড: ৯০ ওভারে ২৫৮/৭ (বার্নস ৮১, সিবলি ৩৫, ক্রলি ০, রুট ৪, পোপ ১৯, লরেন্স ৬৭*, ব্রেসি ০, স্টোন ২০, উড ১৬*; বোল্ট ২৩-৪-৬০-২, হেনরি ২২-৫-৬৬-২, ওয়্যাগনার ২০-৬-৬২-১, মিচেল ১১-২-২৩-০, এজাজ ১৪-৪-৩৪-২)।