পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের বিশ্বকাপ

  • অনীক মিশকাত, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-10-17 19:36:44 BdST

বল হাতে শুরুটা কি দারুণই না ছিল। কিন্তু সেটা ধরে রাখতে পারল না বাংলাদেশ। শেষের এলোমেলো বোলিং আর ক্রিস গ্রিভসের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে স্কটল্যান্ড পেল চ্যালেঞ্জিং স্কোর। রান তাড়ায় পেরে উঠল না বাংলাদেশ। প্রশ্নবিদ্ধ ব্যাটিংয়ে হার দিয়ে শুরু করল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।

প্রশ্নবিদ্ধ ব্যাটিংয়ে হার

ক্রিজে অনেক সময় কাটালেন বাংলাদেশের তিন ব্যাটিং ভরসা সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ। রানও পেলেন কিন্তু প্রত্যাশা মেটানোর ধারেকাছে ছিল না তাদের ব্যাটিং।

আফিফ হোসেন, মেহেদি হাসানদের যে তাড়না ছিল সেটি ছিল না অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের ব্যাটে। তাতে বিব্রতকর হার দিয়ে শুরু হলো বিশ্বকাপ অভিযান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

স্কটল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৪০/৯ (মানজি ২৯, কোয়েটজার ০, ক্রস ১১, বেরিংটন ২, ম্যাকলয়েড ৫, লিস্ক ০, গ্রিভস ৪৫, ওয়াট ২২, ডেভি ৮, শরিফ ৮*, হুইল ১*; তাসকিন ৩-০-২৮-১, মুস্তাফিজ ৪-১-৩২-২, সাইফ ৪-০-৩০-১, সাকিব ৪-০-১৭-২, মেহেদি ৪-০-১৯-৩, আফিফ ১-০-১০-০)

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৩৪/৭ (লিটন ৫, সৌম্য ৫, সাকিব ২০, মুশফিক ৩৮, মাহমুদউল্লাহ ২৩, আফিফ ১৮, সোহান ২, মেহেদি ১৩*, সাইফ ৫*; হুইল ৪-০-২৪-৩, ডেভি ৪-০-২৪-১, শরিফ ৩-০-২৬-০, লিস্ক ২-০-২০-০, ওয়াট ৪-০-১৯-১, গ্রিভস ৩-০-১৯-২)

সীমানায় ধরা সোহান-মাহমুদউল্লাহ

ওভার প্রতি প্রয়োজন যখন ১৬, তখন ব্যাটসম্যানের একটাই করার থাকে। সেই চেষ্টাই করলেন নুরুল হাসান সোহান। কিন্তু একটুর জন্য ছক্কা পেলেন না এই কিপার-ব্যাটসম্যান, ধরা পড়লেন সীমানায়।

ছক্কা পেলেন মাহমুদউল্লাহ, কিন্তু পারলেন না এর পুনরাবৃত্তি করতে। বাংলাদেশ অধিনায়ককে ফিরিয়ে ওভারে দ্বিতীয় উইকেট পেলেন ব্র্যাড হুইল।

একটি করে ছক্কা ও চারে মাহমুদউল্লাহ করেন ২২ বলে ২৩।

১৯ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৭ উইকেটে ১১৭। শেষ ওভারে চাই ২৪ রান।

ছক্কার চেষ্টায় আউট আফিফ

ওভার প্রতি প্রয়োজন ১২ রানের বেশি। এখন আর খুব একটা দেখেশুনে খেলার সুযোগ নেই। সময়ের দাবি ছিল বড় শট। সেই দাবি মেটানোর চেষ্টাই ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন আফিফ হোসেন।

বাঁহাতি স্পিনার মার্ক ওয়াটকে লেগে ওড়াতে চেয়েছিলেন আফিফ। টাইমিং করতে পারেননি বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। ক্যাচ দেন সীমানায়।

১২ বলে দুই চারে ১৮ রান করেন আফিফ।

১৮ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৫ উইকেটে ১০৯। শেষ ২ ওভার ৩২ রান চাই তাদের।

গ্রিভসের বলে বোল্ড মুশফিক

আগের ওভারে আসে মাত্র ১ রান। রানের গতি বাড়াতে তাই ক্রিস গ্রিভসের পরের ওভারে প্রথম বলে স্কুপ করে বাউন্ডারির চেষ্টা করলেন মুশফিকুর রহিম। খেলতে পারলেন না ব্যাটে, ফিরলেন বোল্ড হয়ে।

লেগ স্টাম্পে ছিল ডেলিভারি। প্রথাগত কোনো শটেই হয়তো রান পেতে পারতেন মুশফিক। তিনি নিলেন ঝুঁকি, সেটা কাজে লাগল না বলে চাপ আরও বাড়ল বাংলাদেশের উপর।

দুই ছক্কা ও এক চারে ৩৬ বলে ৩৮ রান করেন মুশফিক।

ব্যাট হাতে বাংলাদেশকে ভোগানোর পর বোলিংয়ে দুই ওভারে লেগ স্পিনার গ্রিভস পেলেন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকের উইকেট।

১৪ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৪ উইকেটে ৮০। জয়ের জন্য শেষ ৬ ওভারে চাই ৬১ রান। ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ ও আফিফ হোসেন।

ছক্কার চেষ্টায় অক্কা সাকিব

রান আউট হতে হতে বারবার বেঁচে যাওয়া সাকিব আল হাসান ফিরলেন ছক্কার চেষ্টায়। ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকে ভোগানো ক্রিস গ্রিভসের ডেলিভারি ছিল বাজে। লেগ স্পিনারের ওই শর্ট বল যেকোনো জায়গায় পাঠাতে পারতেন সাকিব। তিনি ক্যাচ দিলেন সীমানায়।

২৮ বলে ১ চারে ২০ রান করেন সাকিব।

১২ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৩ উইকেটে ৭৩। ক্রিজে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গী মাহমুদউল্লাহ। শেষ ৮ ওভারে ৬৮ রান চাই তাদের।

ছবি: আইসিসি

ছবি: আইসিসি

মুশফিকের দুই ছক্কায় স্বস্তি

প্রথম ওভারে একটি চার মেরেছিলেন সৌম্য সরকার। ক্রিজে যাওয়ার পরপর আরেকটি সাকিব আল হাসান। এরপর আর বাউন্ডারির দেখা পাচ্ছিল না বাংলাদেশ। প্রয়োজনীয় রান রেট কেবলই চড়ছিল। নবম ওভারের মুশফিকুর রহিমের দুই ছক্কায় সেটা কিছুটা কমেছে।

নবম ওভারের এক পর্যায়ে ওভার প্রতি বাংলাদেশের প্রয়োজন দাঁড়িয়েছিল ৯। মাইকেল লিস্ককে পরপর দুই ওভার সুইপ ও স্লগ সুইপ করে ছক্কায় ওড়ান মুশফিক। ওভারের শেষ বলে ঝুঁকিপূর্ণ ২ রান নিতে গিয়ে রান আউট হতে হতে বাঁচেন সাকিব। ফিল্ডারের থ্রো সরাসরি স্টাম্পে লাগলেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরতে হতো তার।

ওভারে ১৮ রান নিয়ে আবার রিকোয়্যার্ড রান রেট আটের আশেপাশে নামিয়ে এসেছে বাংলাদেশ।

৯ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ২ উইকেটে ৫২। ২০ বলে ১৪ রানে খেলছেন সাকিব। মুশফিকের রান ২২ বলে ২৫।

পাওয়ারহীন পাওয়ার প্লে

ওভার প্রতি প্রয়োজন ৭ করে, সেখানে টেনেটুনে ৪ রান করে নিতে পারছে বাংলাদেশ। এর মধ্য হারিয়েছে দুই ওপেনারকে।

পাওয়ার প্লেতে ৬ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ২ উইকেটে ২৫। ১৪ বলে ৯ রানে খেলছেন সাকিব আল হাসান। ১০ বলে মুশফিকুর রহিমের রান ৪।

ষষ্ঠ ওভারে সাকিবকে ফেরাতে এলবিডব্লিউর রিভিউ নিয়েছিল স্কটল্যান্ড। তবে সাফিয়ান শরিফের বল লেগ স্টাম্পের বাইরে থাকায় উল্টো রিভিউ হারায় তারা।

আম্পায়ার্স কলে বাঁচলেন মুশফিক

রান নেই মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে। ক্রিজে গিয়ে শুরুতে এই ম্যাচেও একটু ভুগছেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান। এলবিডব্লিউ হতে হতে বেঁচে গেছেন আম্পায়ার্স কলে।

জশ ডেভির ভেতরে ঢোকা বল ঠিক মতো খেলতে পারেননি মুশফিক। ব্যাটের কানা এড়িয়ে বল লাগে প্যাডে। আম্পায়ার জোরালো আবেদনে সাড়া না দিলে রিভিউ নেয় স্কটল্যান্ড। বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা যায় বেলে মৃদু স্পর্শ করে যেন বল।

সে সময় ১ রানে ছিলেন মুশফিক।

৫ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ২ উইকেটে ২২।

টিকলেন না লিটনও

রান নেই লিটন দাসের ব্যাটে। তবুও তার উপর আস্থা হারাননি মাহমুদউল্লাহ। তবে আস্থার প্রতিদান তাকে দিতে পারেননি লিটন। ফিরে গেছেন পাওয়ার প্লের ভেতরেই।

ব্র্যাড হুইলেকে বেরিয়ে এসে খেলতে চেয়েছিলেন লিটন। টের পেয়ে স্টাম্পে স্লোয়ার ডেলিভারি দেন হুইল। লিটন যেভাবে চেয়েছিলেন পারেন, সহজ ক্যাচ যায় মিডঅফে জর্জ মানজির কাছে।

৭ বলে ৫ রান করেন লিটন।

৪ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ২ উইকেটে ১৯। ক্রিজে এখন দুই বড় ব্যাটিং ভরসা সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম।

শুরুতেই ফিরলেন সৌম্য

প্রস্তুতি ম্যাচে রানে ফেরার আভাস দেওয়া সৌম্য সরকার টিকলেন না বেশিক্ষণ। দ্বিতীয় ওভারেই ফিরে গেলেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।

প্রথম ওভারে একই শটে বাউন্ডারি পেয়েছিলেন সৌম্য। পরের ওভারে জশ ডেভি সেখানে একজন ফিল্ডার রেখে একই রকম ডেলিভারে দেন। ফাঁদে পা দিয়ে জর্জ মানজিকে ক্যাচ দেন বাঁহাতি ওপেনার।

৫ বলে ১ চারে সৌম্য করেন ৫।

২ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ১ উইকেটে ১০। ক্রিজে লিটন দাসের সঙ্গী সাকিব আল হাসান।

১৪১ রানের লক্ষ্য পেল বাংলাদেশ

মেহেদি হাসান ও সাকিব আল হাসানের দারুণ বোলিংয়ে কি দারুণ একটা অবস্থানেই না ছিল বাংলাদেশ। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে তিন উইকেট নেওয়া মেহেদি আর লাসিথ মালিঙ্গাকে ছাড়িয়ে টি-টোয়েন্টি সর্বোচ্চ উইকেটের কীর্তি গড়া সাকিব কম রানেরই স্কটল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছিলেন।

কিন্তু ৫৩ রানে ৬ ব্যাটসম্যানকে বিদায় করে দেওয়ার পরও প্রতিপক্ষকে অলআউট করতে পারেনি বাংলাদেশ। মার্ক ওয়াটের সঙ্গে ক্রিস গ্রিভসের দারুণ জুটিতে শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ১৪০ রান করে স্কটল্যান্ড।

মূলত লেগ স্পিনার গ্রিভস ২৮ বলে করেন ৪৫ রান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

স্কটল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৪০/৯ (মানজি ২৯, কোয়েটজার ০, ক্রস ১১, বেরিংটন ২, ম্যাকলয়েড ৫, লিস্ক ০, গ্রিভস ৪৫, ওয়াট ২২, ডেভি ৮, শরিফ ৮*, হুইল ১*; তাসকিন ৩-০-২৮-১, মুস্তাফিজ ৪-১-৩২-২, সাইফ ৪-০-৩০-১, সাকিব ৪-০-১৭-২, মেহেদি ৪-০-১৯-৩, আফিফ ১-০-১০-০)

মেহেদির তৃতীয় শিকার ম্যাকলয়েড

বাংলাদেশের স্পিনে যেন রানের পথ খুঁজে পাচ্ছে না স্কটল্যান্ড। মেহেদি হাসানের বলে একটা সুযোগ দেখলেন ক্যালাম ম্যাকলয়েড। কাট করে মারতে চাইলেন বাউন্ডারি। কিন্তু বলে ব্যাটে করতে না পেরে হয়ে গেলেন বোল্ড।

চার ওভার ধরে নেই কোনো বাউন্ডারি। রানের জন্য একটু মরিয়াই ছিলেন ম্যাকলয়েড। সেই চেষ্টাতেই স্টাম্প ছেড়ে সরে গিয়ে শট খেলতে চেয়েছিলেন। তাতে বোল্ড হয়ে উল্টো ফিরেছেন দলের বিপদ বাড়িয়ে।

১৪ বল খেলেন ম্যাকলয়েড করেন ৫।

১২ ওভারে স্কটল্যান্ডের স্কোর ৬ উইকেটে ৫৫। ক্রিজে ক্রিস গ্রিভসের সঙ্গী মার্ক ওয়াট।

শেষ ওভারে মুস্তাফিজের জোড়া শিকার

আবার ওভারে উইকেট পেল বাংলাদেশ। ইনিংসের শেষ ওভারে ক্রিস গ্রিভস ও জশ ডেভিকে ফিরিয়ে দিলেন মুস্তাফিজুর রহমান।

বাঁহাতি পোসারকে ছক্কায় ওড়াতে চেয়েছিলেন গ্রিভস। পারেননি তিনি। ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ক্যাচ মুঠোয় জমান সাকিব আল হাসান। ২৮ বলে দুই ছক্কা ও চারটি চারে ৪৫ রান করেন গ্রিভস।

পরের বলে নিখুঁত স্লোয়ার ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে যান জশ ডেভি। এক ছক্কায় ৫ বলে ৮ রান করা ব্যাটসম্যান বুঝতে পারেননি স্লোয়ার।

জুটি ভাঙলেন তাসকিন

আগের ওভারের শেষ বলে সুযোগটা এসেছিল। কিন্তু শর্ট থার্ড ম্যানে কঠিন ক্যাচে হাতই ছোঁয়াতে পারেননি তাসকিন আহমেদ। বাউন্ডারিতে ৩৩ বলে ফিফটি স্পর্শ করে ক্রিস গ্রিভস ও মার্ক ওয়াটের জুটির রান।

পরের ওভারে বোলিং এসেই জুটি ভাঙেন তাসকিন। তাকে ছক্কায় ওড়ানোর চেষ্টায় লং অনে সৌম্য সরকারের হাতে ধরা পড়েন ওয়াট। ভাঙে ৫১ রানের জুটি।

১৭ বলে দুই চারে ২২ রান করেন ওয়াট।

পরের তিন বলে গ্রিভসের ব্যাটে দুই চার ও এক ছক্কা হজম করেন তাসকিন।

১৮ ওভারে স্কটল্যান্ডের স্কোর ৭ উইকেটে ১১৮। গ্রিভস খেরছেন ২৩ বলে ৪৩ রান নিয়ে।

মেহেদির ক্যারিয়ার সেরা বোলিং

শেষ ওভারে বোলিং ফিগার হয়ে গেলো একটু খরুচে। তবে এখন পর্যন্ত ইনিংসে বাংলাদেশের সেরা বোলার মেহেদি হাসানই। তরুণ এই অফ স্পিনার ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ১৯ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট।

শেষ ওভারে তিনি দেন ১২ রান।

ক্যারিয়ারে এই প্রথম তিনি পেলেন ৩ উইকেট। টি-টোয়েন্টিতে তার আগের সেরা বোলিং ছিল ২৪ রানে ২ উইকেট।

১৪ ওভারে স্কটল্যান্ডের স্কোর ৬ উইকেটে ৭৭। ১১ বলে ১৯ রানে খেলছেন ক্রিস গ্রিভস, মার্ক ওয়াটের রান ৬ বলে ৬।

মেহেদির তৃতীয় শিকার ম্যাকলয়েড

বাংলাদেশের স্পিনে যেন রানের পথ খুঁজে পাচ্ছে না স্কটল্যান্ড। মেহেদি হাসানের বলে একটা সুযোগ দেখলেন ক্যালাম ম্যাকলয়েড। কাট করে মারতে চাইলেন বাউন্ডারি। কিন্তু বলে ব্যাটে করতে না পেরে হয়ে গেলেন বোল্ড।

চার ওভার ধরে নেই কোনো বাউন্ডারি। রানের জন্য একটু মরিয়াই ছিলেন ম্যাকলয়েড। সেই চেষ্টাতেই স্টাম্প ছেড়ে সরে গিয়ে শট খেলতে চেয়েছিলেন। তাতে বোল্ড হয়ে উল্টো ফিরেছেন দলের বিপদ বাড়িয়ে।

১৪ বল খেলেন ম্যাকলয়েড করেন ৫।

১২ ওভারে স্কটল্যান্ডের স্কোর ৬ উইকেটে ৫৫। ক্রিজে ক্রিস গ্রিভসের সঙ্গী মার্ক ওয়াট।

সাকিবেরও জোড়া শিকার

মেহেদি হাসানের পর জোড়া উইকেট পেলেন সাকিব আল হাসানও। বাঁহাতি এই স্পিনার ফিরিয়ে দিলেন রিচি বেরিংটন ও মাইকেল লিস্ককে।

লং অনে সাকিবকে ছক্কায় ওড়াতে চেয়েছিলেন বেরিংটন। পার করতে পারেননি আফিফ হোসেনকে। সীমানায় এই তরুণ নেন দারুণ ক্যাচ। বল ধরে দড়ি স্পর্শ করার আগেই ছুঁড়ে মারেন বল, মাঠে ফিরে জমান মুঠোয়।

৫ বলে ২ রান করেন বেরিংটন।

এক বল পর সেই লং অনেই ক্যাচ দেন লিস্ক। এবার অবশ্য অনায়াসেই ধরেন লিটন দাস। ২ বল খেলে রানের খাতা খুলতে পারেননি লিস্ক।

১১ ওভারে স্কটল্যান্ডের স্কোর ৫ উইকেটে ৫২। ক্রিজে ক্যালাম ম্যাকলয়েডের ক্রিস গ্রিভস।

এসেই মেহেদির জোড়া উইকেট

পাওয়ার প্লে শেষ হতেই আক্রমণ এলেন স্পিনাররা। তাতে মিলল উইকেট। সাকিব আল হাসান আঁটসাঁট বোলিং করে যাওয়ার পর জোড়া উইকেট পেলেন মেহেদি হাসান।

অফ স্পিনারের বল ভুল লাইন খেলে এলবিডব্লিউ হয়ে যান ম্যাথু ক্রস। ১৭ বলে ১ চারে তিনি করেন ১১ রান।

দুই বল পর মিলে আরও বড় সাফল্য। দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় জর্জ মানজিকে বোল্ড করে দেন মেহেদি। অফ স্টাম্পের বল সুইপ করতে চেয়েছিলেন ব্যাটসম্যান। কিন্তু ব্যাটে খেলতে পারেননি, আঘাত হানে স্টাম্পে।

২৩ বলে দুটি করে ছক্কা ও চারে ২৯ রান করেন মানজি।

৮ ওভারে স্কটল্যান্ডের স্কোর ৩ উইকেটে ৪৭। ক্রিজে ক্যালাম ম্যাকলয়েডের সঙ্গী রিচি বেরিংটন।

পাওয়ার প্লেতে স্কটল্যান্ডের ১ উইকেট

পাওয়ার প্লের দুই অর্ধ বাংলাদেশের কেটেছে দুই রকম। প্রথম তিন ওভারে তিন পেসার ছিলেন আঁটসাঁট। পরের তিন ওভারে বেশ রান এসেছে।

পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ১ উইকেটে ৩৯ রান করেছে স্কটল্যান্ড। ১৮ বলে দুটি করে ছক্কা ও চারে ২৬ রানে খেলছেন জর্জ মানজি। ম্যাথু ক্রস ৮ বলে করেছেন ১২ রান।

প্রথম তিন ওভারে স্কটল্যান্ড করেছিল ১ উইকেটে ৭। পরের ৩ ওভারে এসেছে ৩২।

বোলিং এলোমেলো হয়ে যাওয়ার শুরু তাসকিন আহমেদের ‘নো’ বল দিয়ে। সেই বলে ক্যাচের চেষ্টায় সফল হননি সাকিব আল হাসান। উল্টো হাত থেকে ফস্কে হয়ে যায় ছক্কা। পরের দুই ওভারে খরুচে ছিলেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন ও মুস্তাফিজুর রহমানও।

অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ পাওয়ার প্লেতে বোলিং আনেনি কোনো স্পিনারকে।

মেডেনের রেকর্ডে মুস্তাফিজের সামনে কেবল বুমরাহ

ব্যবহৃত উইকেটে খেলা। আগের ম্যাচের উইকেটই স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। তাই কোন লাইন-লেংথে বোলিং করতে হবে সেটা আগেই বুঝতে পেরেছিল দল। সেই অনুযায়ী প্রথম ওভারে পাঁচটি ডট খেলান তাসকিন আহমেদ, অন্য বলে অবশ্য হজম করেন বাউন্ডারি।

মুস্তাফিজুর রহমান ৬ বলেই নিশানায় ছিলেন অটল। তার ওভারে লেগ বাই থেকে হয় একটি রান। কিন্তু ব্যাট থেকে হয়নি কোনো রান। তাতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ৭ মেডেনের রেকর্ডধারী জাসপ্রিত বুমরাহর সঙ্গে কমিয়েছেন ব্যবধান। স্পর্শ করেছেন ৬ মেডেন নিয়ে দুই নম্বরে থাকা নুয়ান কুলাসেকারাকে।

প্রথম আঘাত সাইফের

দারুণ এক ডেলিভারিতে কাইল কোয়েটজারকে থামালেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার বোল্ড করে দিলেন স্কটল্যান্ড অধিনায়ককে।

জায়গা করে নিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন কোয়েটজার। কিন্তু ঠিক লাইনে খেলতে পারেননি তিনি। ব্যাটের কানা এড়িয়ে আঘাত হানে অফ স্টাম্পে।

৭ বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি কোয়াটজার।

৩ ওভারে স্কটল্যান্ডের স্কোর ১ উইকেটে ৭। ক্রিজে জর্জ মানজির সঙ্গী ম্যাথু ক্রস।

লেগ স্পিনার নিয়ে স্কটল্যান্ড

পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে একটি ম্যাচ খেলা লেগ স্পিনার ক্রিস গ্রিভস জায়গা পেয়েছেন স্কটল্যান্ড দলে।

স্কটল্যান্ড একাদশ: কাইল কোয়েটজার (অধিনায়ক), রিচি বেরিংটন, ম্যাথু ক্রস, জশ ডেভি, ক্রিস গ্রিভস, মিচেল লিস্ক, ক্যালাম ম্যাকলেয়ড, জর্জ মানজি, সাফিয়ান শারিফ, মার্ক ওয়াট, ব্র্যাড হুইল।

জায়গা হারালেন নাঈম-নাসুম, তিন পেসার নিয়ে বাংলাদেশ

উইকেটে স্পিনারদের জন্য খুব বেশি সুবিধা নেই জানে বাংলাদেশ। তাই সাম্প্রতিক সময়ে দেশের মাটিতে খেলা কম্বিনেশনে পরিবর্তন এনে তিন পেসার নিয়ে খেলছে তারা। মুস্তাফিজুর রহমান ও মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের সঙ্গে তৃতীয় পেসার হিসেবে খেলছেন তাসকিন আহমেদ। বাদ পড়েছেন বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ।

স্ট্রাইক রেট নিয়ে সমালোচনার মধ্যে থাকা মোহাম্মদ নাঈম শেখ জায়গা হারিয়েছেন একাদশে। লিটন দাসের সঙ্গে ইনিংস উদ্বোধন করতে নামবেন সৌম্য সরকার।

বাংলাদেশ একাদশ: লিটন কুমার দাস, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ (অধিনায়ক), আফিফ হোসেন, নুরুল হাসান সোহান (উইকেটরক্ষক), শেখ মেহেদি হাসান, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ।

শিশিরের ভাবনায় ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ  

ওমান ‘এ’ দলের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সময় বাংলাদেশ টের পেয়েছিল শিশিরের একটা ভূমিকা থাকতে পারে রাতের ম্যাচে। সেই ভাবনা থেকে টস জিতে ফিল্ডিং নিলেন মাহমুদউল্লাহ। অধিনায়ক উইকেটে দেখছেন প্রচুর রানের হাতছানি।

আগে ব্যাটিংয়ে আপত্তি নেই স্কটল্যান্ড অধিনায়ক কাইল কোয়েটজারের। তার বিশ্বাস, শিশিরের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে বোলিং করতে পারবেন তারা।

দারুণ শুরুর আশায় বাংলাদেশ

ম্যাচের আগে মুখের বুলিতে স্কটল্যান্ড একের পর এক বাউন্সার ছুড়লেও ঠেকিয়ে গেছে বাংলাদেশ। জবাবটা মাঠেই দেওয়ার লক্ষ্যের কথা বলেছিলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। সেই সময় এখন দুয়ারে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি বাংলাদেশ। ওমানের আল আমেরাত স্টেডিয়ামে খেলা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায়।

দুই দলের আগের একমাত্র টি-টোয়েন্টিতে জিতেছিল স্কটল্যান্ড। এবারের আসরের প্রস্তুতি ম্যাচেও ভালো কিছু হয়নি। দুই হারের ধাক্কা সামাল দিয়ে নিজেদের সেরা ক্রিকেটে তাদের নজর।

অনেক ঘাটতি নিয়েই নামছেন মাহমুদউল্লাহ। পিঠের ব্যথায় অধিনায়ক নিজে খেলতে পারেননি কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ। বেশিরভাগ ব্যাটসম্যানই পাননি রান। ভালো শুরু দিতে পারছে না উদ্বোধনী জুটি। মন্থর ব্যাটিংয়ে সমালোচনার মুখে আছেন ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখ। ব্যাট হাতে ছন্দে নেই মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান।

স্পিনের জন্য খুব বেশি সহায়তা নেই এমন উইকেটে ভুগছেন নাসুম আহমেদ। ধারাবাহিকতা খুঁজছেন মুস্তাফিজুর রহমান। এই সব সমস্যা কাটিয়ে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরুর দিকে তাকিয়ে মাহমুদউল্লাহ।