পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

শেষ বেলার ২ উইকেটে এগিয়ে বাংলাদেশ

  • হাসিবুল করিম, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2022-05-18 09:46:38 BdST

চট্টগ্রাম টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে ২৯ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ।

চতুর্থ দিন

শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ৩৯৭

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১৭০.১ ওভারে ৪৬৫

শ্রীলঙ্কা ২য় ইনিংস: ১৭.১ ওভারে ৩৯/২

 

এগিয়ে থেকে দিন শেষ করল বাংলাদেশ

তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমের দারুণ দুটি সেঞ্চুরির পরও বাংলাদেশকে বড় লিড নিতে দিল না শ্রীলঙ্কা। তবে তাদের সেই স্বস্তিতে ধাক্কা হয়ে এলো শেষ বেলায় দুই উইকেট হারানো। তাই শেষ পর্যন্ত এগিয়ে থেকেই দিনটি শেষ করল স্বাগতিকরা।

চট্টগ্রাম টেস্টের চতুর্থ দিন লঙ্কানরা শেষ করেছে ২ উইকেট হারিয়ে ৩৯ রান তুলে। প্রথম ইনিংসে ৬৮ রানের লিড নেওয়া বাংলাদেশ থেকে তারা পিছিয়ে ২৯ রানে।

৪৫ বলে ২ চারে ১৮ রানে অপরাজিত থেকে বুধবার দিন শেষ করেন দিমুথ করুনারত্নে। তাইজুল ইসলামের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নামা লাসিথ এম্বুলদেনিয়া বোল্ড হলে শেষ হয় দিনের খেলা।

১৮তম ওভারের প্রথম বলে তাইজুলের টার্নে পরাস্ত হন বাঁহাতি এম্বুলদেনিয়া। পা বাড়িয়ে ডিফেন্স করার চেষ্টায় বলের লাইন মিস করেন তিনি। ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে বল ছোবল দেয় ২২ বলে ২ রান করা এম্বুলদেনিয়ার স্টাম্পে।

তাইজুলের হাত ধরেই প্রথম সাফল্য পায় বাংলাদেশ। ওপেনার ওশাদা ফার্নান্দোকে দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট করে দেন এই বাঁহাতি স্পিনার।

এর আগে দিনের শুরুটা ভালোই ছিল বাংলাদেশের। ১০৫ করে দলকে টানেন মুশফিকুর রহিম। ৮৮ রানের ইনিংস খেলেন লিটন দাস। ১১৩ রানে থামেন তামিম ইকবাল। সব মিলিয়ে ৪৬৫ রান করে বাংলাদেশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ৩৯৭

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১৭০.১ ওভারে ৪৬৫/৯ (আগের দিন ৩১৮/৩) (তামিম ১৩৩, মুশফিক ১০৫, লিটন ৮৮, সাকিব ২৬, নাঈম ৯, তাইজুল ২০, শরিফুল ৩ রিটায়ার্ড হার্ট, খালেদ ০*; বিশ্ব ৮-০-৪২-০, আসিথা ২৬-৪-৭২-৩, রমেশ ৪৫-১০-১১৯-০, এম্বুলদেনিয়া ৪৭-৯-১০৪-১, ধনঞ্জয়া ১৯-২-৪৮-১, রাজিথা ২৪.১-৬-৬০-৪, কুসল মেন্ডিস ১-০-৮-০)

শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় ইনিংস: ১৭.১ ওভারে ৩৯/২ (ওশাদা ১৯, করুনারত্নে ১৮*, এম্বুলদেনিয়া ২; নাঈম ৯-৩-২১-০, খালেদ ১-০-৬-০, সাকিব ৬-৩-১২-০, তাইজুল ১.১-১-০-১)

রিভিউ নিয়ে বাঁচলেন এম্বুলদেনিয়া

আরেকটি উইকেট পেতে পারত বাংলাদেশ। আম্পায়ার আঙুলও তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রিভিউ নিয়ে বেঁচে গেলেন লাসিথ এম্বুলদেনিয়া।

তাইজুল ইসলামের করা ষোড়শ ওভারের চতুর্থ বল পা বাড়িয়ে খেলেন এম্বুলদেনিয়া। কিন্তু টার্নের কারণে ব্যাটে ঠিকমতো খেলতে পারেননি। বল জমা পড়ে দ্বিতীয় স্লিপের ফিল্ডারের হাতে। মনে হচ্ছিল, ব্যাট ছুঁয়ে প্যাডে লেগে ক্যাচ হয়েছে।

ক্যাচের আবেদনে সাড়াও দেন আম্পায়ার। অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নের সঙ্গে কথা বলে রিভিউ নেন এম্বুলদেনিয়া।

আল্ট্রা-এজে ব্যাটে বলের কোনো স্পর্শ পাওয়া যায়নি। বেঁচে যান ২ রানে থাকা এম্বুলদেনিয়া।

তাইজুলের সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট ওশাদা

তাইজুল ইসলামের হাত ধরে প্রথম সাফল্য পেল বাংলাদেশ। সরাসরি থ্রোয়ে ওশাদা ফার্নান্দোকে রান আউট করে ফেরালেন এই স্পিনার।

সাকিব আল হাসানের করা দ্বাদশ ওভারে পঞ্চম বলটি মিড-উইকেটে খেলেন দিমুথ করুনারত্নে। রানের সুযোগ ছিল সামান্যই। কিন্তু নন-স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা ওশাদা দৌড় দেন রানের জন্য।

অনেকদূর চলে যাওয়া ব্যাটসম্যানকে না করেন লঙ্কান অধিনায়ক। কিন্তু সময়ে ফিরে যেতে পারেননি ওশাদা।

ততক্ষণে মিড উইকেট থেকে দুর্দান্ত ফিল্ডিং করে সরাসরি থ্রোতে নন-স্ট্রাইক প্রান্তের স্টাম্প ভেঙে দেন তাইজুল।

১৭ রানে খেলছেন করুনারত্নে, সঙ্গে উইকেটে নাইটওয়াচম্যান লাসিথ এম্বুলদেনিয়া।

একটুর জন্য আউট হলেন না করুনারত্নে

নাঈম হাসানকে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে মারতে যান দিমুথ করুনারত্নে। ব্যাটে-বলে ঠিকমতো সংযোগ না হওয়ায় ক্যাচের মতো যায় বোলারের কাছেই। বল মুঠোয় জমিয়ে উইকেটের উল্লাসে মাতেন নাঈম।

ইনিংসের সপ্তম ওভারের ঘটনা এটি। নিশ্চিত হতে সফট সিগন্যাল ‘আউট’ দিয়ে টিভি আম্পায়ারের কাছে পাঠান মাঠের আম্পায়ার। কিন্তু রিপ্লেতে দেখা যায় বল মাটিতে স্পর্শ করেছে। ফলে টিকে যান করুনারত্নে।

সে সময় ১২ রানে খেলছিলেন লঙ্কান অধিনায়ক।

৯ ওভার শেষ শ্রীলঙ্কার রান কোনো উইকেট না হারিয়ে ২৯। করুনারত্নে খেলছেন ১৫ রানে, ওশাদা ফার্নান্দোর রান ১৪।

শরিফুলের চোটে শেষ বাংলাদেশের ইনিংস

পাঁচ ওভার আগে কাসুন রাজিথার একটি বল আঘাত করেছিল হাতে। তখন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ব্যাটিং চালিয়ে যান শরিফুল ইসলাম। কিন্তু কয়েক ওভার পর ব্যথা মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে মাঠ ছেড়ে যান তিনি। তাতে শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।

শরিফুল রিটায়ার্ড আউট হওয়ায় ১৭০.১ ওভারে ৪৬৫ রানে থামে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। সফরকারীদের চেয়ে তারা এগিয়ে ৬৮ রানে।  
 

শরিফুল খেলছিলেন ৩ রানে, তার সঙ্গে সৈয়দ খালেদ আহমেদ অপরাজিত ছিলেন কোনো রান না করে।

বড় লিড নেওয়ার যে প্রত্যাশা নিয়ে চতুর্থ দিন শুরু করেছিল বাংলাদেশ, তা পূরণ হয়নি। তবে ব্যক্তিগত সাফল্য ধরা দিয়েছে তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিমের হাতে।

তামিম খেলেন ১৩৩ রানের ঝকঝকে এক ইনিংস। ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরিতে ১০৫ রানের ইনিংস খেলেন মুশফিক। গড়েন বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ৫ হাজার টেস্ট রান করার কীর্তি।

দারুণ ব্যাটিং করলেও অল্পের জন্য সেঞ্চুরি ছুঁতে পারেননি লিটন কুমার দাস। ৮৮ রানে ফেরেন তিনি।

শ্রীলঙ্কার হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন বিশ্ব ফার্নান্দোর কনকাশন সাব হিসেবে খেলতে নামা কাসুন রাজিথা। ৪ উইকেট নেন তিনি ৬০ রান দিয়ে। আসিথা ফার্নান্দোর প্রাপ্তি তিন উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ৩৯৭

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১৭০.১ ওভারে ৪৬৫ (আগের দিন ৩১৮/৩) (তামিম ১৩৩, মুশফিক ১০৫, লিটন ৮৮, সাকিব ২৬, নাঈম ৯, তাইজুল ২০, শরিফুল ৩ রিটায়ার্ড আউট, খালেদ ০*; বিশ্ব ৮-০-৪২-০, আসিথা ২৬-৪-৭২-৩, রমেশ ৪৫-১০-১১৯-০, এম্বুলদেনিয়া ৪৭-৯-১০৪-১, ধনঞ্জয়া ১৯-২-৪৮-১, রাজিথা ২৪.১-৬-৬০-৪, কুসল মেন্ডিস ১-০-৮-০)

ফিরলেন তাইজুল

শর্ট বলে আরেকটি শিকার ধরলেন আসিথা ফার্নান্দো। তাইজুল ইসলামের বিদায়ে শেষের দুয়ারে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশের ইনিংস।

১৭০তম ওভারের দ্বিতীয় বলটি শর্ট করেন আসিথা। ব্যাট চালিয়ে দেন তাইজুল। তবে ঠিকমতো করতে পারেননি ব্যাটে-বলে। কানায় লেগে সহজ ক্যাচ যায় ফাইন লেগের ফিল্ডার চামিকা করুনারত্নের হাতে।

৩ চারে ৪৫ বলে ২০ রান করে ফিরলেন নয় নম্বরে নামা এই ব্যাটসম্যান।

শেষ জুটিতে এখন উইকেটে আছেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম। ৩ রান নিয়ে খেলছেন শরিফুল, এখনও রানের খাতা খুলতে পারেননি খালেদ।

১৭০ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ৯ উইকেট হারিয়ে ৪৬৫। লঙ্কানদের চেয়ে ৬৮ রানে এগিয়ে তারা।

জীবন পেলেন শরিফুল

আরেকটি উইকেট পেতে পারতেন ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা। কিন্তু শরিফুল ইসলামের ক্যাচ মুঠোয় জমাতে পারলেন না কিপার নিরোশান ডিকভেলা।

অফ স্টাম্পের বাইরের বল পা বাড়িয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেন শরিফুল। ব্যাটের বাইরের কানা নিয়ে বল যায় কিপারের কাছে। কিন্তু তা লুফে নিতে পারেননি ডিকভেলা। তখনও রানের খাতা খোলেননি শরিফুল।

রিভিউ নিয়ে বাঁচলেন তাইজুল

নাঈম হাসান ফেরার পরের বলেই আউট হতে পারতেন তাইজুল ইসলাম। তবে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।

কাসুন রাজিথার করা ১৬৫তম ওভারের প্রথম বল প্যাডে আঘাত করে তাইজুলের। আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার। সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নেন তাইজুল।

রিপ্লেতে দেখা যায় লেগ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে যেত বল। তাইজুল তখন ৮ রানে খেলছিলেন।

নাঈমের বিদায়

অনেকটা সময় উইকেটে কাটানো নাঈম হাসানকে ফিরিয়ে দিলেন ধনাঞ্জয়া দি সিলভা। ৫৩ বলে ৯ রান করে অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে বিদায় নিলেন নাঈম।

অফ স্টাম্পে পিচ করা বাড়তি লাফিয়ে ওঠা বল ঠেকানোর চেষ্টা করেন নাঈম। ব্যাটে লেগে সহজ ক্যাচ যায় শর্ট লেগে কুসল মেন্ডিসের হাতে।

উইকেটে তাইজুলের সঙ্গী শরিফুল ইসলাম।

সুইপ করে বোল্ড মুশফিক

প্রিয় শটই আবারও কাল হলো মুশফিকুর রহিমের জন্য। সুইপ করে বোল্ড হয়ে গেলেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান। তাতে সেঞ্চুরির পর আর ইনিংস বড় করা হলো না তার।

চা-বিরতির পর তৃতীয় ওভারেই সাফল্য পেল শ্রীলঙ্কা। লাসিথ এম্বুলদেনিয়ার করা ১৫৮তম ওভারের প্রথম বলেই ধরা দিল মুশফিকের উইকেট।

লেগ স্টাম্পের একটু বাইরে পিচ করা বল প্যাডল সুইপ করেন মুশফিক। কিন্তু ব্যাটে খেলতে পারেননি। বাঁহাতি স্পিনারের বল হালকা সুইং করে ভেঙে দেয় লম্বা সময় উইকেটে কাটানো মুশফিকের লেগ স্টাম্প।

ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি করে মুশফিক থামলেন ১০৫ রান করে। ২৮২ বল স্থায়ী ইনিংসে চার মারেন তিনি স্রেফ চারটি। কতটা ধৈর্য নিয়ে গড়েছিলেন ইনিংস, এটাই তার প্রমাণ।

উইকেটে নাঈম হাসানের সঙ্গী তাইজুল ইসলাম।

৩ উইকেট হারানোর সেশন

সাবধানী ব্যাটিংয়ে দিনের প্রথম সেশন ভালোভাবেই পার করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় সেশনের তারা হারিয়ে বসে ৩ উইকেট। তাতে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। ঘুরে দাঁড়ায় শ্রীলঙ্কা।

চা-বিরতিতে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের রান ৬ উইকেটে ৪৩৬। সফরকারীদের চেয়ে তারা এগিয়ে ৩৯ রানে।

ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি করে মুশফিকুর রহিম খেলছেন ১০৪ রানে। তাকে সঙ্গ দেওয়া নাঈম হাসানের রান ৪।

লাঞ্চের পর কাসুন রাজিথার বোলিংয়ে নড়ে যায় বাংলাদেশের শক্ত ভিত। পরপর দুই বলে লিটন কুমার দাস ও তামিম ইকবালকে ফিরিয়ে দেন এই পেসার।

দারুণ বোলিং করে যাচ্ছেন আসিথা ফার্নান্দোও। তার শিকার দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় থাকা সাকিব আল হাসান।

নাঈমকে নিয়ে দলের লিড বাড়াচ্ছেন মুশফিক। কতদূর টেনে নিতে পারেন দলকে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

দ্বিতীয় সেশনে খেলা হয়েছে স্রেফ ২১ ওভার। এই সময় বাংলাদেশ রান তুলেছে ৫১।

মুশফিকের শতক

আসিথা ফার্নান্দোর সঙ্গে মুশফিকুর রহিমের যেন আলাদা একটা লড়াই চলছিল। দুইজনের শরীরী ভঙ্গিতে মাঠে ছড়িয়েছিল উত্তেজনা। ৯৭ রান থেকে এই পেসারকেই চার মেরে কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরি তুলে নেন মুশফিক। উদযাপনটাও অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যানের তাই ছিল কিছুটা খ্যাপাটে।

আসিথার একের এক শর্ট বল ডিফেন্ড করে যাচ্ছিলেন মুশফিক। এবার একটু বেশি লেগ সাইডে বল দিয়ে বসেন লঙ্কান পেসার। সুযোগ হাতছাড়া করেননি মুশফিক। আলতো করে ব্যাট ছুঁয়ে বল পাঠান ফাইন লেগ দিয়ে বাউন্ডারিতে।

ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে ২৭০ বলে তিন অঙ্কে পা রাখেন মুশফিক। টেস্ট ক্যারিয়ারে যা তার অষ্টম শতক, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয়।

এর আগে সবশেষ মুশফিক সেঞ্চুরি করেছিলেন ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এরপর কেটে গেছে ১৮ ইনিংস। মাঝে একবার নব্বইয়ের ঘরে গেলেও ছুঁতে পারেননি শতকের উষ্ণ ছোঁয়া।

আঙুলে ব্যথা পেলেন নাঈম

প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের যেন শর্ট বলেই কাবু করার পন করে নেমেছেন আসিথা ফার্নান্দো। এই পেসারের শর্ট বলে এবার আঙুলে ব্যথা পেলেন নাঈম হাসান।

১৪৯তম ওভারের শেষ বলটি নাঈমের শরীর তাক করে ছোঁড়েন আসিথা। কোনোমতে ঠেকিয়ে দেন নাঈম। বল লাগে তার ডান হাতের আঙুলে।

চিকিৎসক এসে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন তাকে। এখন ব্যাটিং চালিয়ে যাচ্ছেন নাঈম।

দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় ফিরলেন সাকিব

শুরু থেকেই দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় থাকা সাকিব আল হাসান টিকলেন না বেশিক্ষণ। ২৫ রান করে সাজঘরের পথ ধরলেন অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার।

একের পর এক শর্ট বল করে যাওয়া আসিথা ফার্নান্দো সাফল্য পেলেন শর্ট বলেই। ১৪৭তম ওভারের প্রথম বলটি সাকিবের শরীর সোজা করেন এই পেসার। র‍্যাম্প শট খেলার চেষ্টা করেন সাকিব। কিন্তু ব্যাটে-বলে ঠিকমতো করতে পারেননি।

ব্যাটের কানা নিয়ে সহজ ক্যাচ যায় কিপার নিরোশান ডিকভেলার গ্লাভসে।

৯৩ রানে খেলছেন মুশফিকুর রহিম। উইকেটে তার সঙ্গী নাঈম হাসান।

সাকিবের হেলমেটে বলের আঘাত

আসিথা ফার্নান্দোর শর্ট বল লেগ সাইডে খেলার চেষ্টায় ব্যাটে লাগাতে পারেননি সাকিব। বল ছোবল দেয় হেলমেটের সামনের অংশে থাকা গ্রিলে।

পরে প্রোটোকল অনুযায়ী মাঠে এসে সাকিবকে পর্যবেক্ষণ করে যান চিকিৎসক। গুরুতর কিছু নয়। ব্যাটিং চালিয়ে যাচ্ছেন সাকিব।

সাকিব-মুশফিকের ব্যাটে এগোচ্ছে বাংলাদেশ

দিনের প্রথম সেশন ভালোভাবে পার করা বাংলাদেশ দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই খায় জোড়া ধাক্কা। পরপর দুই বলে হারায় তারা লিটন কুমার দাস ও তামিম ইকবালকে।

দ্রুত দুই উইকেট হারানো দলকে টানছেন মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসান। দ্বিতীয় সেশনের প্রথম ঘণ্টায় আর বিপদ হতে দেননি তারা।

এই সময়ে ১০ ওভারে রান এসেছে ৩৩।

দেখেশুনে খেলে মুশফিক আছেন ৯১ রানে। সাকিব রান করছেন দ্রুত গতিতে। ৩৬ বলে ৩ চারে ২৪ রান নিয়ে খেলছেন তিনি।

দুইজনের অবিচ্ছিন্ন জুটি ৩৪ রানের।

বাংলাদেশের লিড

১৪০তম ওভারের চতুর্থ বলটি মিড-অফে ঠেলে দিয়ে সিঙ্গেল নিলেন সাকিব আল হাসান। এই রানেই শ্রীলঙ্কার ৩৯৭ রান পেরিয়ে গেল বাংলাদেশ। সফরকারীদের বিপক্ষে নিল লিড।

ওভারটি শেষে বাংলাদেশের রান ৫ উইকেটে ৪০১। স্বাগতিকরা এগিয়ে ৪ চারে।

৮৯ রানে ব্যাটিং করছেন মুশফিকুর রহিম। সাকিব খেলছেন ১১ রান নিয়ে।

মাঠ ছাড়লেন আম্পায়ার কেটেলবরো

১৩৯তম ওভার শেষে হুট করেই মাঠ ছেড়ে উঠে গেছেন আম্পায়ার রিচার্ড কেটেলবরো। তার জায়গায় মাঠে এসেছেন তৃতীয় আম্পায়ারের দায়িত্বে থাকা জো উইলসন।

অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন সাকিব

নেমেই উইকেট হারাতে বসেছিলেন সাকিব আল হাসান। তবে শেষ পর্যন্ত ক্যাচ আউট হতে হতেও বেঁচে যান বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।

১৩৮তম ওভারের শেষ বলটি লেগ স্টাম্পে করেন রমেশ মেন্ডিস। সাকিবের ব্যাট থেকে বল যায় শর্ট লেগ ফিল্ডারের হাতে। উল্লাসে মেতে ওঠেন লঙ্কান ক্রিকেটাররা।

ক্যাচ হয়েছে কিনা নিশ্চিত হতে সফট সিগন্যাল নটআউট দিয়ে তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে সিদ্ধান্তের জন্য পাঠান আম্পায়ার রিচার্ড কেটেলবরো।

মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের মতো জোরাল প্রমাণ পাননি তৃতীয় আম্পায়ার জো উইলসন। টিকে যান সাকিব। তখন ৭ রানে খেলছিলেন তিনি।

বাজে শটে ফিরলেন লিটন, নেমেই বোল্ড তামিম

লাঞ্চের পর প্রথম দুই বলে ম‍্যাচের গতিপথ পাল্টে দিলেন কাসুন রাজিথা। লিড নেওয়ার দুয়ারে থাকা বাংলাদেশকে নাড়িয়ে দিলেন পরপর দুই বলে লিটন দাস ও তামিম ইকবালকে বিদায় করে।

যে আত্মবিশ্বাস ও মনোযোগ নিয়ে ব্যাটিং করছিলেন লিটন, বিরতিতে গিয়ে যেন চিড় ধরল সেখানে। রাজিথার করা অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের বল জায়গায় দাঁড়িয়ে তাড়া করে বিপদ ডেকে আনলেন তিনি। ব্যাটের কানায় লেগে বল জমা পড়ল কিপার নিরোশান ডিকভেলার গ্লাভসে।

প্রথম সেশনে উইকেটের খোঁজে থাকা লঙ্কানরা মাতল উল্লাসে। ১৮৯ বলে ১০ চারে ৮৮ রান করা লিটনের বিদায়ে ভাঙল ৩৭৪ বল স্থায়ী ১৬৪ রানের জুটি।

আগের দিন হাতের ক্র্যাম্পে চা-বিরতির পর ব্যাটিংয়ে না নামা তামিম নেমেই ফিরে গেলেন প্রথম বলে। বিশ্ব ফার্নান্দোর কনকাশন সাব হিসেবে খেলা রাজিথার বল যেন বুঝতেই পারলেন না অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান।

ড্রাইভ করার চেষ্টায় সুইং করে ভেতরে ঢোকা বলের লাইন পুরোপুরি মিস করলেন তামিম। তার ব্যাট প্যাডের ফাঁক গলে বল আঘাত হানল মিডল-স্টাম্পে। ১৫ চারে ২১৭ বলে করা ১৩৩ রানের সঙ্গে কোনো রান যোগ করতে পারেননি তামিম।

উইকেটে মুশফিকের সঙ্গী সাকিব আল হাসান।

প্রথম সেশনে মন্থর ব‍্যাটিং

উইকেট পড়েনি একটিও। তবে রানও আসেনি প্রত্যাশা মতো। লিটন কুমার দাস ও মুশফিকুর রহিম নিরাপদে প্রথম সেশন কাটিয়ে দিলেও রান তুলতে পারেননি দ্রুত গতিতে।

চতুর্থ দিনের লাঞ্চ বিরতির সময় বাংলাদেশের রান ৩ উইকেটে ৩৮৫। শ্রীলঙ্কার ৩৯৭ রান পেরিয়ে লিড নিতে স্বাগতিকদের চাই আর কেবল ১৩ রান।

বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে ৫ হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়ে মুশফিক খেলছেন ৮৫ রানে। দারুণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যাটিং করা লিটনের রান ৮৮। দুইজনেই এগোচ্ছেন সেঞ্চুরিতে চোখ রেখে।

চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনে খেলা হয়েছে ২৭ ওভার। এই সময় ওভার প্রতি মোটে আড়াই করে রান এসেছে। স্রেফ তিনটি চারে বাংলাদেশ রান তুলতে পেরেছে ৬৭।

সবগুলো বাউন্ডারিই এসেছে প্রথম ঘণ্টায়। যার দুটি লিটনের ব্যাট থেকে, একটি মারেন মুশফিক। বৃষ্টির বাধায় আধঘণ্টা দেরিতে খেলা শুরু হওয়া দিনে প্রথম ঘণ্টায় ১৪ ওভারে আসে ৩৮ রান।

দ্বিতীয় ঘণ্টায় কমে যায় রানের গতি। এই সময় ১৩ ওভারে মুশফিক-লিটন রান করেন ২৯।

শেষ রিভিউও হারাল শ্রীলঙ্কা

উইকেট আসছে না, তেমন কোনো সুযোগও তৈরি হচ্ছে না। ধীরে হলেও লিডের পথেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। উইকেটের জন‍্য তাই মরিয়া শ্রীলঙ্কা। তাই হয়তো তৃতীয় ও শেষ রিভিউটাও খরচ করে ফেলার ঝুঁকি নিলেন দিমুথ করুনারত্নে। কাজে লাগল না তা, ফের রিভিউয়ে ব‍্যর্থ হলেন লঙ্কান অধিনায়ক।

রমেশ মেন্ডিসের করা ১২৯তম ওভারের শেষ বলটি লিটন দাসের প্যাডে আঘাত হানলে জোরাল আবেদন করে লঙ্কানরা। কিন্তু সাড়া দেননি আম্পায়ার। পরে রিপ্লেতে দেখা যায়, বল বেরিয়ে যেত লেগ স্টাম্পের পাশ দিয়ে। বাংলাদেশের তিনটি রিভিউ এখনও অটুট কিন্তু শ্রীলঙ্কার নেই একটিও।

তখন ৮৪ রানে খেলছিলেন লিটন। মুশফিকের রান ৭৯। ১২৯ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ৩৭৫।

৫ হাজারে প্রথম মুশফিক

দারুণ এক কীর্তি গড়লেন মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে ৫ হাজার রানের মাইলফলকে পা রাখলেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান।

তৃতীয় দিন ব্যাটিংয়ে নামার সময় মাইলফলক থেকে ৬৮ রান দূরে ছিলেন মুশফিক। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ফিফটি করে এগিয়ে যান তিনি। চতুর্থ দিন খেলতে নামেন ৫ হাজার থেকে ১৫ রান দূরে থেকে।

এদিন বেশ সাবধানী ছিলেন মুশফিক। প্রথম ঘণ্টায় করেন কেবল ১৪ রান। পানি-পানের বিরতির পর প্রথম ওভারেই কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছে যান তিনি। ৮১ ম্যাচ ও ১৪৯ ইনিংসে এলো তার ৫ হাজার রান।

মুশফিকের আগে বাংলাদেশের হয়ে এই কীর্তি গড়ার সুযোগ ছিল তামিম ইকবালের সামনে। ক্র্যাম্পের কারণে গতকাল চা-বিরতির পর ব্যাটিংয়ে নামেননি ১৩৩ রান করা এই ওপেনার। টেস্টে বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানের রান এখন ৪ হাজার ৯৮১।

মুশফিক ও লিটনের ব্যাটে লিডের পথে ছুটছে বাংলাদেশ। ১২৩ ওভারে দলের রান ৩৬১। সফরকারীদের চেয়ে তারা পিছিয়ে আর কেবল ৩৬ রানে।

৭০ রানে খেলছেন মুশফিক, আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে এগিয়ে চলা লিটন কুমার দাসের রান ৭৯।

প্রথম ঘণ্টায় সাবধানী ব‍্যাটিং

ছন্দে থেকেই যেন মাঠে নামলেন লিটন কুমার দাস। মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই চার মেরে দিন শুরু করলেন তিনি। পরে তার ব্যাট থেকে এসেছে আরও একটি বাউন্ডারি। অপরপ্রান্তে সাবধানে এগোচ্ছেন মুশফিকুর রহিম।

চতুর্থ দিনের প্রথম ঘণ্টা নিরাপদেই পার করে দিলেন আগের দিনের অপরাজিত এই দুই ব্যাটসম্যান। এই সময়ে ১৪ ওভার খেলা হয়েছে, ৩ চারে রান এসেছে ৩৮।

৫৪ রান নিয়ে দিন শুরু করা লিটন খেলছেন ৭৭ রানে, মুশফিক ব্যাট করছেন ৬৭ রান নিয়ে। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে ৫ হাজার রানের কীর্তি গড়া থেকে স্রেফ এক রান দূরে অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান।

১২১ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ৩৪৭। শ্রীলঙ্কা থেকে ৪১ রান পিছিয়ে স্বাগতিকরা।

খেলা শুরু, জুটির সেঞ্চুরি

ইনিংসে আরেকটি শতরানের জুটি পেল বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিম ও লিটন কুমার দাসের চতুর্থ উইকেটের এই জুটি সেঞ্চুরি স্পর্শ করল ২১৩ বলে।

৯৮ রানে অবিচ্ছিন্ন থেকে তৃতীয় দিন শেষ করেছিলেন এই দুই ব্যাটসম্যান। বৃষ্টির বাগড়ার পর চতুর্থ দিন খেলা শুরু হলে প্রথম ওভারেই পৌঁছে যান তারা জুটির শতকে।

আধঘণ্টা দেরিতে খেলা শুরু হওয়ায় সেশনগুলোর সময়ও পিছিয়ে গেছে। প্রথম সেশন হবে সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। ৪০ মিনিটের লাঞ্চ বিরতির পর শুরু হবে দ্বিতীয় সেশন। চলবে ৩টা ১০ পর্যন্ত। ২০ মিনিটের চা-বিরতির পর খেলা চলবে সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত।

বৃষ্টির বাধায় খেলা শুরু হতে দেরি

ভোর থেকে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয় চট্টগ্রামে। তাতে খেলা শুরু হতে দেরি হওয়ার শঙ্কা জাগে। খানিকবাদেই হুট করে বদলে যায় প্রকৃতি। ৯.৪০ এর দিকে একটু একটু করে কাভার সরানো শুরু করেন মাঠ কর্মীরা।

মিনিট পাঁচেক পর ঝকঝকে রোদ উঠে যায়। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা দারুণ। তাই দ্রুতই প্রস্তুত হয়ে যায় মাঠ।

আধ ঘণ্টা দেরিতে সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হবে চতুর্থ দিনের খেলা।

বড় লিডে চোখ

তামিম ইকবালের সেঞ্চুরি আর তিন ফিফটিতে চট্টগ্রাম টেস্টের লাগাম অনেকটাই বাংলাদেশের হাতে। বুধবার বড় লিড নিয়ে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় মুমিনুল হকের দল। এরপর চেপে ধরতে চায় শ্রীলঙ্কাকে।

৩ উইকেট হারিয়ে ৩১৮ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করে বাংলাদেশ। সফরকারীদের প্রথম ইনিংসের রান পেরিয়ে যেতে স্বাগতিকদের চাই স্রেফ আর ৮০ রান।

১৩৪ বলে ২ চারে ৫৩ রানে খেলছেন মুশফিকুর রহিম। দারুণ ছন্দে থাকা লিটন দাস রান ১১৩ বলে ৮ চারে ৫৪। এই দুইজনের অবিচ্ছিন্ন জুটি ৯৮ রানের।

পায়ে ক্র‍্যাম্পের জন‍্য চা-বিরতির পর আর মাঠে নামেননি তামিম। তবে তৃতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলন ব‍্যাটিং কোচ জেমি সিডন্স জানান, ক্র‍্যাম্প ছাড়া আর কোনো সমস‍্যা নেই বাঁহাতি এই ওপেনারের। প্রয়োজন হলে চতুর্থ দিন ব‍্যাটিংয়ে নামবেন তিনি।

আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় শ্রীলঙ্কা

ম‍্যাচ দাঁড়িয়ে রোমাঞ্চকর এক বাঁকে। এখান থেকে যে কোনো দিকেই ঘুরে যেতে পারে চট্টগ্রাম টেস্ট। আপাতত একটু এগিয়ে থাকলেও ভুল চালে পিছিয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ। চতুর্থ দিন বাংলাদেশের ব‍্যাটিংয়ের ধরণ দেখার জন‍্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় শ্রীলঙ্কার কোচ ক্রিস সিলভারউড।

তিন দিনেও শেষ হয়নি দুই দলের প্রথম ইনিংস। তিন দিন মিলিয়ে পড়েছে কেবল ১৩ উইকেট। উইকেটে এখনও বোলারদের জন‍্য খুব বেশি কিছু নেই। তাই শেষ দুই দিনে ২৭ উইকেট পড়ার সম্ভাবনা খুব কম।

বাংলাদেশের সামনে সুযোগ আছে প্রথম ইনিংসে বড় লিড নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে চেপে ধরার। এর জন‍্য রান তুলতে হবে দ্রুত। আপাতত ওভার প্রতি ৩ করে রান তুলছে বাংলাদেশ। এভাবে এগিয়ে গেলে শ্রীলঙ্কাকে আবার অলআউট করার জন‍্য যথষ্ট ওভার নাও পেতে পারে স্বাগতিকরা।

তাই একটু ঝুঁকি নিতে হতে পারে। বাংলাদেশ ঝুঁকি নিলে সেটা কাজে লাগানোর জন‍্য প্রস্তুত শ্রীলঙ্কা। টেস্টের পরতে পরতে থাকে নানা লড়াই। চতুর্থ দিন এমনই এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে চট্টগ্রাম টেস্ট।

তৃতীয় দিন শেষে সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ৩৯৭

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১০৭ ওভারে ৩১৮/৩ (আগের দিন ৭৬/০) (জয় ৫৮, তামিম ১৩৩ রিটায়ার্ড হার্ট, শান্ত ১, মুমিনুল ২, মুশফিক ৫৩*, লিটন ৫৪*; বিশ্ব ৮-০-৪২-০, আসিথা ১৬-২-৫৫-১, রমেশ ৩১-৮-৮৩-০, এম্বুলদেনিয়া ২৭-৬-৩৯-০, ধনঞ্জয়া ১৩-২-৩৯-০, রাজিথা ১১-৪-১৭-২)