২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

চাক্তাই ও বামনশাহী খালে উচ্ছেদ অভিযানে নামছে সিডিএ

  • চট্টগ্রাম ব্যুরো, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-07-21 23:46:10 BdST

bdnews24
ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম নগরীকে জলাবদ্ধতা মুক্ত করতে চলমান মেগা প্রকল্পের আওতায় ১৩ খালের প্রায় ১২৪ একর জমি উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে সোমবার চাক্তাই ও বামনশাহী খালে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

নগরীর ১৩ খালে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী স্থাপনা উচ্ছেদে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ২ জুলাই অভিযান শুরু করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।

উচ্ছেদের প্রথম দিনে রাজাখালী ২৬টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। পরদিন নোয়া খালেও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

এরপর ধারাবাহিকভাবে কয়েকদিন নোয়া খালে উচ্ছেদ চলে। খালের জমিতে স্থাপনা নির্মাণকারীদের মধ্যে কেউ কেউ নিজেরাই অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলে। নোয়া খালের মোট ৭০টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

তারপর ভারি বর্ষণে নগরীতে কয়েক দফায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে উচ্ছেদ কার্যক্রমে বিরতি পড়ে।

সোমবার ‘চট্টগ্রামের দু:খ’ খ্যাত চাক্তাই খাল ও অনন্যা আবাসিক এলাকা সংলগ্ন বামনশাহী খালে উচ্ছেদের মধ্যে দিয়ে আবার অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। 

সিডিএ’র নির্বাহী প্রকৌলশী ও জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আহমদ মঈনুদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সোমবার বহদ্দারহাট পুলিশ বক্স এলাকায় চাক্তাই খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।

“এরপর চাক্তাই খালের জঙ্গি শাহ মাজার সংলগ্ন জমিতে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ১৩টি খালে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সোমবার থেকে পুরো অগাস্ট মাসজুড়ে অভিযান চলবে।”

সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজহার সিদ্দিকী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “১৩টি খালকে অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সঙ্গে হিজরা খালও যুক্ত হয়েছে।

“নগরীর প্রবর্তক মোড়ে জলাবদ্ধতা এই হিজরা খালের কারণেই। প্রতিটি খালে অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত হয়েছে। অগাস্টের মধ্যে এই ১৪টি খালে পানি প্রবাহ বাধাহীন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করে কাজ চলছে।”

কোন খালে কত স্থাপনা

‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিসরনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক মেগা প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে ১৩টি খালের অবৈধ স্থাপনা ও অপসারণযোগ্য স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়।

জরিপকারী প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল এন্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) এর দেওয়া তালিকা অনুসারে এসব স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে।

ওই তালিকা অনুসারে এই ১৩টি খালের প্রায় ১২৩ দশমিক ৯২ একর জমি অবৈধ দখলে আছে।

১৩টি খালে মোট স্থাপনা চিহ্নিত করা হয় এক হাজার ৫৭৬টি। এরমধ্যে পানি চলাচলের জন্য উচ্ছেদ করতে হবে ৮৬৬টি স্থাপনা এবং খালের পাশে রাস্তা নির্মাণের জন্য ৭১০টি স্থাপনা অপসারণ করা হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও প্রকল্প পরিচালক মো. শাহ আলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দ্রুত গতিতে খালগুলো দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হবে।

“আমরা চাই দ্রুততম সময়ে প্রথমে খালের পানি প্রবাহে বাধাদানকারী স্থাপনাগুলো অপসারণ করতে। যাতে করে শুকনো মৌসুমে খাল খনন এবং সীমানা দেয়াল নির্মাণ করা যায়। খালের পাশে রাস্তা নির্মাণের জন্য যেসব স্থাপনা অপসারণ করতে হবে সেগুলো পরে করা হবে।”

প্রকল্প পরিচালক আহমদ মঈনুদ্দিন জানান, খালগুলোতে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার জন্য অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পাশাপাশি বৈধ স্থাপনাও অপসারণ করা হবে। এসব স্থাপনার জমি জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে অধিগ্রহণ করা হবে।

“পানি প্রবাহ বাধা সৃষ্টিকারী চিহ্নিত স্থাপনাগুলো অপসারণের পর খালের পাড়ে রাস্তা নির্মাণের জন্য যে সব স্থাপনা সরাতে হবে সেই কাজে হাত দেওয়া হবে।”

লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহ আলী বলেন, প্রবল বৃষ্টিতে কয়েকদিন কাজ করা সম্ভব হয়নি। বামনশাহী খালে পাকা ভবনের মালিকরা নিজেরাই ভবনগুলো ভেঙে ফেলেছে। কিছু ছোট স্থাপনা রয়েছে গেছে। সেগুলো দুই দিনের মধ্যেই উচ্ছেদ করা হবে।

নগরীর অন্যতম প্রধান খাল চাক্তাই। কর্ণফুলী নদীর সাথে যুক্ত চাক্তাই খাল ঘিরে পাকা-আধা পাকা ও কাঁচা বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠেছে দীর্ঘ সময় ধরে।

চাক্তাই খালের প্রশসতা ও গভীরতা কমে যাওয়ায় খালটির দুই পাশের বিভিন্ন এলাকা বছরের পর বছর ধরে বর্ষায় জলাবদ্ধতার শিকার হয়।

এরমধ্যে চাক্তাই খালের ৮ দশমিক ১৩ একর জমি দখল করে বিভিন্ন সময় স্থাপনা গড়ে তোলা হয়।

আহমদ মঈনু্দ্দিন বলেন, “এ খালের পানি চলাচল স্বাভাবিক করতে উচ্ছেদ করতে হবে ১৮০টি স্থাপনা। শুরুতে সেগুলো উচ্ছেদ করা হবে।”

“পরবর্তী ধাপে চাক্তাই খালের দুই পাড়ে রাস্তা নির্মাণের জন্য অপসারণ করা হবে আরো ১২০টি স্থাপনা।”

১৩টি খালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জমি দখল হয়েছে খন্দকিয়া খালে। এ খালে প্রায় ২৫ একর জমি দখল হয়ে গেছে। এখন থেকে উচ্ছেদ হবে ৯৭টি স্থাপনা।

সবচেয়ে বেশি চিহ্নিত করা হয়েছে গয়নাছড়া খাল ও পাড়ের জমিতে গড়ে ওঠা ৪৫৩টি স্থাপনা। এই খালের ৯ দশমিক ৮৯ একর জমিতে অবৈধ দখলে আছে।

রাজাখালী খাল-২ এর ৭ দশমিক ৩৩ একর জমি দখল মুক্ত করা হবে। উচ্ছেদ হবে ২০টি স্থাপনা।

মহেশখালের ১২ দশমিক ৪১ একর জমি দখলে আছে অবৈধ দখলদারদের। এখান থেকে উচ্ছেদ হবে ২৯টি স্থাপনা।

মহেশখালী খালের ১২ দশমিক ৪১ একর জমি অবৈধ দখলে। উচ্ছেদ করা হবে ২৭টি স্থাপনা।

টেকপাড়া খালের শূন্য দশমিক ৪৩ একর জমি অবৈধ দখলে। স্থাপনা উচ্ছেদ হবে ৭৬টি।

মরিয়ম বিবি খালের ৬ দশমিক ৬৮ একর জমি দখলমুক্ত করার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উচ্ছেদ হবে ৪৭টি স্থাপনা। 

নোয়াখালে ৭ দশমিক ১২ একর জমি অবৈধ দখলে। উচ্ছেদ করা হবে ১৭৫টি স্থাপনা। 

ত্রিপুরা খালে ৬ দশমিক ৫৯ একর জমি অবৈধ দখলে আছে। এখান থেকে উচ্ছেদ হবে ৮৩টি স্থাপনা।

বামনশাহী খালে ৮ দশমিক ০৪ একর জমি অবৈধ দখলে। স্থাপনা উচ্ছেদ হবে ৪৭টি। বির্জা খালের ২ দশমিক ০৬ একর জমি দখলমুক্ত করা হবে। স্থাপনা উচ্ছেদ হবে ১০৭টি।

আর ডোমখালী খালে ৭ দশমিক ৮৩ একর জমি দখলে আছে। এখান থেকে স্থাপনা উচ্ছেদ হবে ১১৫টি।

এই প্রকল্পের আওতায় নগরীতে মোট ৩৬টি খালে খনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ হবে।