পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

রেকর্ড গড়া জয়ে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ

  • অনীক মিশকাত, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-08-03 17:31:44 BdST

জিততে রেকর্ড গড়তে হত বাংলাদেশের। নিজেদের সর্বনিম্ন রান ডিফেন্ডের এই চ্যালেঞ্জে দল জিতেছে অনায়াসে। হাতে ধরা দিয়েছে দারুণ এক অর্জন, টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম জয়। সেখানে অলরাউন্ড নৈপুণ্যে উজ্জ্বল সাকিব আল হাসান। দারুণ বোলিংয়ে নায়ক নাসুম আহমেদ।

২৩ রানের জয়

মন্থর, টার্নিং উইকেটে ব্যাবধান গড়ে দিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। নিজেদের সর্বনিম্ন পুঁজি নিয়েও জিতল দল। ২৩ রানের জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা।

২০১৬ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ১৩৩ রান করেও জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার জিতল ১৩২ রানের লক্ষ্য দিয়ে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৩১/৭ (নাঈম ৩০, সৌম্য ২, সাকিব ৩৬, মাহমুদউল্লাহ ২০, সোহান ৩, আফিফ ২৩, শামীম ৪, মেহেদি ৭*; স্টার্ক ৪-০-৩৩-২, হেইজেলউড ৪-০-২৪-৩, জ্যাম্পা ৪-০-২৮-১, টাই ৪-০-২২-১, অ্যাগার ৪-০-২২-০)

অস্ট্রেলিয়া: ২০ ওভারে ১০৮ (কেয়ারি ০, ফিলিপি ৯, মার্শ ৪৫, হেনরিকেস ১, ওয়েড ১৩, অ্যাগার ৭, টার্নার ৮, স্টার্ক ১৪, টাই ০, জ্যাম্পা ০, হেইজেলউড ২*; মেহেদি ৪-০-২২-১, নাসুম ৪-০-১৯-৪, সাকিব ৪-০-২৪-১, মুস্তাফিজ ৪-০-১৬-২, শরিফুল ৩-০-১৯-২, মাহমুদউল্লাহ ১-০-৬-০)

মুস্তাফিজের উইকেট শেষ অস্ট্রেলিয়া

ম্যাচের শেষ বলে মিচেল স্টার্ককে বোল্ড করে দিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। ১০৮ রানে থমকে গেল অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস। বাংলাদেশের বিপক্ষে এটাই তাদের সর্বনিম্ন। ৪ ওভারে মাত্র ১৬ রান নিয়ে ২ উইকেট নিলেন মুস্তাফিজ।

শরিফুলের ২ উইকেটে জয়ের কাছে বাংলাদেশ

১৯তম ওভারে বোলিংয়ে এসে উইকেট পেলেন শরিফুল ইসলাম। বাঁহাতি এই পেসার ফিরিয়ে দিলেন অ্যান্ড্রু টাই ও অ্যাডাম জ্যাম্পকে।

ছক্কার চেষ্টায় লং অফে মোহাম্মদ নাঈম শেখকে ক্যাচ দেন টাই। পুল করে ডিপ মিডউইকেট সীমানায় আফিফ হোসেনের হাতে ধরা পড়েন জ্যাম্পা। 

১৯ ওভারে সফরকারীদের স্কোর ৯ উইকেটে ১০৪। শেষ ওভারে ২৮ রান চাই তাদের।

টার্নারকে বিদায় করলেন মুস্তাফিজ

চার মেরে ঝড়ের আভাস দিয়েছিলেন অ্যাশটন টার্নার। পরের বলেই তাকে ফিরিয়ে দিলেন মুস্তাফিজুর রহমান।

স্ট্রেটে খেলতে চেয়েছিলেন টার্নার। কিন্তু বল যায় এক্সট্রা কাভারে। সেখানে ঠাণ্ডা মাথায় ক্যাচ মুঠোয় জমান মাহমুদউল্লাহ।

১০ বলে ৮ রান করেন টার্নার।

১৮ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ৭ উইকেটে ১০১। ক্রিজে মিচেল স্টার্কের সঙ্গী মিচেল স্টার্ক। জয়ের জন্য শেষ ২ ওভারে ৩১ রান চাই সফরকারীদের।

বিপজ্জনক মার্শকে থামালেন নাসুম

আগের ওভারে সাকিব আল হাসানকে ছক্কা মেরে ডানা মেলার আভাস দিয়েছিলেন মিচেল মার্শ। আরেক বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ থামালেন ছন্দে থাকা এই ব্যাটসম্যানকে।

নাসুমকে স্লগ সুইপ করে টাইমিং করতে পারেননি মার্শ। সীমানা থেকে দৌড়ে এসে দুর্দান্ত এক ডাইভিং ক্যাচ নেন শরিফুল ইসলাম। ৪৫ বলে একটি করে ছক্কা ও চারে ৪৫ রান করেন মার্শ।

তিনি নাসুমের চতুর্থ শিকার। বাঁহাতি এই স্পিনার ১৯ রানে নেন ৪ উইকেট। তার শেষ স্পেলটা দারুণ ২-০-৬-২!

১৬ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ৬ উইকেটে ৮৬। জয়ের জন্য শেষ ৪ ওভারে ৪৬ রান চাই সফরকারীদের।

হিট উইকেট অ্যাগার

আগের ওভারে বেশ বাজে বলেই উইকেট পেয়েছিলেন নাসুম আহমেদ। এবারও তার উইকেটে থাকল ভাগ্যের ছোঁয়া। হিট উইকেট হয়ে গেলেন অ্যাশটন অ্যাগার।

বেশ পিছিয়ে গিয়ে খেলছিলেন অ্যাগার। বাঁহাতি স্পিনারের বল খেলে ফলো থ্রোয়ে পিছিয়ে গেলেন আরও, পা দিয়ে লাগল স্টাম্পে! একটু এগিয়ে ব্যাটসম্যান টের পেলেন, কী কাণ্ড ঘটে গেছে।

১২ বলে ৭ রান করেন অ্যাগার।

১৪ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ৫ উইকেটে ৭৩। ক্রিজে মিচেল মার্শের সঙ্গী অ্যাশটন টার্নার।

টি-টোয়েন্টি বাংলাদেশের বিপক্ষে এটি দ্বিতীয় হিট উইকেট। ২০১৬ এশিয়া কাপে মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে হিট উইকেট হয়েছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের আমজাদ জাভেদ। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে এই সংস্করণে হিট উইকেট হলেন অ্যাগার।

মুস্তাফিজের চমৎকার ক্যাচে ভাঙল জুটি

আক্রমণে ফিরে উইকেট এনে দিলেন নাসুম আহমেদ। ভাঙলেন অস্ট্রেলিয়ার জমে যাওয়া জুটি। ম্যাথু ওয়েডের চমৎকার ক্যাচ মুঠোয় জমিয়ে তাতে অবদান রাখলেন মুস্তাফিজুর রহমান।

লেগ স্টাম্পের বাইরে পড়ে আরও বেরিয়ে যাওয়া বলে বাউন্ডারি চেয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক। টাইমিং করতে পারেননি বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। শর্ট ফাইন লেগে ঝাঁপিয়ে ক্যাচ মুঠোয় জমান মুস্তাফিজ। ভাঙে ৩৮ রানের জুটি।

২৩ বলে ১৩ রান করেন ওয়েড।

১০ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ৪ উইকেটে ৫২। ক্রিজে মিচেল মার্শের সঙ্গী অ্যাশটন অ্যাগার। জয়ের জন্য শেষ ১০ ওভারে ৮০ রান চাই সফরকারীদের।

পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেট

চ্যালেঞ্জিং উইকেটে বল হাতে শুরুটা দুর্দান্ত হয়েছে বাংলাদেশের। পাওয়ার প্লেতে ফিরিয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার তিন ব্যাটসম্যানকে।

৬ ওভার অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৩ উইকেটে ২৮ রান।

প্রথম ৩ ওভারে তিন উইকেট হারানো সফরকারীরা পরের তিন ওভার কাটিয়ে দিয়েছে নিরাপদে। এই সময়ে এসেছে দুটি বাউন্ডারি। জুটি গড়তে লড়াই করছেন মিচেল মার্শ ও ম্যাথু ওয়েড।

মার্শ ১৬ বলে খেলছেন ১২ রানে। ওয়েডের রান ১২ বলে ৫।

তিন ওভারে তিনটি

প্রথম দুই ওভারের ধারাবাহিকতায় তৃতীয় ওভারেও বাংলাদেশ পেল আরেকটি উইকেটের দেখা। এবার প্রথম বলেই উইকেটের দেখা পেলেন সাকিব আল হাসান।

সাকিবের বলটি ছিল অফ স্টাম্পে, ফ্লাইটেড ডেলিভারি। মোইজেস হেনরিকেস চেষ্টা করেন সুইপ খেলার। বল তার ব্যাটের নিচে লেগে দুই পায়ের ফাঁক গলে আঘাত করে স্টাম্পে।

২ বলে ১ রানে আউট হেনরিকেস। ২.১ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার রান ৩ উইকেটে ১১।

দুই ওভারে দুটি

প্রথম ওভারের পর দ্বিতীয় ওভারেও আরেকটি উইকেটের দেখা পেল বাংলাদেশ। এবার নাসুম আহমেদের বাঁহাতি স্পিনে স্টাম্পড জশ ফিলিপি।

ফিলিপি যদিও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ঝড় তোলার। নাসুমের শর্ট বলে বলে পুল করে ছক্কা মারেন তিনি, পরের বলে নেন দুই রান।

এরপর চেষ্টা করেন বেরিয়ে এসে খেলার। কিন্তু নাসুমের ফ্লাইট ও লুপ ছিল দুর্দান্ত। বল টার্ন করে বেরিয়ে যায় ফিলিপির ব্যাটের পাশ দিয়ে। বল গ্লাভসে জমিয়ে চোখের পলকে বেল উড়িয়ে দেন কিপার নুরুল হাসান সোহান।

৫ বলে ৯ রানে আউট ফিলিপি। অস্ট্রেলিয়ার রান ১.৪ ওভারে ২ উইকেটে ১০।

দারুণ শুরু

মাঝারি পুঁজি নিয়ে যেমন শুরু প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের, ঠিক তেমন শুরুই এনে দিলেন মেহেদি হাসান। ইনিংসের প্রথম বলেই বোল্ড করে দিলেন অ্যালেক্স কেয়ারিকে।

রাউন্ড দা উইকেটে অফ স্টাম্পে লেংথ ডেলিভারি করেন মেহেদি। স্পিন করে বেরিয়ে যাবে ভেবে জায়গা বানিয়ে খেলার চেষ্টা করেন বাঁহাতি কেয়ারি। কিন্তু বল অ্যাঙ্গেলে ঢোকে ভেতরে, কেয়ারির ব্যাট ফাঁকি দিয়ে ছোবল দেয় স্টাম্পে।

শূন্য রানে অস্ট্রেলিয়া হারাল প্রথম উইকেট।

১৩২ রানের লক্ষ্য দিল বাংলাদেশ

ডট বলের পুরান সমস্যা বাংলাদেশকে ভোগাল নতুন করে। ম্যাচে ৪৭টি ডট বল খেলল স্বাগতিকরা। এর মধ্যে পাওয়ার প্লেতেই খেলে ২৩টি।

ইনিংসের শেষ বলে আফিফ হোসেনকে বোল্ড করে দেন মিচেল স্টার্ক।

১৭ বলে তিন চারে ২৩ রান করেন আফিফ। টি-টোয়েন্টিতে তিনি অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসারের ৫০তম শিকার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৩১/৭ (নাঈম ৩০, সৌম্য ২, সাকিব ৩৬, মাহমুদউল্লাহ ২০, সোহান ৩, আফিফ ২৩, শামীম ৪, মেহেদি ৭*; স্টার্ক ৪-০-৩৩-২, হেইজেলউড ৪-০-২৪-৩, জ্যাম্পা ৪-০-২৮-১, টাই ৪-০-২২-১, অ্যাগার ৪-০-২২-০)

উঠল না শমীম ঝড়

মিচেল স্টার্কের চমৎকার ইয়র্কারের জবাব খুঁজে পেলেন না শামীম হোসেন। চমৎকার এক ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে গেলেন তরুণ এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

দেশের মাটিতে নিজের প্রথম ইনিংসে ৩ বলে চার রান করেন শামীম।

১৮ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৬ উইকেটে ১১৪ রান। ক্রিজে আফিফ হোসেনের সঙ্গী মেহেদি হাসান।

বোল্ড হয়ে থামলেন সাকিব

অনেকটা সময় ক্রিজে থেকেও প্রত্যাশিত ঝড় তুলতে পারেননি সাকিব আল হাসান। শেষের দিকে ভুগছিলেন টাইমিং পেতে। একটু ক্লান্তও মনে হচ্ছিল। ক্লান্ত এক শটেই বাঁহাতি এই অলরাউন্ডার ফিরলেন বোল্ড হয়ে।

জশ হেইজেলউডের স্লোয়ার বল লেগে টেনে খেলতে চেয়েছিলেন সাকিব। ঠিক মতো পারেননি। ব্যাটের কানায় লেগে এলোমেলো হয়ে যায় স্টাম্প।

৩৩ বলে তিন চারে ৩৬ রান করেন সাকিব।

১৭ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৫ উইকেটে ১০৪। ক্রিজে আফিফ হোসেনের সঙ্গী শামীম হোসেন।

দ্রুত রানের চেষ্টায় ফিরলেন সোহান

রান রেট এখনও ছয়ের নিচে। খুব বেশি বল দেখার সুযোগ নেই। শুরু থেকেই খেলতে হবে বড় শট। সেই চেষ্টাতেই উইকেট দিয়ে এলেন নুরুল হাসান সোহান।

এই কিপার-ব্যাটসম্যানও বুঝতে পারেননি নাকল বল। অফ স্টাম্পের বেশ দূরের ওভারপিচড বল মারতে চেয়েছিলেন পয়েন্টের ওপর দিয়ে। কিন্তু টাইমিং করতে পারেননি। সহজ ক্যাচ মুঠোয় জমান মিচেল মার্শ।

৪ বলে ৩ রান করেন সোহান। ১৫ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৪ উইকেটে ৮৯। ক্রিজে সাকিব আল হাসানের সঙ্গী আফিফ হোসেন।

ছক্কার পর মাহমুদউল্লাহর অক্কা

শুরুতে একবার ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যাওয়া মাহমুদউল্লাহ ভুগছিলেন টাইমিং করতে। এক পর্যায়ে তার স্ট্রাইক রেট নেমে গিয়েছিল ৭০ এর নিচে। পরে জশ হেইজেলউডকে ছক্কায় উড়িয়ে আভাস দেন ডানা মেলার। কিন্তু পুনরাবৃত্তির চেষ্টায় ফিরে যান পরের বলেই।

এগিয়ে এসে ছক্কার চেষ্টায় ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। নাকল বলে টাইমিং করতে পারেননি। মিড অফ থেকে অনেকটা পিছিয়ে গিয়ে বলে চোখ রেখে ক্যাচ মুঠোয় জমান মোইজেস হেনরিকস। ভাঙে ৩৬ রানের জুটি।

২০ বলে এক ছক্কায় ২০ রান করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

১৩ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৩ উইকেটে ৭৬। ক্রিজে সাকিবের সঙ্গী নুরুল হাসান সোহান।

১০ ওভারে কেবল ৫৮

মন্থর পাওয়ার প্লের পর রানের গতি বাড়াতে ভুগছে বাংলাদেশ। ১০ ওভার শেষেও দলটির রান রেট ছয়ের নিচে।

১০ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ২ উইকেটে ৫৮। ১৬ বলে ১৩ রানে খেলছেন সাকিব আল হাসান। ৯ বলে মাহমুদউল্লাহর রান ৮।

আগের ওভারে আউট হতে বসেছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। বাঁহাতি স্পিনার অ্যাশটন অ্যাগারের বলে স্লিপে দুরূহ ক্যাচ নিতে পারেননি অ্যাশটন টার্নার। সে সময় ৫ রানে ছিলেন মাহমুদউল্লাহ।

রিভার্স সুইপের চেষ্টায় বোল্ড নাঈম

অমন শটের কোনো প্রয়োজন ছিল না। বাজে এক শটে ভালো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হলেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। অ্যাডাম জ্যাম্পাকে রিভার্স সুইপের চেষ্টায় বোল্ড হয়ে গেলেন বাঁহাতি এই ওপেনার।

লেগে সীমানায় তিন ফিল্ডার রেখে বল করছিলেন জ্যাম্পা। লেগ স্পিনারকে রিভার্স সুইপ করে বাউন্ডারি মারতে চেয়েছিলেন নাঈম। ব্যাটে-বলে করতে পারেননি, এলমেলো হয়ে যায় বেলস। ভাঙে ২২ রানের জুটি।

দুটি করে ছক্কা ও চারে ২৯ বলে ৩০ রান করেন নাঈম।

৭ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ২ উইকেটে ৩৭।

ক্রিজে সাকিব আল হাসানের সঙ্গী মাহমুদউল্লাহ। লড়াই করার মতো একটু পুঁজি পেতে দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ দুই ব্যাটসম্যানের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ।

পাওয়ার প্লেতে ২৩ ডট বল

পাওয়ার প্লেতে ৩৬ বলের ২৩টিই ডট খেলেছে বাংলাদেশ। প্রথম ৬ ওভারে বাউন্ডারি এসেছে কেবল চারটি। দুটি করে ছক্কা ও চার- সবই মোহাম্মদ নাঈম শেখের ব্যাট থেকে।

৬ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ১ উইকেটে ৩৩। নাঈম ২৪ বলে ২৭ রানে ব্যাট করছেন। সাকিব খেলছেন ৩ বলে ৩ রানে।

গ্যালারিতে বল পাঠালেন নাঈম

আক্রমণে ফেরা মিচেল স্টার্ককে ছক্কায় স্বাগত জানালেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। বল পেয়েছিলেন নিজের জোনে। লেগ স্টাম্পে হাফ ভলি। চমৎকার ফ্লিকে বল গ্যালারিতে পাঠান বাঁহাতি ওপেনার।

সেই বল ফিরিয়ে আনা হয়নি। চতুর্থ আম্পায়ার মাঠ ঢুকেন নতুন বল নিয়ে।

স্টার্কের করা ম্যাচের প্রথম ওভারেই একই শটে ছক্কা মেরেছিলেন নাঈম।

৫ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ১ উইকেটে ২৬। নাঈম ১৮ বলে ২০ ও সাকিব আল হাসান ৩ বলে ৩ রানে ব্যাট করছেন।

শুরুতেই ফিরলেন সৌম্য

অন্য প্রান্তে মোহাম্মদ নাঈম শেখের ব্যাট থেকে এসেছে একটি করে চার-ছক্কা। কিন্তু টাইমিং করতে ভুগছিলেন সৌম্য সরকার। আগের তিন ম্যাচে দুটি ফিফটি করা বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান বেশিক্ষণ থাকতে পারলেন না ক্রিজে। জশ হেইজেলউডের বল স্টাম্পে টেনে এনে হলেন বোল্ড।

জায়গা করে নিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন সৌম্য। হেইজেলউডও অনুসরণ করেন এই ওপেনারকে। শরীর তাক করে আসা বল কাট করতে চেয়েছিলেন
তিনি; কিন্তু বল আঘাত হানে স্টাম্পে। ভাঙে ১৫ রানের উদ্বোধনী জুটি।

৯ বলে দুই রান করেন সৌম্য।

৪ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ১ উইকেটে ১৯। ক্রিজে নাঈমের সঙ্গী সাকিব আল হাসান।

তৃতীয় ওভারেই স্পিন

তিন পেসার নিয়ে খেলা অস্ট্রেলিয়া তৃতীয় ওভারেই আক্রমণে এনেছে স্পিনার। বল হাতে পেয়েছেন লেগ স্পিনার অ্যাডাম জ্যাম্পা। তার ওভারের শেষ বলে চার মেরেছেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ।

৩ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর বিনা উইকেটে ১৫।

নাঈমের ছক্কায় শুরু

মিচেল স্টার্কের প্রথম বলটি একটুর জন্য ব্যাটের কানা নেয়নি। পরের বলটি ছিল লেগ স্টাম্পের বাইরে। দারুণ ফ্লিকে বল উড়িয়ে সীমানার বাইরে পাঠিয়ে দিলেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। শুরুতেই কেটে গেল চাপ।

প্রথম ওভারে স্কোরিং শট ওই একটাই। ১ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর বিনা উইকেটে ৬।

হেইজেলউড-স্টার্ক-টাইকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়া দল সাজিয়েছে তিন পেসার ও দুই স্পিনার নিয়ে। জশ হেইজেলউড ও মিচেল স্টার্কের সঙ্গে পেস আক্রমণে আছেন অ্যান্ড্রু টাই। স্পিনে অ্যাডাম জ্যাম্পার সঙ্গে অ্যাশটন অ্যাগার।

অস্ট্রেলিয়া একাদশ: অ্যাশটন অ্যাগার, অ্যালেক্স কেয়ারি, জশ হেইজেলউড, মোইজেস হেনরিকেস, মিচেল মার্শ, জশ ফিলিপি, মিচেল স্টার্ক, অ্যাশটন টার্নার, অ্যান্ড্রু টাই, ম্যাথু ওয়েড, অ্যাডাম জ্যাম্পা।

২ পেসার নিয়ে বাংলাদেশ

চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। জায়গা হারিয়েছেন অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন ও তাসকিন আহমেদ। দ্বিতীয় পেসার হিসেবে মুস্তাফিজের সঙ্গে আছেন শরিফুল ইসলাম।

একাদশে টিকে গেছেন নাসুম আহমেদ। ফিরেছেন অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান।

বাংলাদেশ একাদশ: মাহমুদউল্লাহ, মোহাম্মদ নাঈম শেখ, সাকিব আল হাসান, সৌম্য সরকার, আফিফ হোসেন, শামীম হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, নাসুম আহমেদ, মেহেদি হাসান, মোস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম।

টস

সিরিজ শুরুর ম্যাচে টস জিতলেন ম্যাথু ওয়েড। অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক নিলেন ফিল্ডিং।

প্রস্তুতি আর প্রাপ্তির অভিযান শুরু

বিশ্বকাপের আগে অন্য সংস্করণে কোনো ম্যাচ নেই বাংলাদেশের। টানা ১৩ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে মাহমুদউল্লাহর দল। জিম্বাবুয়েতে সিরিজ জিতে আসা দলটির নজর প্রস্তুতির দ্বিতীয় ধাপে। দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে মুখোমুখি বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার আলোচিত টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচ শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টায়।

দুই দলেরই নজর বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও জয়ের দিকে। নিয়মিত অধিনায়কসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় নেই অস্ট্রেলিয়া দলে। বাংলাদেশ পাচ্ছে না তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস ও আমিনুল ইসলামকে।