হালদায় আবার মৃত ডলফিন

  • চট্টগ্রাম ব্যুরো, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-12-05 18:30:46 BdST

bdnews24

চট্টগ্রামের হালদা নদীর হাটাহাজারী অংশের আকবরিয়া এলাকায় একটি মৃত ডলফিন পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয়রা ডলফিনটি নদীতে ভাসতে দেখে।

পরে খবর পেয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া ডলফিনটির ল্যাবরেটরিতে নিয়ে যান।

তবে কিভাবে ডলফিনটি মারা গেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দুপুরে স্থানীয়রা নদীতে ডলফিনটি ভাসতে দেখে আমাকে জানায়। তারা সেটি তুলে নদীর তীরে রাখে।

“এটির বয়স নির্ধারণ করা যায়নি। ওজন হবে ৩০-৩৫ কেজির মত। বিকালে সেটি নিয়ে এসে ল্যাবরেটরিতে রেখেছি। মাথায় একটি আঘাত আছে তবে সেটি ধারালো কিছুর নয়।”

তিনি বলেন, “স্থানীয়রা বলছেন নদীর তীর রক্ষায় যে ব্লক ফেলা হয়েছে সেগুলোতে আঘাত পেয়ে থাকতে পারে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যাবে কিসের আঘাতে বা কি কারণে এটির মৃত্যু হয়েছে।”

চলতি বছর এ নিয়ে দুটি ডলফিনের মৃতদেহ পাওয়া গেল হালদা নদীতে। এর আগে ১৬ এপ্রিল ছয় মাস বয়সী একটি ডলফিন নৌযানের আঘাতে মারা যায়।

মনজুরুল কিবরিয়া জানান, ২০১৭ সালের এপ্রিল থেকে এই পর্যন্ত মোট ২২টি ডলফিন মারা গেল হালদা নদীতে। এরমধ্যে বেশ কয়েকটি মারা যায় নৌযানের আঘাতে।

হাটহাজারী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমীন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ডলফিন সচরাচর নদীর তীরের দিকে থাকে না, মাঝ বরাবর চলাচল করে।

“মাছের পিছনে ছুটতে গিয়ে কোনো নৌযান বা অন্যকিছুতে আঘাত পেয়েছে কিনা সেটা হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার পর জানা যাবে। কারণ নিশ্চিত হলে আমরা পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করব।”

হালদায় বালুবাহী ড্রেজার চলাচল নিষিদ্ধ হলেও এখনও কিছু ড্রেজার চলাচল করে বলে দাবি হালদা গবেষক মনজুরুল কিবরিয়ার।

হালদা নদীতে যে ডলফিনের দেখা মেলে, তা গাঙ্গেয় ডলফিন প্রজাতির। ইংরেজিতে একে বলা হয় Ganges River Dolphin; এর বৈজ্ঞানিক নাম Platanista gangetica । স্থানীয়ভাবে একে বলা হয় হুতুম বা ‍শুশুক।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) গাঙ্গেয় ডলফিনকে বিপন্ন হিসেবে লাল তালিকায় রেখেছে। ২০১২ সালের বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিল-১ অনুসারে এই প্রজাতিটি সংরক্ষিত।