বহাল থাকছে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে শতকরা পয়েন্টের হিসাব

  • স্পোর্টস ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-06-15 22:00:47 BdST

bdnews24
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অভিষেক আসরে ৭ ম্যাচ খেলে ৬টিতেই হারে বাংলাদেশ 

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অভিষেক আসরের অনেক ম্যাচ কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে ভেস্তে যাওয়ায় একরকম বাধ্য হয়েই নিয়মে পরিবর্তনে এনেছিল আইসিসি। মোট পয়েন্টের হিসাব থেকে সরে এসে পয়েন্ট টেবিলে দলগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল শতকরা পয়েন্ট বিবেচনায়। পরিবর্তিত এই নিয়ম সমালোচনার জন্ম দিলেও টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পরবর্তী আসরেও এটিই বহাল রাখা হবে বলে জানিয়েছে আইসিসির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী জিওফ অ্যালারডাইস।

কোনো সিরিজের দৈর্ঘ্য যেন একটি টেস্ট জয়ের সম্ভাব্য পয়েন্টে প্রভাব না ফেলে, এটা নিশ্চিত করতেই নিয়মটি বহাল রাখা হবে বলে জানান অ্যালারডাইস।

“আমার মনে হয়, দলগুলোর অবস্থান নির্ধারণে শতকরা পয়েন্টের নিয়মটি আমরা বহাল রাখব।”

“চলমান প্রক্রিয়ায় দলগুলোর মাঝে ব্যবধান করা হচ্ছে সম্ভাব্য ম্যাচের অনুপাতে তারা কত পয়েন্ট অর্জন করেছে এবং জয়লাভ করেছে তার ওপর। এই শতকরা অনুপাতই চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় ভাগে আমাদের কাজে লেগেছে। এটা পরিবর্তনের অংশ।”

প্রথম চক্রের শেষ দিকে এসে নিয়ম বদলানোয় আপত্তি ছিল ভারতের। কেননা পরিবর্তিত নিয়মে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দল ছিল তারাই। কোভিড-১৯ মহামারীর আগে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থাকা দলটি শতকরা পয়েন্ট জয়ের নিয়মে ছিটকে যায় প্রথম স্থান থেকে। তখন চারটি সিরিজ খেলে তিনটিতেই জয়ী ছিল ভারত। অ্যালারডাইস ব্যাখা করেছেন সেটিও।

“আরেকটি বিষয় হচ্ছে আমরা যদি শতকরা হিসেবে পয়েন্ট হিসাব করি, তাহলে প্রমিতভাবে আমরা প্রতি টেস্ট হিসেবে পয়েন্ট পাব। সেটা দুই ম্যাচের সিরিজ নাকি পাঁচ ম্যাচের সিরিজ, তা বিবেচ্য নয়। প্রতি ম্যাচের জন্য সমান পয়েন্ট থাকবে। তাই দলগুলোকে বিচার করা হবে তাদের শতকরা পয়েন্টের হিসাবে, মোট পয়েন্টের হিসাবে নয়।”

চক্রের মাঝপথে নিয়মে পরিবর্তন আনায় সমালোচনা মেনে নিলেও অ্যালারডাইস পরিষ্কার করেছেন নিজেদের অবস্থান। তার দাবি, অধিকাংশ দল নির্দিষ্ট কোটার টেস্ট খেলতে না পারায় পয়েন্টের সমীকরণে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছেন তারা।

“এই প্রতিযোগিতা শুরুর সময় আমাদের মূল ভাবনা ছিল টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভুক্ত একেকটি সিরিজের প্রতিটি ম্যাচকে বিবেচনায় আনা। পয়েন্ট সিস্টেমেও আমরা চেষ্টা করেছিলাম, দুই ম্যাচের সিরিজ এবং পাঁচ ম্যাচের সিরিজকে সমানভাবে মুল্যায়ন করার। এর মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলাম, সবাই যেন দেশে ও দেশের বাইরে সমানসংখ্যক পয়েন্টের জন্য খেলে।”

“করোনাভাইরাস মহামারীর জন্য কিছু সিরিজ পরিত্যক্ত হওয়ায় এটা ক্রমশ প্রতীয়মান হচ্ছিল যে সব দল তাদের নির্দিষ্ট ছয়টি সিরিজ সম্পন্ন করতে পারবে না...দলগুলোর টেস্ট খেলার সংখ্যায় পার্থক্য ছিল। তাই পয়েন্ট সিস্টেমকে আমরা যথাসম্ভব নিরপেক্ষ করার চেষ্টা করেছি। তারা যে ম্যাচগুলো খেলতে পারেনি তার চেয়ে যেন যতগুলো ম্যাচ খেলেছে সেটার গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব থাকে।”

সাউথ্যাম্পটনে আগামী শুক্রবার অভিষেক আসরের ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ভারত ও নিউ জিল্যান্ড। শিরোপা লড়াইয়ের প্রক্রিয়া নিয়েও আছে নানা মত। 

ভারতের প্রধান কোচ রবি শাস্ত্রির মতে, এক ম্যাচের না হয়ে তিন ম্যাচের ফাইনাল বেশি উপভোগ্য হতো। অধিনায়ক বিরাট কোহলিও তাতে একমত। তিন ম্যাচের ফাইনালের প্রস্তাব ভালো লেগেছে অ্যালারডাইসেরও। তবে তিনি মনে করিয়ে দিলেন বাস্তবতা। আন্তর্জাতিক ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ঠাসা সূচি থেকে তিন ম্যাচের ফাইনালের জন্য সময় বের করাটা অসম্ভব বলেই মনে করেন ৫৪ বছর বয়সী এই অস্ট্রেলিয়ান।

“একটি আদর্শ বিশ্বে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের মাধ্যমে ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফলাফল নির্ধারণ হতো অসাধারণ। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচির মধ্যে এর জন্য এক মাস সময় বের করার মতো পরিস্থিতি নেই।...এই কারণেই এক ম্যাচের ফাইনালের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটা রোমাঞ্চকর, কারণ এটা নতুন কিছু নিয়ে এসেছে। এখানে দুই বছরের চক্র শেষে আমরা একটি টেস্টের মাধ্যমে বিশ্বসেরা দল পাব।”