পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রীকে গুলি করে হত্যা

  • চট্টগ্রাম ব্যুরো, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2016-06-05 08:33:22 BdST

চট্টগ্রামে জঙ্গিবিরোধী বিভিন্ন অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতুকে চট্টগ্রামে তাদের বাসার কাছে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। 

পাঁচলাইশ থানার ওসি মহিউদ্দিন মাহমুদ জানান, রোববার সকাল পৌনে ৭টার দিকে নগরীর জিইসি মোড়ের কাছে ও আর নিজাম রোডে মোটরসাইকেলআরোহী হামলাকারীরা মাহমুদার মাথায় গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। 

গত এপ্রিলের শুরুতে পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া বাবুল আক্তার কাজ করছেন ঢাকার পুলিশ সদরদপ্তরে। স্ত্রী খুন হওয়ার খবর পেয়েই তিনি রওনা হন চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে।  

মাহমুদা আক্তার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে ভুগছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা।

মাহমুদা আক্তার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে ভুগছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা।

গত এপ্রিলে পদোন্নতি পেয়ে পুলিশ সুপার হওয়া বাবুল আক্তার চট্টগ্রামে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

গত এপ্রিলে পদোন্নতি পেয়ে পুলিশ সুপার হওয়া বাবুল আক্তার চট্টগ্রামে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

পদোন্নতির আগে বাবুল আক্তার গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (এডিসি) হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উত্তর-দক্ষিণ জোনের দায়িত্বে ছিলেন।

এক ফকির ও তার খাদেম হত্যা এবং বোমায় ব্যবসায়ী নিহত হওয়ার দুটি ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে জেএমবির একটি আস্তানার সন্ধান পান বাবুল আক্তার। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকসহ জেএমবি নেতা জাবেদসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত অক্টোবরে পুলিশের সঙ্গে এক অভিযানে থাকা অবস্থায় গ্রেনেড বিস্ফোরণে নিহত হন জাবেদ।

এসব কারণে বাবুল আক্তার ও তার পরিবার হুমকি পেয়ে আসছিলেন বলে চট্টগ্রামের পুলিশ কর্মকর্তারা জানান।

গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার মোক্তার আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “যেহেতু বাবুল আক্তার জঙ্গি দমনে অনেক কাজ করেছেন, তারাই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি। তবে সব সম্ভাবনাই আমরা খতিয়ে দেখব।”

মোটরসাইকেলে আসা হামলাকারীরা সংখ্যায় ছিল তিনজন; তাদের একজনের মাথায় হেলমেট ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে নগর পুলিশের উপ কমিশনার (উত্তর) পরিতোষ ঘোষ জানিয়ছেন। 

পুলিশ বলছে, প্রতিদিনের মতো মাহমুদা (৩২) তার প্রথম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে ও আর নিজাম রোডের বাসা থেকে বেরিয়ে জিইসি মোড়ের দিকে যাচ্ছিলেন। মাহমুদার মাথায় যখন গুলি করা হয়, তার ছেলে তখন পাশেই ছিল।  

মা হত্যার প্রত্যক্ষদর্শী ছয় বছর বয়সী ছেলেটি বলছে, মোটরসাইকেলে যারা এসেছিল, তারা প্রথমে তাকে একপাশে সরিয়ে নিয়ে যায়। এরপর একজন তার মাকে ছুরি মারে এবং পরে গুলি করে।   

পুলিশের তদন্ত ব্যুরোর (পিআইবি) পরিদর্শক কবীর হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, হামলাকারীরা মিতুর বুকে, পিঠেসহ আটটি স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত করেছে। গুলি লেগেছে মাথার বাঁ পাশে।  

ঘটনাস্থলে তিনটি গুলি ও একটি গুলির খোসা পাওয়া গেছে বলে পিবিআইর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বশির আহমেদ জানিয়েছেন।

শারমীন আক্তার  নামের এক প্রতিবেশী জানান, মাহমুদা প্রায়ই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা বলতেন। বলতেন, ওই বাসা সবাই চিনে গেছে, বাসা বদলে ফেলতে হবে।

বাবুল-মাহমুদা দম্পতির চার বছর বয়সী একটি মেয়েও রয়েছে বলে শারমীন আক্তার জানান।    

সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি শেখ হেমায়েত উদ্দিন জানান, চট্টগ্রামে তাদের ক্রাইম সিনের সদস্যরা এরইমধ্যে তথ্য সংগ্রহ করেছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের ভবন থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে পাঁচলাইশ থানার ওসি জানিয়েছেন।

মাহমুদা আক্তারের লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান ওসি।