পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

বিসিবির এ কেমন আচরণ!

  • ক্রীড়া প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-06-12 23:31:02 BdST

bdnews24

সাকিব আল হাসানের শাস্তি পাওয়ার দিনে বিসিবির আচরণে খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়লেন ক্রীড়া সাংবাদিকরা।

এক জায়গায় সংবাদ সম্মেলন ডেকে বাতিল হল সেটা, খানিক পরে হয়ে গেল অন্য জায়গায়! কিন্তু সংবাদকর্মীদের সেটা জানাল না দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচে লাথি দিয়ে স্টাম্প ভেঙে, আছাড় মেরে হৈ চৈ ফেলে দেন সাকিব।

সেদিনই ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টির আয়োজন সিসিডিএম প্রধান কাজী ইনাম আহমেদ জানান, রাতের মধ্যেই আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারির রিপোর্ট পেয়ে যাবেন। এরপর নিয়ম অনুযায়ী নেবেন সিদ্ধান্ত।

শনিবার সকাল থেকেই অধীর আগ্রহ নিয়ে সংবাদকর্মীরা তাদের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। দুপুর থেকে নানারকমের খবরও আসতে শুরু করে। সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় বিসিবির অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বোর্ডের গণমাধ্যম ও যোগাযোগ কমিটি থেকে জানানো হয়, ধানমণ্ডিতে মীনা বাজারে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন সিসিডিএম চেয়ারম্যান কাজী ইনাম।

মীনাবাজার যে ভবনে, সেখানে কাজী ইনাম আহমেদের পারিবারিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান জেমকন গ্রুপের কার্যালয়।

সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটে সেই একই গ্রুপে জানানো হয়, বাতিল করা হয়েছে মীনা বাজারে সিসিডিএম চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন। 

এর ১৫ মিনিট পরে বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসানের গুলশানের বাসার নিচে সংবাদ সম্মেলনে সাকিবের শাস্তি ও তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানান কাজী ইনাম। সে সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিসিবির গণমাধ্যম ও যোগাযোগ কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস।

ক্রীড়া সাংবাদিকদের বড় একটি অংশ জানতেই পারেননি এই সংবাদ সম্মেলনের কথা। সময়মতো জানেননি সাকিবের শাস্তির কথা। এই সংক্রান্ত যে প্রশ্ন ছিল সেগুলো করার সুযোগ মেলেনি তাদের।

এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন দুই জ্যেষ্ঠ ক্রীড়া সাংবাদিক এটিএম সাঈদুজ্জামান ও তারেক মাহমুদ।

বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসজেএ) সভাপতি সাঈদুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, “আমার কাছে এই ঘটনা পরিষ্কার পেশাদারিত্বের অভাব। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে বিসিবি অনেক বিষয় এড়িয়ে চলে। দায়সারা গোছের একটা প্রেস রিলিজ দেয়। যাতে আরও ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। বিসিবি যত বেশি পেশাদারিত্বের পরিচয় দিবে, সংবাদ মাধ্যমের কাছে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করবে, তাদের জন্যও ভালো, সবার জন্যই ভাল।”   

প্রথম আলোর ক্রীড়া সম্পাদক তারেক বলেন, “এটা বিসিবির চূড়ান্ত অপেশাদার আচরণ। একটা জায়গায় সংবাদ সম্মলেনের কথা বলা হয়, পরে সেটা আবার বাতিল হয়। সেটা যে আরেক জায়গায় হচ্ছে সেটা অফিসিয়ালি সাংবাদিকদের বলা হয়নি।”

“সংবাদ সম্মেলনের কথা শুনে অনেকে সেই জায়গা চলে যান। সেখান থেকে ফেরার পর কিংবা ফেরার পথে জানতে পারেন আরেক জায়গায় সংবাদ সম্মেলন হচ্ছে। এই ধরনের মিসকমিউনিকেশন কাম্য নয়। পেশাদার দায়িত্ব পালনে এটা কোনো সহযোগিতা করে না।”

বিসিবি কার্যালয়ে না করে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলন বিসিবি প্রধানের বাসার নিচে করা নতুন নয়। নাজমুল হাসান বোর্ড প্রধান হওয়ার পর নিয়মিতই হয় আসছে এমনটা।