২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

ফের হালদা দূষণের অভিযোগ এশিয়ান পেপার মিলসের বিরুদ্ধে

  • চট্টগ্রাম ব্যুরো, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-08-11 23:09:35 BdST

বর্জ্য নিঃসরণ করায় ২০ লাখ টাকা জরিমানা হওয়ার দুই মাসের মাথায় চট্টগ্রামের এশিয়ান পেপার মিলসের বিরুদ্ধে হালদা দূষণের অভিযোগ উঠেছে।

হাটহাজারী নন্দীরহাট এলাকায় অবস্থিত ওই কারখানা থেকে শনিবার রাতে নদীসংলগ্ন ছড়ায় অপরিশোধিত তরল বর্জ্য ছাড়ার প্রমাণ পেয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

হাটহাজারীর ইউএনও মো. রুহুল আমীন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে খবর পেয়ে সেখানে যাই। এশিয়ান পেপার মিল থেকে বর্জ্য নদীসংলগ্ন ছড়ায় ছেড়ে দেওয়া হচ্ছিল। ছড়াটি কাটাখালী খালের সাথে সংযুক্ত। এসব বর্জ্য সরাসরি হালদা গিয়ে পড়ে।

“পার্শ্ববর্তী ছড়াটি থেকে দুই বোতল নমুনাও সংগ্রহ করি। এরপর কারখানাটিতে গিয়ে দেখতে পাই বস্তা দিয়ে একটি জলাধারের মত তৈরি করা হয়েছে। বৃষ্টি হওয়ায় দুপুরেই (শনিবার সেই জলাধারের একপাশ ধসে গেছে। সেখানকার সব বর্জ্য গিয়ে ছড়াটিতে পড়েছে।”

গত ১০ জুনই একই অপরাধে এশিয়ান পেপার মিলকে ২০ লাখ টাকা জরিমানা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। তখন এক মাসের মধ্যেই বর্জ্য পরিশোধন প্লান্ট (ইটিপি) চালুর নির্দেশ দেওয়া হলেও তার বাস্তবায়ন করেনি কর্তৃপক্ষ।

এবিষয়ে হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, আজ সেখানে গেলে কারখানার কর্মকর্তারা ইটিপি কার্যকর আছে বলে দাবি করলেও কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি।

“একটি বায়োলজিক্যাল প্লান্ট চালু থাকার কথা বলা হলেও সেটিও চালু না। ওই প্লান্টের সাথে তিনটি পাইপ লাগানো, যা খালের সাথে যুক্ত।”

ইউএনও রুহুল আমীন বলেন, “বায়োলজিক্যাল প্ল্যান্টের ট্যাংকটি প্রায় ভরপুর। একটু বৃষ্টি হলেই সেখান থেকে বর্জ্য গড়িয়ে বাইরে পড়বে। পাশে আরেকটি ছোট্ট সংযুক্ত ট্যাংক আছে যেটা দিয়ে বর্জ্য বাইরের ছড়ায় চলে যাওয়ার সুযোগ রাখা আছে।”

অধ্যাপক মনজুরুল বলেন, “প্রচুর বৃষ্টি হলে এবং দুই ঈদের ছুটিতে তারা জমিয়ে রাখা বর্জ্য ছেড়ে দেয়, যা অত্যন্ত অনৈতিক। হালদা নদীকে বাঁচাতে হলে এশিয়ান পেপার মিলকে এখান থেকে সরিয়ে নিতে হবে। এটাই আমাদের দাবি।

“একই অপরাধে যদি অন্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয় তাহলে এটি বছরের পর বছর ধরে ইটিপি ছাড়াই কেন কার্যকর থাকবে?”

পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুক্তাদির হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বর্জ্য ছাড়ার বিষয়ে আমরা শুনেছি। অধিদপ্তরের ডিজি মহোদয় আমাদের ফোনে নির্দেশ দিয়েছেন। ১৪ অগাস্ট এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

“আগের করা ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিষয়টি এখনো আপিলে আছে।”

তবের অভিযোগের বিষয়ে এশিয়ান পেপার মিল কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য জানতে পারেনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

৩০ মে হালদা নদীর রাউজান অংশে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে এশিয়ান পেপার মিলের বিরুদ্ধে মামলাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।