পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

শ্রীলঙ্কাকে গুঁড়িয়ে এগিয়ে গেল ভারত

  • স্পোর্টস ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-07-18 22:48:38 BdST

bdnews24

লক্ষ্যটা আড়াইশর একটু বেশি। পৃথ্বী শ ও ইশান কিষানের মারমুখী ব্যাটিংয়ে সেটা হয়ে উঠল মামুলি। সঙ্গে অধিনায়ক শিখর ধাওয়ানের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে দিল ভারত।

কলম্বোয় রোববার প্রথম ওয়ানডেতে লঙ্কানদের ৭ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেছে সফরকারীরা। এই সংস্করণে শ্রীলঙ্কার মাটিতে টানা ৯ ম্যাচ জিতল ভারত।

দারুণ জয়ের দিনে আলাদা প্রাপ্তি আছে ধাওয়ান ও রাহুল দ্রাবিড়ের।

বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, জাসপ্রিত বুমরাহদেরসহ মূল দল নিয়ে টেস্ট খেলতে বর্তমানে ইংল্যান্ডে আছেন কোচ রবি শাস্ত্রী। একই সময়ে শ্রীলঙ্কা সফর হওয়ায় দ্বিতীয় সেরা দল নিয়ে শ্রীলঙ্কায় এসে দ্রাবিড় করলেন শুভসূচনা, প্রধান কোচ হিসেবে পেলেন প্রথম ম্যাচেই জয়। আর ধাওয়ান দেশের নেতৃত্বে প্রথম ম্যাচে পেলেন কাঙ্ক্ষিত স্বাদ।

ইংল্যান্ড সফরের পর দেশের মাটিতেও ব্যর্থ লঙ্কান ব্যাটিং। প্রথম ৬ ব্যাটসম্যানের তিনজন পার করেছেন ৩০, বাকিরা পেয়েছিলেন ভালো শুরু। কিন্তু পুরো দলের একজনও করতে পারেননি ৫০। তাতে ২৬২ রানের পুঁজি দাঁড় করাতে পারে স্বাগতিকরা।

পৃথ্বীর ৪৩ ও কিষানের ৫৯ রানের বিস্ফোরক ইনিংসের পর ধাওয়ান করেন অপরাজিত ৮৬। তাতে ২৬৩ রানের লক্ষ্য ভারত ছুঁয়ে ফেলে ৮০ বল বাকি থাকতে।

আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা স্বাগতিকদের শুরুটা খারাপ ছিল না। দারুণ কিছু শটে ভালো কিছুর আভাস দিয়ে যুজবেন্দ্র চেহেলের বলে এক্সট্রা কাভারে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন আভিশকা ফার্নান্দো, এক ছক্কা ও ২ চারে করেন ৩৩ রান। ভাঙে মিনোদ ভানুকার সঙ্গের তার ৪৯ রানের উদ্বোধনী জুটি।

ওয়ানডে অভিষেকে ছক্কায় রানের খাতা খোলেন ভানুকা রাজাপাকসে। পরে চেহেলের ওভারেই আরেকটি ছক্কা হাঁকান তিনি। দ্রুত রান তোলার চেষ্টাই কাল হয়, দুটি করে ছক্কা-চারে ২২ বলে ২৪ করে ফেরেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। কুলদিপ যাদবের ওই ওভারেই আউট আরেক ওপেনার মিনোদ(৪৪ বলে ২৭)।

খানিক পর ধনাঞ্জয়া ডি সিলভাও ফিরে গেলে শ্রীলঙ্কার স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ১১৪ রান। এরপর চারিথা আসালঙ্কা ও দাসুন শানাকাও জুটি গড়ার চেষ্টা করে পারেননি।

শেষ দিকে সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মাঝে ঝড়ো ব্যাটিং করেন চামিকা করুনারত্নে। ভুবনেশ্বর কুমারের করা শেষ ওভারে মারেন এক চার ও দুই ছক্কা। ৩৫ বলে এক চার ও দুই ছক্কায় ৪৩ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি।

সঙ্গে চামিরার ক্যামিওতে শেষ ১৮ বলে ৩৯ রান তোলে তারা।

রান তাড়ায় পৃথ্বীর টি-টোয়েন্টি ঘরানার ব্যাটিংয়ে ভারত পায় উড়ন্ত সূচনা। মুখোমুখি হওয়া দ্বিতীয় বলে বাউন্ডারি দিয়ে শুরু এই ওপেনারের ঝড়। এরপর প্রতি ওভারেই বাউন্ডারি পেয়েছে ভারত।

প্রথম ৫ ওভারেই ৫৭ রান তুলে ফেলে তারা। ধাওয়ান কেবল দিয়ে গেছেন সঙ্গ। রান তোলায় অগ্রণী ছিলেন পৃথ্বী। ডানহাতি এই ওপেনার ধনাঞ্জয়ার অফ স্পিনে ৯ চারে ২৪ বলে ৪৩ করে ধরা পড়েন লং-অনে। ভাঙে ৫৮ রানের উদ্বোধনী জুটি।

শুরুতেই দ্রুত রান তুলে দলের জয়ের পথ সহজ করে দেওয়া পৃথ্বীই জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

অভিষিক্ত কিষান মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকান। পরের বলে চার। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারও তিনি শুরু করেছিলেন প্রথম বলে চার মেরে।

এক ওভার পরই ধনাঞ্জয়াকে আবার পেয়ে কিষান মারেন টানা তিন চার। এরপর আসালঙ্কাকে চারের পর ওড়ান ছক্কায়। আরেক প্রান্তে ধাওয়ান তখনও সাবধানী। খেলছেন দেখেশুনে।

ভারতের হয়ে একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে টি-টোয়েন্টির পর ওয়ানডেতেও প্রথম ম্যাচে ফিফটি করলেন কিষান। আর সব দেশ মিলিয়ে দ্বিতীয়। দক্ষিণ আফ্রিকার রাসি ফন ডার ডাসেন প্রথম এই কীর্তি গড়েছিলেন।

কিষানের ৩৩ বলের অর্ধশতক ওয়ানডে অভিষেকে দ্বিতীয় দ্রুততম। রেকর্ডটি তারই সতীর্থ ক্রুনালের, গত মার্চে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৬ বলে ফিফটি করেছিলেন তিনি।

ফিফটির পর অবশ্য বেশিদূর যেতে পারেননি কিষান। লাকশান সান্দাক্যানের বলে কট বিহাইন্ড হওয়ার আগে ৪২ বলে করেন ৫৯ রান। তার ইনিংস গড়া ৮ চার ও ২ ছক্কায়।

মনিশ পান্ডেকে নিয়ে দলকে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিতে থাকেন ধাওয়ান। ৬১ বলে আসে তার ফিফটি। এই ইনিংসের পথে ভারতের দশম ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে ৬ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।

মনিশ ফেরার পর সূর্যকুমার যাদবকে সঙ্গে নিয়ে বাকি কাজ সারেন ধাওয়ান। তার ৯৫ বলে ৮৬ রানের ইনিংসটি ৬টি চার ও ১টি ছক্কায় সাজানো।

ওয়ানডে অভিষেকে ৫ চারে ২০ বলে ৩১ করে অপরাজিত থাকেন সূর্যকুমার।

একই মাঠে মঙ্গলবার সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে দুই দল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

শ্রীলঙ্কা: ৫০ ওভারে ২৬২/৯ (আভিশকা ৩৩, মিনোদ ২৭, রাজাপাকসে ২৪, ধনাঞ্জয়া ১৪, আসালঙ্কা ৩৮, শানাকা ৩৯, হাসারাঙ্গা ৮, চামিকা ৪৩*, উদানা ৮, চামিরা ১৩; ভুবনেশ্বর ৯-০-৬৩-০, দিপক চাহার ৭-১-৩৭-২, হার্দিক ৫-০-৩৪-১, চেহেল ১০-০-৫২-২, কুলদিপ ৯-১-৪৮-২, ক্রুনাল ১০-১-২৬-১)।

ভারত: ৩৬.৪ ওভারে ২৬৩/৩ (পৃথ্বী ৪৩, শিখর ৮৬*, কিষান ৫৯, মনিশ ২৬, সূর্যকুমার ৩১*; চামিরা ৭-০-৪২-০, উদানা ২-০-২৭-০, ধনাঞ্জয়া ৫-০-৪৯-২, সান্দাক্যান ৮.৪-০-৫৩-১, আসালঙ্কা ৩-০-২৬-০, হাসারাঙ্গা ৯-১-৪৫-০, চামিকা ২-০-১৬-০)।

ফল: ভারত ৭ উইকেটে জয়ী।

সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে ভারত।

ম্যান অব দা ম্যাচ: পৃথ্বী শ।