চট্টগ্রামের ভোটের প্রচারে ‘লেমিনেটেড’ পোস্টারে মানা

  • চট্টগ্রাম ব্যুরো, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-02-24 20:57:25 BdST

bdnews24
সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচারে ব্যানারে সয়লাব ঢাকার কল্যাণপুর। ছবি: মাহমুদ জামান অভি

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (সিসিসি) নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচারে লেমিনেটেড পোস্টার ব্যবহার না করতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

স্থানীয় নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নিয়ে এক সভায় এবিষয়ে সিদ্ধান্ত হয় বলে চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান জানিয়েছেন।

রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তা সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কোনো ধরনের লেমিনেটেড বা সুপার লেবেল দেওয়া পোস্টার প্রচারণার কাজে ব্যবহার করা যাবে না বলে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

“এগুলো পরিবেশ দূষণ ঘটায়। আমরা চাই না নির্বাচনী প্রচারণায় কেউ পরিবেশ দূষণ করুক। তাই এটা আমরা অনুৎসাহিত করছি। পাশাপাশি হাই কোর্টেরও এ বিষয়ক একটি নির্দেশনা আছে। কেউ পোস্টারে পলিথিন বা লেমিনেটেড পোস্টার ব্যবহার করলে বিধিমালা অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

চলতি মাসের শুরুতে ঢাকার দুই সিটির ভোটের এক সপ্তাহ আগে পরিবেশের ক্ষতি বিবেচনায় লেমিনেটেড পোস্টার ব্যবহার বন্ধের আদেশের পাশাপাশি সারা দেশের ক্ষেত্রে একই নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাই কোর্ট।

বিদ্যমান আচরণবিধি সংশোধন করে লেমিনেটেড পোস্টার ব্যবহার নিয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার এ বিষয়ে উদ্যোগ নিচ্ছেন।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, আচরণবিধির সার্বিক বিষয়গুলো নিয়ে আগামীতে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিতে পারে।তফসিল ঘোষিত হওয়ায় নতুন কোনো বিষয়ে এখনও কোনো সংশোধনের নির্দেশনা দেয়নি ইসি।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটির ভোট সামনে রেখে আগ্রহী প্রার্থীরা ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারবেন।

১ মার্চ বাছাইয়ের পর ২ থেকে ৪ মার্চ আপিল করা যাবে এবং নিষ্পত্তি হবে ৫-৭ মার্চ। ৮ মার্চ পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে। ৯ মার্চ প্রতীক বরাদ্দের পর শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার।

আগাম প্রচারের সামগ্রী সরানোর নির্দেশ

প্রার্থীদের নাম ব্যবহার করে কোনো প্রচারসামগ্রী বা আলোকসজ্জা থাকলে তা সোমবার রাত ১২টার মধ্যে অপসারণ করতে বলা হয়েছে।

সম্ভাব্য প্রার্থীদের নামে/বেনামে বিভিন্ন ধরণের শুভেচ্ছা, অভিনন্দন, দোয়াপ্রার্থী ইত্যাদি পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন, দেয়ালিকা, বিলবোর্ড, গেইট, তোরণ বা ঘের, প্যান্ডেল ও আলোকজসজ্জা ইত্যাদি প্রচার সামগ্রি ও নির্বাচনী ক্যাম্প অপসারণের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিজ খরচে এসব নির্বাচনী সামগ্রী অপসারণ করতে বলা হয়েছে বলে রিটার্নিং কর্মকর্তার পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এর আগে ঢাকা-১০ আসনের উপ-নির্বাচনের প্রার্থীদের সাথে নির্বাচন কমিশনের এক বৈঠকে লেমিনেটেড পোস্টার ব্যবহার না করতে নির্দেশনা দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

ওই বৈঠকে ভোটে দূষণমুক্ত প্রচারে পোস্টার-মাইক ব্যবহারসহ ছয়টি বিষয়ে প্রার্থীদের সাথে নির্বাচন কমিশনের সমঝোতা হয়।