পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

পিএনজিকে উড়িয়ে সুপার টুয়েলভে বাংলাদেশ

  • অনীক মিশকাত, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-10-21 15:34:43 BdST

ঠিক বাঁচা-মরার ম্যাচ না হলেও সুপার টুয়েলভের ভাগ্য নিজেদের হাতে রাখতে জয়ের বিকল্প ছিল না। এমন ম্যাচে অলরাউন্ড নৈপুণ্যে আলো ছড়ালেন সাকিব আল হাসান। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে আসরের দ্রুততম ফিফটি করলেন মাহমুদউল্লাহ। বোলারদের প্রায় সবাই রাখলেন অবদান। পাপুয়া নিউ গিনিকে উড়িয়ে পরের ধাপ নিশ্চিত করল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের রেকর্ড গড়া জয়

স্রেফ ৩ রানের জয় হলেই চলতো বাংলাদেশের। কিন্তু মাহমুদউল্লাহর দল কাজ সারল রেকর্ড গড়া জয়ে। বিশ্বকাপ তো বটেই রানের দিক থেকে টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সবচেয়ে বড় জয়ে জায়গা করে নিল সুপার টুয়েলভে। স্কটল্যান্ড ও ওমান ম্যাচের ফলের উপর নির্ভর করবে গ্রুপে তাদের অবস্থান।

'বি' গ্রুপের ম্যাচে পাপুয়া নিউ গিনিকে ৮৪ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ১৮১ রান তাড়ায় ৯৭ রানে গুটিয়ে গেছে আইসিসির সহযোগী দেশটি।

টি-টোয়েন্টি বাংলাদেশের আগের সবচেয়ে বড় জয় ছিল ৭১ রানে। ২০১২ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওই জয় পেয়েছিল তারা। আর বিশ্বকাপে তাদের সবচেয়ে বড় ছিল ৫৪ রানের, ২০১৬ আসরে ওমানের বিপক্ষে।  

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৮১/৭ (নাঈম ০, লিটন ২৯, সাকিব ৪৬, মুশফিক ৫, মাহমুদউল্লাহ ৫০, আফিফ ২১, সোহান ০, সাইফ ১৯*, মেহেদি ২*; মোরেয়া ৪-০-২৬-২, রাভু ৪-০-৪০-২, সোপের ৪-০-৫৩-০, বাউ ২-০-২০-০, ভালা ৩-০-২৬-২, আমিনি ২-০-৯-০, আটাই ১-০-৬-১)

পাপুয়া নিউ গিনি: ১৯.৩ ওভারে ৯৭ (সিয়াকা ৫, ভালা ৬, আমিনি ১, বাউ ৭, আটাই ০, হিরি ৮, ভানুয়া ০, ডরিগা ৪৬*, সোপের ১১, মোরেয়া ৩, রাভু ৫; সাইফ ৪-০-২১-২, মুস্তাফিজ ৪-০-৩৪-০, তাসকিন ৩.৩-১-১২-২, সাকিব ৪-০-৯-৪, মেহেদি ৪-০-২০-১)

মোরেয়ার রান আউটে জয়ের দুয়ারে বাংলাদেশ

ঝুঁকিপূর্ণ দুই রানের চেষ্টায় রান আউট হয়ে গেলেন কাবুয়া মোরেয়া। আফিফ হোসেন থ্রো স্টাম্প থেকে একটু দূরেই ছিল। কিন্তু ঝাঁপিয়ে ঠিকই বেলস ফেলে দেন নুরুল হাসান সোহান।

৬ বলে ৩ রান করেন মোরেয়া।

১৮ ওভারে পাপুয়া নিউ গিনির স্কোর ৯ উইকেটে ৮২।

সাইফের দ্বিতীয় উইকেট

একটা জুটির মতো গড়ে তুলেছিল পাপুয়া নিউ গিনি। বোলিংয়ে ফিরে সেটা ভেঙে দিলেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। চমৎকার এক ডেলিভারিতে বোল্ড করে দিলেন চাড সোপেরকে। ভাঙে ২৫ রানের জুটি।

১২ বলে এক ছক্কায় ১১ রান করেন সোপের।

১৫ ওভারে পাপুয়া নিউ গিনির স্কোর ৮ উইকেটে ৫৪।

সাকিবের চতুর্থ উইকেট

আবার অলরাউন্ড নৈপুণ্যে উজ্জ্বল সাকিব আল হাসান। ৪৬ রানের ইনিংস খেলার পর পেলেন চার উইকেট। বাঁহাতি স্পিনারের শেষ ওভারে স্লগ সুইপে ছক্কার চেষ্টায় নুরুল হাসান সোহানের গ্লাভসে ধরা পড়েন হিরি হিরি।

১৫ বলে তিনি করেন ৮।

১১ ওভারে পাপুয়া নিউ গিনির স্কোর ৭ উইকেটে ৩০।

উইকেট শিকারে মেহেদিও

স্কোর বোর্ডে রান নেই। উইকেট পড়ছে নিয়মিত। ছক্কায় চাপ সরিয়ে দিতে চাইলেন নরমান ভানুয়া। কিন্তু পারলেন না, মেহেদি হাসানের বলে ধরা পড়লেন মুশফিকুর রহিমের হাতে।

২ বলে শূন্য রান করেন ভানুয়া।

সেই ওভারে অফ স্পিনার মেহেদিকে চার মারেন হিরি হিরি। ম্যাচে পাপুয়া নিউ গিনির প্রথম চার।

১০ ওভারে পাপুয়া নিউ গিনির স্কোর ৬ উইকেটে ২৮।

সাকিবের তৃতীয় উইকেট

নিজের তৃতীয় ওভারে ফিরে আরেকটি উইকেট পেলেন সাকিব আল হাসান। বাঁহাতি স্পিনারকে ছক্কায় ওড়ানোর চেষ্টায় সীমানায় মোহাম্মদ নাঈম শেখের হাতে ধরা পড়লেন সেসে বাউ।

২১ বলে ৭ রান করেন তিনি।

৯ ওভারে পাপুয়া নিউ গিনির স্কোর ৫ উইকেটে ২৪। ক্রিজে হিরি হিরির সঙ্গী নরমান ভানুয়া।

সাকিবের তৃতীয় উইকেট

নিজের তৃতীয় ওভারে ফিরে আরেকটি উইকেট পেলেন সাকিব আল হাসান। বাঁহাতি স্পিনারকে ছক্কায় ওড়ানোর চেষ্টায় সীমানায় মোহাম্মদ নাঈম শেখের হাতে ধরা পড়লেন সেসে বাউ।

২১ বলে ৭ রান করেন তিনি।

৯ ওভারে পাপুয়া নিউ গিনির স্কোর ৫ উইকেটে ২৪। ক্রিজে হিরি হিরির সঙ্গী নরমান ভানুয়া।

এসেই সাকিবের জোড়া শিকার

তাসকিন আহমেদের মতো বোলিংয়ে এসেই উইকেট পেলেন সাকিব আল হাসানও। বাঁহাতি এই স্পিনারের বলে লং অনে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নিলেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ।

চার্লস আমিনি ছক্কায় স্বাগত জানাতে চেয়েছিলেন সাকিবকে। কিন্তু পাপুয়া নিউ গিনির সহ-অধিনায়ক পার করতে পারলেন না নাঈমকে। দৌড়ের মধ্যেই ঝাঁপিয়ে দুই হাতে ক্যাচ মুঠোয় রেখে তিনি নিশ্চিত করেন পা যেন স্পর্শ না করে সীমানা দড়ি।

২ বলে ১ রান করেন আমিনি।

দুই বল পর মেলে আরেকটি উইকেট। সাকিবকে স্লগ সুইপ করে আকাশে তুলে দেন সাইমন আটাই। স্কয়ার লেগে সহজ ক্যাচ মুঠোয় জমান মেহেদি হাসান।

পরের বলেই মিলতে পারত আরেকটি উইকেট। কিন্তু সেসে বাউয়ের কঠিন ক্যাচ মুঠোয় জমাতে পারেননি নুরুল হাসান সোহান।

৫ ওভারে পাপুয়া নিউ গিনির স্কোর ৪ উইকেটে ১৫। ক্রিজে সেসে বাউয়ের সঙ্গী হিরি হিরি।

সোহানের দারুণ ক্যাচে তাসকিনের উইকেট

লেগ স্টাম্পে তাসকিন আহমেদের শর্ট বল। আসাদ ভালা কিপারের পাশ দিয়ে পাঠাতে চেয়েছিলেন বাউন্ডারিতে। কিন্তু মাঝ পথেই থামিয়ে দিলেন নুরুল হাসান সোহান। লেগে ঝাঁপিয়ে এক হাতে গ্লাভসে জমালেন ক্যাচ।

পাপুয়া নিউ গিনি অধিনায়ক ভালা ৯ বলে করেন ৬।

৪ ওভারে পাপুয়া নিউ গিনির স্কোর ২ উইকেটে ১৩। উইকেট-মেডেন দিয়ে শুরু করলেন তাসকিন।

প্রথম আঘাত সাইফের

শেষের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে পাপুয়া নিউ গিনিকে এলোমেলো করে দিলেন যিনি, সেই মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনই বল হাতে হানলেন প্রথম আঘাত। দারুণ এক ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ করে দিলেন লেগা সিয়াকাকে।

অফ স্টাম্পে পড়ে ভেতরে ঢোকা বলে ফ্লিক করেন পাপুয়া নিউ গিনির ওপেনার। খেলতে পারেননি ব্যাটে। আম্পায়র এলবিডব্লিউ দিলে রিভিউ না নিয়েই ফিরে যান সিয়াকা। বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা গেছে, লেগ স্টাম্পের বাইরের দিকে লাগতো বল।

১০ বলে ৫ রান করেন সিয়াকা।

৩ ওভারে পাপুয়া নিউ গিনির স্কোর ১ উইকেটে ১৩। ক্রিজে আসাদ ভালার সঙ্গী চার্লস আমিনি।

সাইফের শেষের ঝড়ে বাংলাদেশ ১৮১

প্রথম ১০ ওভারে রান কেবল ৭১। সেখান থেকে বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে রানের গতি বাড়ালেন মাহমুদউল্লাহ। শেষটায় ঝড় তুললেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। শেষ তিন বলে তার দুই ছক্কা ও এক চারে ১৮০ ছাড়ায় বাংলাদেশের সংগ্রহ।

২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৮১ রান করেছে বাংলাদেশ। শেষ ১০ ওভারে তুলেছে ১১০ রান, শেষ ৫ ওভারে ৬৮।

৬ বলে দুই ছক্কা ও ১ চারে ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন সাইফ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৮১/৭ (নাঈম ০, লিটন ২৯, সাকিব ৪৬, মুশফিক ৫, মাহমুদউল্লাহ ৫০, আফিফ ২১, সোহান ০, সাইফ ১৯*, মেহেদি ২*; মোরেয়া ৪-০-২৬-২, রাভু ৪-০-৪০-২, সোপের ৪-০-৫৩-০, বাউ ২-০-২০-০, ভালা ৩-০-২৬-২, আমিনি ২-০-৯-০, আটাই ১-০-৬-১)

ছক্কার চেষ্টায় আউট আফিফ

কাবুয়া মোরেয়াকে ছক্কার ওড়ানোর চেষ্টায় সফল হলেন না আফিফ হোসেন। বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান ধরা পড়লেন ডেমিয়েন রাভুর হাতে। অনেক উঁচুতে ওঠে যাওয়া বলের নিচে যেতে পারেননি রাভু। কিন্তু শেষ সময়ে ঝাঁপিয়ে ঠিকই মুঠোয় জমান।

১৪ বলে তিন চারে ২১ রান করেন আফিফ।

১৯ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৭ উইকেটে ১৬১। ক্রিজে মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের সঙ্গী মেহেদি হাসান।

উঁচু ফুলটসে আউট মাহমুদউল্লাহ, গোল্ডেন ডাক সোহান

ডেমিয়েন রাভুর কোমড় উচ্চতার ফুলটস বল ঠিক মতো খেলতে পারলেন না মাহমুদউল্লাহ। ধরা পড়লেন সীমানায়। বিভ্রান্তি ছড়ালেন তৃতীয় আম্পায়ার। প্রথমে দিলেন নট আউট। ভিডিও দেখে বোঝা যাচ্ছিল, কোমড়ের নিচেই ছিল বল। পরে অবশ্য সিদ্ধান্ত পাল্টে দেন আউট।

অধিনায়ক থাকতে নিজেকে গুটিয়ে রাখা আফিফ হোসেন পরের দুই বলে মারেন দুটি বাউন্ডারি।

ওভারের শেষ বলে স্ট্রাইক পেয়ে শর্ট থার্ড ম্যানে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন নুরুল হাসান সোহান। এই কিপার-ব্যাটসম্যান পান গোল্ডেন ডাকের তেতো স্বাদ।

১৮ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৬ উইকেটে ১৫৩। ক্রিজে আফিফের সঙ্গী মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন।

ঝড় তুলে মাহমুদউল্লাহর ফিফটি

থমকে থাকা রানের গতিতে দম দিলেন মাহমুদউল্লাহ। ক্রিজে গিয়েই বোলারদের ওপর চড়াও হওয়া বাংলাদেশ অধিনায়ক ফিফটি করলেন কেবল ২৭ বলে। চলতি আসরে সব দল মিলিয়েই যা দ্রুততম।

চাড সোপেরের ওভারের প্রথম বলে ছক্কা মারার পর শেষ দুই বলে মাহমুদউল্লাহ মারেন ছক্কা ও চার। তাতেই অধিনায়ক পেয়ে যায় ফিফটি। এই সময়ে তার ব্যাট থেকে আসে তিনটি করে ছক্কা ও চার।

১৪ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৪ উইকেটে ১৪২। ক্রিজে মাহমুদউল্লাহর সঙ্গী আফিফ হোসেন। ৭ বলে তিনি খেলছেন ৬ রান নিয়ে।

ছক্কার পর অক্কা সাকিব

আসাদ ভালার মাথার ওপর দিয়ে এক হাতে দারুণ ছক্কা মারলেন সাকিব আল হাসান। এক বল আবার ছক্কার চেষ্টায় মারলেন উড়িয়ে। কিন্তু এবার তত দূর গেল না বল। লং অনে একটু এগিয়ে সামনের দিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ মুঠোয় জমালেন চার্লস আমিনি।

৩৭ বলে তিন ছক্কায় ৪৬ রান করেন সাকিব।

১৪ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৪ উইকেটে ১০৪। ক্রিজে মাহমুদউল্লাহর সঙ্গী আফিফ হোসেন।

পুলে ভুল করে আউট মুশফিক

মন্থর শর্ট বল, লেগ সাইটে পাঠানো সম্ভব যে কোনো জায়গায়। হাতে সময় ছিল অঢেল। মুশফিকুর রহিম তুলে দিলেন ডিপ স্কয়ার লেগ ফিল্ডারের হাতে!

বলটা ছিল ছক্কা মারার মতোই। কিন্তু সাইমন আটাইয়ের বলে পুলে ভুল করে আউট হলেন মুশফিক। দ্বিতীয় চেষ্টায় ক্যাচ মুঠোয় জমান হিরি হিরি।

৮ বলে ৫ রান করেন মুশফিক।

১১ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৩ উইকেটে ৭৭। ক্রিজে সাকিব আল হাসানের সঙ্গী মাহমুদউল্লাহ।

সুযোগ হাতছাড়া লিটনের

থিতু হয়ে গিয়েছিলেন লিটন দাস। মনে হচ্ছিল ছন্দও ফিরে পাচ্ছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত খেলতে পারলেন না বড় ইনিংস, স্লগ সুইপে ছক্কার চেষ্টায় ফিরে গেলেন ডানহাতি এই ওপেনার।

আসাদ ভালার প্রথম বলটি ছিল অফ স্টাম্পের একটু বাইরে। শাফল করে স্লগ সুইপ করেন লিটন। ঠিক মতো টাইমিং করতে পারেননি তিনি। ২০ গজ দৌড়ে এসে চমৎকার স্লাইডিং ক্যাচ মুঠোয় জমান সেসে বাউ। ভাঙে ৪১ বল স্থায়ী ৫০ রানের জুটি।

২৩ বলে একটি করে ছক্কা ও চারে ২৯ রান করেন লিটন।

৮ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ২ উইকেটে ৫৪। ক্রিজে সাকিব আল হাসানের সঙ্গী মুশফিকুর রহিম।

পাওয়ার প্লেতে রান

অবশেষে পাওয়ার প্লেতে রানের দেখা পেল বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো পাওয়ার প্লেতে ৩০ এর বেশি রান পেল তারা।

৬ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ১ উইকেটে ৪৫। কিছুটা রানের দেখা পেলেও তাদের ব্যাটিং নিয়ে সংশয় কাটেনি। পাওয়ার প্লেতে এসেছে স্রেফ তিনটি বাউন্ডারি, দুই ছক্কা ও একটি চার।

তৃতীয় ওভারে চাড সোপেরকে স্লগ সুইপ করে ফাইন লেগে ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকান লিটন দাস। ইনিংসে বাংলাদেশের প্রথম বাউন্ডারি। পরের ওভারে লং অনের ওপর দিয়ে ডেমিয়েন রাভুকে ছক্কায় ওড়ান সাকিব। বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানের প্রথম বাউন্ডারি। সেই ওভারেই মিস ফিল্ডিংয়ে একটি চার পান লিটন।

২০ বলে ২৭ রান নিয়ে খেলছেন লিটন। ১৪ বলে সাকিবের রান ১৫।

শূন্যতেই শেষ নাঈম

প্রথম বলের ক্যাচে হতে হতে হলো না। ব্যাটের কানা ছুঁয়ে পড়ল উইকেটরক্ষকের একটু সামনে। পরের বলেই ক্যাচ গেল ফিল্ডারের হাতে। ম্যাচের দ্বিতীয় বলেই উইকেট হারাল বাংলাদেশ। ফিরে গেলেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ।

কাবুয়া মোরেয়ার লেগ স্টাম্পের বাইরের হাফ ভলি অনায়াসেই হতে পারতো ছক্কা। বাঁহাতি ওপেনার নাঈমের ফ্লিক খুঁজে পেল ডিপ স্কয়ার লেগে থাকা সেসে বাসকে। বেশ কিছুটা দৌড়ে ঝাঁপিয়ে ক্যাচ মুঠোয় জমান তিনি।

১ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ১ উইকেটে ৩। ক্রিজে লিটন দাসের সঙ্গী সাকিব আল হাসান।

পাপুয়া নিউ গিনি দলে দুই পরিবর্তন

হারানোর কিছু নেই, টসের সময় বললেন পাপুয়া নিউ গিনি অধিনায়ক আসাদ ভালা। টেস্ট দলের বিপক্ষে খেলার বিরল সুযোগ কাজে লাগাতে উন্মুখ তারা। 

দলে এসেছেন হিরি হিরি ও ডেমিয়েন রাভু। বাদ পড়েছেন টনি উরা ও নোসাইনা পোকানা।

পাপুয়া নিউগিনি একাদশ: আসাদ ভালা, চার্লস আমিনি, লেগা সিয়াকা, সেসে বাউ, নরমান ভানুয়া, সাইমন আটাই, চাড সোপের, কিপলিং ডরিগা, হিরি হিরি, কাবুয়া মোরেয়া, ডেমিয়েন রাভু।

একই একাদশ নিয়ে বাংলাদেশ

ওমানকে হারানো দলে কোনো পরিবর্তন আনেনি বাংলাদেশ। পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে খেলছে একই একাদশ নিয়ে। টিকে গেছেন টানা দুই ম্যাচে ব্যর্থ লিটন দাস ।

বাংলাদেশ একাদশ: লিটন কুমার দাস, মোহাম্মদ নাঈম শেখ, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ (অধিনায়ক), আফিফ হোসেন, নুরুল হাসান সোহান (উইকেটরক্ষক), শেখ মেহেদি হাসান, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

প্রাথমিক পর্বে টানা তৃতীয়বারের মতো টস জিতলেন মাহমুদউল্লাহ। বাংলাদেশ অধিনায়ক নিলেন ব্যাটিং। উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য খুব ভালো মনে হয়েছে মাহমুদউল্লাহর। বড় স্কোর করে পাপুয়া নিউ গিনিকে চাপে ফেলার লক্ষ্য তার।

ছোট জয়ই বাংলাদেশের জন্য যথেষ্ট

ওমানের বিপক্ষে জিতে স্বস্তি ফিরেছে বাংলাদেশ দলে। শ্বাস ফেলার জায়গা পেয়েছে দল। পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে ছোট জয়ই সুপার টুয়েলভে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট। তবে রান রেট যতটা সম্ভব বাড়িয়ে নেওয়ারও একটা লক্ষ্য থাকবে তাদের।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বৃহস্পতিবার গ্রুপ পর্বে নিজেদের সবশেষ ম্যাচে পিএনজির মুখোমুখি বাংলাদেশ। ওমানের আল আমেরাত স্টেডিয়ামে এই ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা ৪টায়।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৬ রানে হার দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করা বাংলাদেশ পরের ম্যাচে হারায় ওমানকে। এই ম্যাচে লম্বা একটা সময় শঙ্কায় ছিল মাহমুদউল্লাহর দল। শেষ পর্যন্ত বোলারদের নৈপুণ্যে জেতে পরিষ্কার ব্যবধানে। শক্তি-সামর্থ্যে পিছিয়ে থাকা পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে বড় জয়ই প্রত্যাশিত।