পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

হাসারাঙ্গার রেকর্ড গড়া বোলিংয়ে ভারতকে হারাল শ্রীলঙ্কা

  • স্পোর্টস ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-07-29 23:44:33 BdST

bdnews24
ভানিন্দু হাসারাঙ্গাকে ঘিরে শ্রীলঙ্কার উইকেট উল্লাস। ছবি: আইসিসি।

সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ, এক রকম ফাইনাল। জন্মদিনে এমন মঞ্চে বল হাতে আলো ছড়ালেন ভানিন্দু হাসারাঙ্গা। এই লেগ স্পিনারের রেকর্ড গড়া বোলিংয়ে ভারত করতে পারল না একশও। অল্প রানের লক্ষ্যে বাকি কাজ সারলেন ব্যাটসম্যানরা। শ্রীলঙ্কা পেল অনির্বচনীয় স্বাদ, ভারতের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টিতে সিরিজ জয়।

কলম্বোয় বৃহস্পতিবার তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ভারতকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। তিন ম্যাচের সিরিজটি স্বাগতিকরা জিতেছে ২-১ ব্যবধানে।

লঙ্কান বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। দুই অঙ্কে যাওয়া তিন ব্যাটসম্যানের মধ্যে সর্বোচ্চ কুলদিপ যাদবের ২৩। তাতে  ৮ উইকেটে ৮১ রান তোলে তারা। এই রান ৩৩ বল বাকি থাকতেই তাড়া করে ফেলে দাসুন শানাকার দল।

স্পিনারদের জন্য দারুণ সহায়তা থাকা উইকেটে ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন হাসারাঙ্গা। টি-টোয়েন্টিতে যা ভারতের বিপক্ষে যেকোনো বোলারের সেরা বোলিং। পরে ব্যাট হাতে ৯ বলে ১৪ রান করে তিনিই ম্যাচ সেরা। সিরিজে জুড়ে দারুণ খেলে পেয়েছেন সিরিজ সেরার পুরস্কারও।

নবদিপ সাইনি চোটে ছিটকে পড়লে সন্দিপ ওয়ারিয়রের অভিষেক হয় এই ম্যাচে। এতে লঙ্কানদের বিপক্ষে এই সিরিজে ভারতের হয়ে খেলেন ১৯ জন। যা টি-টোয়েন্টি সিরিজ বা টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ক্রিকেটার খেলানোর দিকে অস্ট্রেলিয়া, রোমানিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ।

জোড়াতালি দিয়ে সাজানো দল নিয়ে আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে ভারত। তাদের শুরুটা হয়েছিল দুঃস্বপ্নের মতো। যা সঙ্গী ছিল ইনিংসের শেষ পর্যন্ত। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো দলটি কোনো মতে পার করে টি-টোয়েন্টিতে তাদের সর্বনিম্ন ৭৪ রান।

ইনিংসের চতুর্থ বলে শিখর ধাওয়ানকে হারিয়ে ভারত ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার শুরু। দুশমন্থ চামিরার লেংথে পড়ে সুইং করে বেরিয়ে যাওয়া বল ব্যাটের কানা নেয় ভারত অধিনায়কের। প্রথম স্লিপে দারুণ নিচু ক্যাচে তাকে গোল্ডেন ডাকের তেতো স্বাদ দেন ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা।

চার মেরে রানের খাতা খোলা দেবদূত পাডিক্কাল টিকতে পারেননি। রমেশ মেন্ডিসের অফ স্পিনে হন এলবিডব্লিউ। প্রথম ওভারে বোলিংয়ে এসেই জোড়া শিকার ধরেন হাসারাঙ্গা। তার দারুণ লেগ স্পিনে সাঞ্জু স্যামসন ও গুগলিতে রুতুরাজ গায়কোয়াড হন এলবিডব্লিউ।

২৫ রানে ৪ উইকেট হারানো দলের হাল ধরতে পারেননি নিতিশ রানাও। থিতু হওয়ার চেষ্টায় থাকা এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ফেরেন শানাকার দুর্দান্ত এক ফিরতি ক্যাচে। ভারতের প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের কেবল রুতুরাজই (১৪) যেতে পারেন দুই অঙ্কে।

ভুবনেশ্বর কুমার ও কুলদিপরা কেবল চেষ্টা করেছেন টিকে থাকতে। দ্বিতীয় স্পেলে আক্রমণে এসে পরপর দুই ওভারে ভুবনেশ্বর ও বরুণ চক্রবর্তীকে ফিরিয়ে দেন হাসারাঙ্গা। মাঝে শানাকার শিকার রাহুল চাহার।

কুলদিপ শেষ পর্যন্ত খেলে থাকেন ২৩ রান নিয়ে অপরাজিত। তার লড়াইয়েও প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একশ রানে যেতে ব্যর্থ হলো ভারত।

রান তাড়ায় শ্রীলঙ্কা সাবধানী শুরু করলেও উইকেট হারিয়ে বসে পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে। চাহারকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফেরেন আভিশকা ফার্নান্দো (১২)।

উইকেটে জমে গিয়ে চাহারের বলেই এলবিডব্লিউ ১৮ রান করা মিনোদ ভানুকা। এই লেগ স্পিনার বোল্ড করে দেন সাদিরা সামারাবিক্রমাকেও।

ধনাঞ্জয়া ও হাসারাঙ্গা দলকে নিয়ে যান জয়ের বন্দরে। ২৩ রানে অপরাজিত ছিলেন গত ম্যাচ জয়ে লঙ্কানদের নায়ক ধনাঞ্জয়া।

এই জয়ে ২০১৯ সালের পর টি-টোয়েন্টিতে প্রথম সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল শ্রীলঙ্কা। আর টানা আট সিরিজ অপরাজিত থাকার পর হারল ভারত।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত: ২০ ওভারে ৮১/৮ (রুতুরাজ ১৪, ধাওয়ান ০, পাডিক্কাল ৯, স্যামসন ০, নিতিশ ৬, ভুবনেশ্বর ১৬, কুলদিপ ২৩*, চাহার ৫, বরুণ ০, সাকারিয়া ৫*; চামিরা ৪-০-১৬-১, চামিকা ২-০-১২-০, রমেশ ২-০-১৩-১, হাসারাঙ্গা ৪-০-৯-৪, আকিলা ৪-০-১১-০, শানাকা ৪-০-২০-২)।

শ্রীলঙ্কা: ১৪.৩ ওভারে ৮২/৩ (আভিশকা ১২, মিনোদ ১৮, সামারাবিক্রমা ৬, ধনাঞ্জয়া ২৩*, হাসারাঙ্গা ১৪*; ভুবনেশ্বর ২-০-৯-০, বরুণ ৩.৩-০-১৫-০, ওয়ারিয়র ৩-০-২৩-০, চাহার ৪-০-১৫-৩, কুলদিপ ২-০-১৬-০)।

ফল: শ্রীলঙ্কা ৭ উইকেটে জয়ী।

সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জয়ী শ্রীলঙ্কা।

ম্যান অব দা ম্যাচ: ভানিন্দু হাসারাঙ্গা।

ম্যান অব দা সিরিজ: ভানিন্দু হাসারাঙ্গা।