পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

এই ম্যাচও বাঁচাতে পারল না বাংলাদেশ

  • ক্রীড়া প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-12-08 09:21:08 BdST

মিরপুর টেস্টের আড়াই দিন ভেসে যাওয়ার পরও ইনিংস ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ।

পাকিস্তান প্রথম ইনিংস: ৩০০/৪ (ডি.)

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৮৭

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস (ফলো-অনের পর): ২০৫

পাকিস্তানের নায়ক সাজিদ

প্রথম ইনিংসে ৮টির পর দ্বিতীয় ইনিংসে সাজিদ খানের শিকার ৪ উইকেট। ম্যাচে তিনি নিলেন মোট ১২৮ রানে ১২ উইকেট, বাংলাদেশের বিপক্ষে যা টেস্টে চতুর্থ সেরা বোলিং।

সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজের জুটিতে যখন উজ্জ্বল বাংলাদেশের ম্যাচ বাঁচানোর আশা, তখনই বাবর আজমের বলে অযথা সুইপ করতে গিয়ে উইকেট হারান মিরাজ। এরপর সাজিদ এসেই ভাঙেন সাকিবের প্রতিরোধ। ১৩০ বল খেলে সাকিব করেন ৬৩ রান। এরপর শেষ উইকেটও নিয়ে পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করেন সাজিদই।

ম্যান অব দা ম্যাচও তিনিই।

পাকিস্তানের উল্লাস, বাংলাদেশের হতাশা

ম্যাচের সময় বাকি ছিল আধ ঘণ্টার বেশি। তবে আলোকস্বল্পতায় অত ওভার হতো না নিশ্চিতভাবেই। ওভারের হিসেবে বাকি ছিল ৫.২ ওভার। হয়তো এই ৫ ওভারও হতো না। কিন্তু আরেকটু সময় ম্যাচ টেনে নিতে পারল না বাংলাদেশ। ইনিংস ও ৮ রানের জয়ে ২-০ ব্যবধানেই পাকিস্তান জিতে নিল নিল।

ম্যাচের প্রথম চারদিনে খেলা হয়েছে সব মিলিয়ে দেড় দিনেরও কম। বৃষ্টিবিঘ্নিত সেই ম্যাচও হারার পথ খুঁজে নিল বাংলাদেশ।

সিরিজ থেকে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পূর্ণ ২৪ পয়েন্ট পেল পাকিস্তান। বাংলাদেশের প্রথম পয়েন্ট পাওয়ার আশা গেল চূর্ণ হয়ে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৩০০/৪ (ডি.)

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৩২ ওভারে ৮৭ (সাদমান ৩, মাহমুদুল ০, শান্ত ৩০, মুমিনুল ১, মুশফিক ৫, লিটন ৬, সাকিব ৩৪, মিরাজ ০, তাইজুল ০, খালেদ ০, ইবাদত ০* ; আফ্রিদি ৪-৩-৩-১, নুমান ১২-২-৩৩-০, সাজিদ ১৫-৪-৪২-৮, বাবর ১-০-১-০)।

বাংলাদেশ ২য় ইনিংস (ফলো-অনের পর): ৮৪.৪ ওভারে ওভারে ২০৫ (সাদমান ২, মাহমুদুল ৬, শান্ত ৬, মুমিনুল ৭, মুশফিক ৪৮, লিটন ৪৫, সাকিব ৬৩, মিরাজ ১৪, তাইজুল ৫, খালেদ ০, ইবাদত ০*; আফ্রিদি ১৫-৫-৩১-২, হাসান ১১-৩-৩৭-২, নুমান ২০-৫-৪১-০, ফাহিম ৪-৪-০-০, সাজিদ ৩২.৪-৮-৮৬-৪, বাবর ২-১-১-১)।

পারল না বাংলাদেশ

শেষ জুটি খানিকটা লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত পারল না ম্যাচ বাঁচাতে। তাইজুল ইসলামকে এলবিডব্লিউ করে পাকিস্তানকে জয়ের আনন্দে ভাসালেন সাজিদ খান।

ঝুলিয়ে দেওয়া ডেলিভারি পিচ করার পর স্কিড করে ভেতরে ঢোকে। পেছনের পায়ে খেলার চেষ্টায় ব্যাটে-বলে করতে পারেননি তাইজুল। আবেদনে আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার মাইকেল গফ। রিভিউ নিয়ে রক্ষায় হয়নি তাইজুলের।

তিনি আউট ৩১ বলে ৫ রান করে। শেষ জুটি শেষ হলো ৩৪ বল খেলে। পাকিস্তান ম্যাচ জিতে নিল ইনিংস ও ৮ রানে।

টিকলেন না খালেদ

লোয়ার অর্ডারে লড়াই করতে পারলেন না সৈয়দ খালেদ আহমেদ। সাজিদ খানের অফ স্টাম্প ঘেঁষা ফ্লাইটেড ডেলিভারিতে ব্যাট পেতে দিলেন তিনি, ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল গেল কিপারের গ্লাভসে।

শূন্য রানে আউট হলেন খালেদ, ম্যাচে তার দ্বিতীয় শূন্য এটি। সাজিদ পেলেন ম্যাচে ১১ উইকেট।

বাংলাদেশের রান ৯ উইকেটে ২০৪।

পারলেন না সাকিবও

মিরাজকে হারানোর পর শেষ ভরসা হয়ে থাকা সাকিব আল হাসানও পারলেন না দলকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যেতে। তাকে বোল্ড করে  ম্যাচে দশম শিকার ধরলেন সাজিদ খান।

সাজিদের জোরের ওপর করা ডেলিভারি পিচ করে সোজা হয়ে যায় স্টাম্পের দিকে। সাকিব পেছনে পায়ে দাঁড়িয়ে ডিফেন্স করার চেষ্টায় লাইন মিস করেন পুরোপুরি। বল ছোবল দেয় অফ স্টাম্পে।

সাকিবের দীর্ঘ লড়াই শেষ হলো ১৩০ বলে ৬৩ রান করে। বাংলাদেশ পরাজয়ের মুখে, রান ৮ উইকেটে ২০০।

ফলো-অন এড়াতে প্রয়োজন আরও ১৩ রান।

বাবর-বিস্ময়

এই ম্যাচের আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৮৯ ম্যাচ খেলে কখনও বোলিং করেননি বাবর আজম। সেই তিনিই এবার পেয়ে গেলেন উইকেটের স্বাদ। মেহেদী হাসান মিরাজকে ফিরিয়ে ভাঙলেন পাকিস্তানের বাধা হয়ে থাকা জুটি।

প্রথম ইনিংসে এক ওভার বোলিং করেছিলেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে বোলিংয়ে এলেন ৭৬তম ওভারে। তার লেংথ বল সুইপ করতে গিয়ে লাইন মিস করলেন মিরাজ। বল লাগল প্যাডে। আম্পায়ার আউট না দেওয়ায় রিভিউ নিল পাকিস্তান। রিভিউয়ে দেখা গেল, বল লাগছিল মিডল স্টাম্পে!

৭০ বলে ১৪ রান করে শেষ হলো মিরাজের প্রতিরোধ। জুটি ভাঙল ১৩৯ বলে ৫১ রানের জুটি।

সপ্তম জুটির ফিফটি

বাংলাদেশের ম্যাচ বাঁচানোর লড়াই চলছে সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাটে। সপ্তম উইকেটে দুজনের জুটিতে ৫০ রান এসে গেছে ১৩৪ বলে।

রান বাড়ানোর কাজটি করেছেন মূলত সাকিব। জুটিতে তার অবদান ৩৭। এক প্রান্ত আগলে রেখে মিরাজের অবদান রান ১৩।

সাকিবের পঞ্চাশ

প্রথম ইনিংসে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়া সাকিব দ্বিতীয় ইনিংস চালিয়ে যাচ্ছেন লড়াই। সাজিদ খানের বলে সিঙ্গেল নিয়ে তিনি পা রেখেছেন পঞ্চাশে। ৮৯ বলে এসেছে তার ফিফটি।

টেস্ট ক্রিকেটে এটি তার ২৬তম ফিফটি, সেঞ্চুরি আছে ৫টি। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫ টেস্টে এটি চতুর্থ ফিফটি, সেঞ্চুরি আছে একটি। ফিফটি ছোঁয়ার সময় পাকিস্তানের বিপক্ষে তার ব্যাটিং গড় ৭০.৭১।

সাকিবের রেকর্ড ডাবল

সাজিদ খানের বলে দারুণ ড্রাইভে বাউন্ডারি মেরে সাকিব আল হাসান পা রাখলেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ৪ হাজার রানে। দারুণ এক ডাবলও অর্জন করলেন তিনি রেকর্ড গড়ে।

টেস্টে ২১৫টি উইকেটও আছে সাকিবের। ৪ হাজার রান ও ২০০ উইকেটের ‘ডাবল’ তিনি পূর্ণ করলেন টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুততায়। ৫৯ টেস্টে ধরা দিল তার এই অর্জন। ৬৯ টেস্টে এই ডাবল ছুঁয়ে আগের রেকর্ড ছিল ইংলিশ কিংবদন্তি ইয়ান বোথামের।

সাকিব ও বোথাম ছাড়া এই ডাবল আছে আর কেবল ৪ জনের-জ্যাক ক্যালিস, গ্যারি সোবার্স, কপিল দেব ও ড্যানিয়েল ভেটোরি।

বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে সাকিব পেলেন ৪ হাজার রানের দেখা। তার আগে এই মাইলফলকের দেখা পেয়েছেন তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম।

চা-বিরতি

মুশফিকের আউটের সঙ্গেই এলো চা-বিরতির ঘোষণা। শেষ মুহূর্তে অস্বস্তি নিয়ে বিরতিতে গেল বাংলাদেশ, পাকিস্তান এগিয়ে গেল ম্যাচ জয়ের পথে আরেক ধাপ।

চা বিরতিতে রান ৬ উইকেটে ১৪৭। ইনিংস হার এড়াতে প্রয়োজন আরও ৬৬ রান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (শেষ দিন চা-বিরতি পর্যন্ত):

পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৩০০/৪ (ডি.)

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৩২ ওভারে ৮৭ (আগের দিন ৭৬/৭) (সাদমান ৩, মাহমুদুল ০, শান্ত ৩০, মুমিনুল ১, মুশফিক ৫, লিটন ৬, সাকিব ৩৪, মিরাজ ০, তাইজুল ০, খালেদ ০, ইবাদত ০* ; আফ্রিদি ৪-৩-৩-১, নুমান ১২-২-৩৩-০, সাজিদ ১৫-৪-৪২-৮, বাবর ১-০-১-০)।

বাংলাদেশ ২য় ইনিংস (ফলো-অনের পর): ৫২.১ ওভারে ১৪৭/৬ (সাদমান ২, মাহমুদুল ৬, শান্ত ৬, মুমিনুল ৭, মুশফিক ৪৮, লিটন ৪৫, সাকিব ২৫*; আফ্রিদি ৯-৩-১৮-২, হাসান ১০-৩-৩২-২, নুমান ১২.১-২-৩০-০ ফাহিম ৪-৪-০-০, সাজিদ ১৭-২-৫৯-১)।

রান আউটে কাটা পড়লেন মুশফিক

মুশফিক যখন ফিফটির অপেক্ষায়, সাকিবের সঙ্গে তার জুটিও পঞ্চাশের দুয়ারে, তখনই বড় ধাক্কা। দুর্ভাগ্যজনক রান আউটে বিদায় নিলেন মুশফিক।

নুমান আলির বলে ক্রিজ ছেড়ে একটু বেরিয়ে মিড উইকেটে আলতো করে ঠেলেই রান নিতে ছোটেন সাকিব। সাড়া দেন মুশফিকও। ফিল্ডার আব্দুল্লাহ শফিক দ্রুতই বল কুড়িয়ে ফেরত পাঠান। কিপার মোহাম্মদ রিজওয়ান উড়িয়ে দেন বেলস। মুশফিক শেষ মুহূর্তে ডাইভ দেন রান আউট থেকে রক্ষা পেতে। ক্রিজে তিনি পৌঁছেও যান। তবে গড়বড় হয় অন্য জায়গায়। রিজওয়ান বেল ফেলে দেওয়ার সময় মুশফিকের ব্যাট ছিল সামান্য ওপরে!

ক্রিজের ভেতরে পৌঁছার পর ব্যাট ওপরে উঠলে কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু বাইরে থেকে ব্যাট উঁচু হয়ে ঢোকে ভেতরে। বলা যায় তার দুর্ভাগ্য। তবে চা বিরতির আগে শেষ ওভারে এবং ম্যাচ বাঁচানোর লড়াইয়ে এমন ঝুঁকিপূর্ণ রান কেন নিতে হবে, সেই প্রশ্নও উঠে যায়।

১৩৬ বলে ৪৮ রান করে আউট হলেন মুশফিক। সাকিবের সঙ্গে তার জুটি থামল ৪৯ রানে। বাংলাদেশের রান ৬ উইকেটে ১৪৭।

বাংলাদেশের একশ

প্রথম ইনিংসে ৮৭ রানে গুটিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে তিন অঙ্কের দেখা পেল। হাসান আলির বলে সাকিবের দুই রানে ৩৪.৩ ওভারে দলের রান স্পর্শ করল একশ।

বাজে শটে লিটনের বিদায়

লিটন কুমার দাস ও মুশফিকুর রহিমের জুটি যখন জমে উঠেছে, বাংলাদেশকে মনে হচ্ছে নিয়ন্ত্রণে, তখনই লিটন ডেকে আনলেন নিজের পতন। আলগা শটে তিনি উইকেট উপহার দিলেন সাজিদ খানকে।

সাজিদের বলটি ছিল একদমই শর্ট বল। টার্ন করে ঢুকছিল ভেতরে। অন সাইডে যে কোনো জায়গায় অনায়াসে খেলতে পারতেন লিটন। কিন্তু বল যতটা বাজে, লিটনের শট হলো আরও বাজে। বলটি টেনে পুল করে তিনি ক্যাচিং অনুশীলন করালেন স্কয়ার লেগে। শুরুতে হাত থেকে ফসকে গেলেও পরে ফাওয়াদ আলম পরমুহূর্তেই তালুবন্দি করেন বল।

স্বচ্ছন্দে খেলতে থাকা লিটন আউট হলেন ৮১ বলে ৪৫ রান করে। মুশফিকের সঙ্গে তার জুটি থামল ৭৩ রানে। সাজিদ পেলেন ম্যাচে নবম উইকেটের দেখা।

নতুন ব্যাটসম্যান সাকিব আল হাসান।

মুশফিক-লিটনের জুটিতে পঞ্চাশ

নবম ওভারে ২৫ রানের মধ‍্য ৪ উইকেট হারানো হারানো বাংলাদেশকে টানছেন মুশিফকুর রহিম ও লিটন দাস। ৯০ বলে তাদের জুটি ছুঁয়েছে পঞ্চাশ।

প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে এই দুই ব‍্যাটসম‍্যান উপহার দিয়েছিলেন ২০৬ রানের জুটি। এবার লড়াই করছেন ম‍্যাচ বাঁচাতে।

জুটিতে অগ্রণী লিটন, তার ব‍্যাট থেকে এসেছে ৩১। মুশফিকের অবদান ১৬।

লাঞ্চের আগে প্রতিরোধ

২৫ রানের মধ্যে প্রথম চার ব্যাটসম্যানকে হারানোর পর কিছুটা স্বস্তি নিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে যেতে পেরেছে বাংলাদেশ। শুরুর বিপর্যয়ের পর খানিকটা প্রতিরোধ গড়তে পেরেছেন মুশফিকুর রহিম ও লিটন কুমার দাস। আগের টেস্টে দুইশ রানের জুটি গড়া দুই ব্যাটসম্যান এবার এখনও পর্যন্ত যোগ করেছেন ৪৭ রান।

৪ উইকেটে ৭২ রান নিয়ে লাঞ্চে গেছে বাংলাদেশ।

ইনিংস হার এড়াতে বাংলাদেশের এখনও প্রয়োজন ১৪১ রান।

পাকিস্তানের হয়ে নতুন বলে আগুনে বোলিংয়ে শাহিন শাহ আফ্রিদি ও হাসান আলি নেন দুটি করে উইকেট। পরে চার ওভার বোলিংয়ে একটি রানও দেননি তৃতীয় সিমার ফাহিম আশরাফ। তবে দুই স্পিনার এখনও পর্যন্ত খুব ভালো করতে পারেনি। প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেট শিকারি সাজিদ খান দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটা করতে পারেননি ভালো।

লাঞ্চের পর লিটন শুরু করবেন ২৭ রানে, ১৬ রানে মুশফিক।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (শেষ দিন লাঞ্চ পর্যন্ত):

পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৩০০/৪ (ডি.)

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৩২ ওভারে ৮৭ (আগের দিন ৭৬/৭) (সাদমান ৩, মাহমুদুল ০, শান্ত ৩০, মুমিনুল ১, মুশফিক ৫, লিটন ৬, সাকিব ৩৪, মিরাজ ০, তাইজুল ০, খালেদ ০, ইবাদত ০* ; আফ্রিদি ৪-৩-৩-১, নুমান ১২-২-৩৩-০, সাজিদ ১৫-৪-৪২-৮, বাবর ১-০-১-০)।

বাংলাদেশ ২য় ইনিংস (ফলো-অনের পর): ২৩ ওভারে ৭২/৪ (সাদমান ২, মাহমুদুল ৬, শান্ত ৬, মুমিনুল ৭, মুশফিক ১৬*, লিটন ২৭*; আফ্রিদি ৫-২-১০-২, হাসান ৫-২-১২-২, নুমান ৭-১-২২-০ ফাহিম ৪-৪-০-০, সাজিদ ২-০-২০-০)।

এবার গেলেন শান্ত

নাজমুল হাসান শান্তর জন্য দুটি গালি রেখে বোলিং করছিলেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। সেই পরিকল্পনা সফল হলো দারুণভাবে। একটি গালিতেই ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন শান্ত।

আফ্রিদির ডেলিভারিটি লেংথ থেকে লাফিয়ে ওঠে খানিকটা। সেটি সামলানোর সামর্থ্য ছিল না শান্তর। তিনি চেষ্টা করেন সফট হ্যান্ডে খেলার, তবে তার পরও বল রাখতে পারেননি নিচে। গালিতে সহজ ক্যাচ নেন ফাওয়াদ আলম।

১১ বলে ৬ করে আউট শান্ত। বাংলাদেশ ৪ উকেটে ২৫।

পারলেন না মুমিনুলও

দলের প্রয়োজনের সময় হাল ধরতে পারলেন না মুমিনুল হকও। হাসান আলি পেলেন দ্বিতীয় উইকেটের দেখা।

রাউন্ড দা উইকেটে করা ডেলিভারি অ্যাঙ্গেলে ভেতরে ঢোকে বাঁহাতি মুমিনুলের জন্য। ব্যাট আনতে একটু দেরি করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, বল লাগে প্যাডে। আবেদনে আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার। রিভিউ নেন মুমিনুল।

রিভিউয়ে তৃতীয় আম্পায়ার সময় নেন অনেকটা। বল আগে ব্যাটে লেগেছে নাকি প্যাডে, সেটি বুঝতে রিপ্লে দেখেন তিনি বারবার। শেষ পর্যন্ত অবশ্য রক্ষা পাননি মুমিনুল। বরং রিভিউ হারায় বাংলাদেশ।

মুমিনুল বিদায় নিলেন ৮ বলে ৭ রানে। বাংলাদেশ ফলো-অনের পর ধুঁকছে ১৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে।

টিকলেন না সাদমান

শাহিন শাহ আফ্রিদির বোলিংয়ের জবাব পেলেন না সাদমান ইসলাম। ম্যাচ বাঁচানোর লড়াইয়ে বাংলাদেশ দুই ওপেনারকে হারাল দ্রুতই।

শাহিনের দারুণ ডেলিভারি ও সাদমানের পায়ের কাজের দুর্বলতা মিলিয়েই এই উইকেট। ১৪২ কিলোমিটার গতির বলটি লেংথ থেকে ভেতরে ঢোকে তীক্ষ্ণভাবে। সাদমানের পা নড়েনি খুব একটা, জোড়াপায়ে ডিফেন্স করার চেষ্টায় তিনি ব্যর্থ হণ। বল লাগে পায়ে। আবেদনে আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার। রিভিউ নেননি সাদমান। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল লাগছিল বেলসে।

১৫ বলে ২ রানে আউট সাদমান। বাংলাদেশ ফলো-অনের পর ২ উইকেটে ১২।

আবারও ব্যর্থ মাহমুদুল

প্রথম ইনিংসের মতো শূন্য রানে আউট হননি মাহমুদুল হাসান জয়। তবে খুব বেশিক্ষণ টিকতেও পারলেন না। অভিষেকে দ্বিতীয় ইনিংসে আউট হলেন তিনি ৬ রানে। প্রথম ইনিংসে বোলিং না পাওয়া হাসান আলি পেলেন ম্যাচে প্রথম উইকেটের দেখা।

হাসান আলির লেংথ ডেলিভারি খানিকটা ভেতরে ঢোকে অ্যাঙ্গেলে। খুব দুর্দান্ত কোনো ডেলিভারি নয়। তবে মাহমুদুল ব্যাট-প্যাডের মধ্যে বিশাল ফাঁক রেখে ড্রাইভ খেলার চেষ্টা করেন আলসেভাবে। বল ফাঁক গলে ছোবল দেয় স্টাম্পে।

অভিষেকে বলার মতো কিছু করতে পারলেন না মাহমুদুল। ফলো-অনের পর বাংলাদেশ প্রথম উইকেট হারাল ১২ রানে।

রেকর্ড বইয়ে সাজিদ

৪২ রানে ৮ উইকেট, পাকিস্তানের টেস্ট ইতিহাসের চতুর্থ সেরা বোলিং পারফরম্যান্স এটি, অফ স্পিনারদের মধ্যে তাদের ইতিহাসের সেরা।

আব্দুল কাদিরের ৫৬ রানে ৯ উইকেট পাকিস্তানের সেরা বোলিং, দ্বিতীয় সেরা সরফরাজ নওয়াজের ৮৬ রানে ৮ উইকেট, এরপর ইয়াসির শাহর ৪১ রানে ৮ উইকেট।

অফ স্পিনে আগের সেরা বোলিং ছিল পাকিস্তানের এখনকার প্রধান কোচ সাকলায়েন মুশতাকের ১৬৪ রানে ৮ উইকেট।

বাংলাদেশের বিপক্ষেও এটি টেস্টে সব দল মিলিয়ে সেরা বোলিং। আগের সেরা ছিল ২০০৬ সালে ফতুল্লায় স্টুয়ার্ট ম্যাকগিলের ১০৮ রানে ৮ উইকেট।

ফলো-অনে বাংলাদেশ

আগের দিনের ৭৬ রানের সঙ্গে স্রেফ আর ১১ রান যোগ করেই শেষ বাংলাদেশের ইনিংস। এড়ানো গেল না ফলো-অন। অনুমিতভাবেই বাংলাদেশকে আবার ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছে পাকিস্তান।

রেকর্ড সর্বনিম্ন রান

দেশের মাঠে নিজেদের সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড স্পর্শ করল বাংলাদেশ। ২০০২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অলআউট হয়েছিল তারা ৮৭ রানে।

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে একশর নিচে গুটিয়ে যাওয়া এটিই প্রথম। আগের সর্বনিম্ন ছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০১৮ সালে ১১০।

৮৭ রানেই শেষ

শেষ পর্যন্ত ফলো-অন এড়াতে পারল না বাংলাদেশ। শেষ ভরসা ছিলেন যিনি, সেই সাকিব আল হাসানই আউট হলেন শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে। তাকে ফিরিয়ে সাজিদ খান ধরলেন অষ্টম শিকার।

সাজিদের একটি বলে বাউন্ডারি মারার পরের বলেই ডাউন দা উইকেট খেলতে যান সাকিব। তা দেখে লেংথ খাটো করে দেন সাজিদ। সাকিব চালিয়ে দেন ব্যাট। শর্ট কাভারে ক্যাচ নেন আজহার আলি।

ইনিংসের সর্বোচ্চ ৩৪ রান করে ফিরলেন সাকিব। বাংলাদেশ অলআউট ৮৭ রানেই।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৩০০/৪ (ডি.)

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৩২ ওভারে ৮৭ (আগের দিন ৭৬/৭) (সাদমান ৩, মাহমুদুল ০, শান্ত ৩০, মুমিনুল ১, মুশফিক ৫, লিটন ৬, সাকিব ৩৪, মিরাজ ০, তাইজুল ০, খালেদ ০, ইবাদত ০* ; আফ্রিদি ৪-৩-৩-১, নুমান ১২-২-৩৩-০, সাজিদ ১৫-৪-৪২-৮, বাবর ১-০-১-০)।

খালেদ এলেন ও গেলেন

শাহিন শাহ আফ্রিদির তোপের সামনে টিকতে পারলেন না সৈয়দ খালেদ আহমেদ। রাউন্ড দা উইকেটে দুর্দান্ত ইয়র্কার করেন বাঁহাতি ফাস্ট বোলার। ব্যাট পেতে দিয়েও বল ঠেকাতে পারেননি খালেদ।

খালেদ ফিরলেন ২ বলে শূন্য রানে। বাংলাদেশ ৯ উইকেটে ৭৭।

রিভিউ হারাল পাকিস্তান

শাহিন শাহ আফ্রিদির ফুল লেংথ বল ঠিকমতো খেলতে পারেননি সাকিব আল হাসান। বল তার প্যাডে আঘাত করে পরে লাগে প্যাডে। আবেদনে আউট দেননি আম্পায়ার। পাকিস্তান নেয় রিভিউ। তবে রিভিউয়ে দেখা যায়, বল চলে যাচ্ছিল লেগ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে।

রিভিউ হারাল পাকিস্তান।

শুরুতেই তাইজুলের বিদায়

রোদ-ঝলমলে দিনে পাকিস্তান বোলিং আক্রমণ শুরু করে শাহিন শাহ আফ্রিদির পেস দিয়ে। তবে উইকেট ধরা দিল স্পিনেই। দিনের দ্বিতীয় ও নিজের প্রথম ওভারেই সাজিদ খান ফেরালেন তাইজুল ইসলামকে।

সাজিদ খানের ঝুলিয়ে দেওয়া লেংথ বল টার্ন করে করে উইথ দা আর্ম ভেতরে ঢোকে একটু। তাইজুলের ডিফেন্সকে ফাঁকি দিয়ে বল লাগে প্যাডে। আবেদনে আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার।

তাইজুল বাঁচতে পারেননি রিভিউ নিয়েও। বরং রিভিউ হারায় বাংলাদেশ।

১৬ বলে শূন্য করে আউট হলেন তাইজুল। বাংলাদেশ ৮ উইকেটে ৭৬।

উজ্জীবিত পাকিস্তান

নিষ্প্রাণ ম্যাচেও প্রাণ ফিরিয়ে আনার পর পাকিস্তান শেষ দিন শুরু করবে দারুণ এক জয়ের আশায়। বাংলাদেশের ৭ উইকেটের ৬টিই নিয়েছেন যিনি, সেই সাজিদ খান চতুর্থ দিন শেষে সরাসরিই বলেছেন, শেষ দিনে বাংলাদেশের ১৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ জিততে চান তারা।

শঙ্কা নিয়ে অপেক্ষায় বাংলাদেশ

প্রকৃতির আঁধার কেটে গেলেও বাংলাদেশের ড্রেসিং রুম এখন ডুবে অন্ধকারে। প্রথম চার দিনের মধ্যে ওভারের হিসেবে আড়াই দিনের বেশি খেলা হয়নি, তার পরও সামনে ঝুলছে হারের খড়গ।

৪ উইকেটে ৩০০ রানে পাকিস্তান প্রথম ইনিংস ঘোষণার পর বাংলাদেশ চতুর্থ দিন শেষ করে ৭ উইকেটে ৭৬ রান নিয়ে। ফলো-অন এড়াতেই প্রয়োজন আরও ২৫ রান!

উইকেটে সাকিব আল হাসানের সঙ্গী তাইজুল ইসলাম। ফলো-অন এড়াতে না পারলে বাংলাদেশের হারের শঙ্কাও প্রবল হয়ে উঠবে আরও।

উজ্জ্বল সকাল

প্রকৃতির প্রতিবন্ধকতায় টানা চারদিনের খেলা বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর অবশেষে একটি পূর্ণাঙ্গ দিন পাওয়ার আশা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আকাশে ঝলমলে রোদ। কালো মেঘের ছায়া নেই একটুও। উইকেটে নেই কাভার। ছোট রোলার দিয়ে আম্পায়ারের তত্ত্বাবধানে চলছে হালকা রোলিং।

দুই দলই সময়মতো চলে এসেছে মাঠে। চলছে গা-গরম করা, হালকা ব্যাটিং-বোলিং অনুশীলনেরপ পালা।

চতুর্থ দিন শেষে সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৯৮.৩ ওভারে ৩০০/৪ (ডি.) (আগের দিন ১৮৮/২) (আবিদ ৩৯, শফিক ২৫, আজহার ৫৬, বাবর ৭৬, ফাওয়াদ ৫০*, রিজওয়ান ৫৩*; ইবাদত ২৩-৩-৮৮-১, খালেদ ১৭.৩-৫-৪৯-১, সাকিব ১৯-৭-৫২-০, তাইজুল ২৫-৬-৭৩-২, মিরাজ ১৪-২-৩৭-০)।

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৬ ওভারে ৭৬/৭ (সাদমান ৩, মাহমুদুল ০, শান্ত ৩০, মুমিনুল ১, মুশফিক ৫, লিটন ৬, সাকিব ২৩*, মিরাজ ০, তাইজুল ০*; আফ্রিদি ১-০-১-০, নুমান ১২-২-৩৩-০, সাজিদ ১২-৩-৩৫-৬, বাবর ১-০-১-০)।