পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

চট্টগ্রামে মহিউদ্দিন-নাছিরে বিবাদের বিষয় এবার হোল্ডিং ট্যাক্স

  • মিঠুন চৌধুরী, চট্টগ্রাম ‍ব্যুরো বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2016-05-03 22:22:15 BdST

bdnews24
মেয়র হওয়ার পর আ জ ম নাছিরের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, তাদের এমন ছবি এখন কমই দেখা যায় না

চট্টগ্রাম নগরীর হোল্ডিং ট্যাক্স ইস্যুতে বিবাদে জড়িয়ে পড়েছেন সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির।

নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন কর না বাড়াতে বলার পর তাকে মেয়রের পদ ‘না পাওয়ার বেদনা’ বলেছেন নগর সাধারণ সম্পাদক নাছির।

নাছির হোল্ডিং ট্যাক্স (গৃহকর) বাড়ানোর পরিকল্পনা জানানোর পর গত মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে মুখ খোলেন মহিউদ্দিন।

কয়েকটি অনুষ্ঠানে সাবেক মেয়র কথা বলার পর মুখ খোলেন বর্তমান মেয়র নাছিরও।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিসিসি) এক অনুষ্ঠানে তিনি মহিউদ্দিনকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, ‘না পাওয়ার বেদনা মানুষ সহজে ভুলতে পারে না’।

এর আগেও একাধিকবার এক ইস্যুতে চট্টগ্রামে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ এই দুই নেতা পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়ে আলোচনার জন্ম দেন।

২০১৫ সালে মেয়র নির্বাচনের আগে থেকে দুজনের বিরোধ। তিন বারের মেয়র মহিউদ্দিন আবার প্রার্থী হতে আগ্রহী হলেও দলের সমর্থন পান নাছির। নাছির বিজয়ী হওয়ার পর দুই নেতার পুরনো বিরোধ কিছুদিন চাপা থাকলেও এখন নানা বিষয়ে তা প্রকাশ্য হচ্ছে।

গত ২১ মার্চ নগরীর আগ্রাবাদে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে সিসিসির ‘পঞ্চবার্ষিকী কর মূল্যায়ন কর্মসূচি’ উদ্বোধন করে নাছির বলেন, ‘হোল্ডিং ট্যাক্স’ আদায়ে ‘জিরো টলারেন্স’ থাকবে।

সিসিসির কর্মকর্তারা জানান, নগরীর স্থাপনাগুলোর হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করা হত বর্গফুট হিসেবে। এর পরিবর্তে নতুন মূল্যায়নে স্থাপনার ভাড়ার ভিত্তিতে কর আদায়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পরদিন বহদ্দারহাটে এক সভায় মহিউদ্দিন বলেন, নাগরিক সুবিধা না বাড়িয়ে কর বাড়ানো ঠিক হবে না।

৫ এপ্রিল নগরীর চশমা হিলে নিজ বাড়িতে তিনি বলেন, পৌর কর বাড়বে, তা নগরবাসী আশা করে না।

এরপর ২৮ এপ্রিল এক অনুষ্ঠানে নাছির বলেন, সাবেক একজন মেয়র এবং বিশিষ্টজনরা মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করে নাগরিকদের বিভ্রান্ত করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত।

ভোটের আগে আ জ ম নাছিরের সঙ্গে এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর এরকম ছবি এখন বিরল

ভোটের আগে আ জ ম নাছিরের সঙ্গে এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর এরকম ছবি এখন বিরল

এর প্রতিক্রিয়ায় মহিউদ্দিন ১ মে লালদীঘি মাঠে শ্রমিক লীগের সভায় নাছিরের উদ্দেশ করে বলেন, “সংযত হয়ে কথা বলুন।”

মে দিবসের ওই জনসভায় না যেতে সিসিসির কাউন্সিলরদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

“মেয়রকে বলব, কাউন্সিলরদের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া যাবে না। উপরন্তু মেয়রকে অনাস্থা দিয়ে কাউন্সিলররা তাড়িয়ে দিতে পারবে,” নাছিরকে উদ্দেশ করে বলেন মহিউদ্দিন।

এরপর মঙ্গলবার বিকালে আওয়ামী লীগের কোতোয়ালি থানার কার্যকরী কমিটির সভায় মহিউদ্দিন কর না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, “পৌর কর বৃদ্ধি হলে নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও বর্তমান আওয়ামী লীগ তথা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি জনগণের বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হবে।”

একই সময় নগরীর কাজীর দেউড়িতে এলইডি সড়কবাতি স্থাপন কার্যক্রমের অনুষ্ঠানে নাছির দলীয় নেতা মহিউদ্দিনকে ইঙ্গিত করে বলেন, “না পাওয়ার বেদনা বা পরাজয়ের বেদনা মানুষ সহজে ভুলতে পারে না।”

কর নিয়ে মহিউদ্দিনের বিরোধিতার বিষয়ে নাছির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ক্ষমতা হারিয়ে কেউ বেসামাল বা দিশেহারা হলে সেটা উনার বিষয়। সিংহাসন থেকে ছিটকে পড়া অনেকে সহ্য করতে পারেন না।

“উনি (মহিউদ্দিন) কত টাকা ট্যাক্স দিয়েছেন, তা জনগণকে জানাতে বলেন। উনার এসব বক্তব্য কোনো রেখাপাত করবে না।”

তার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মহিউদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “উনাকে (নাছির) নেত্রী মনোনয়ন দিয়েছেন। উনি মেয়র হয়েছেন। এর বেশি কিছু বলব না।”