করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জলকামান থেকে জীবাণুনাশক

  • চট্টগ্রাম ব্যুরো বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-03-24 23:02:17 BdST

নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে নগরীতে জীবাণুনাশক ছিটানো শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সিসিসি)। পুলিশও জলকামান থেকে ছিটিয়েছে জীবাণুনাশক।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম আদালত ভবন, নগরীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে জীবাণুনাশক ওষুধ ছিটায় সিসিসি।

সিটি মেয়ার আ জ ম নাছির উদ্দীনের নির্দেশে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয় বলে সিসিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বুধবার সকালে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে বলে জানান সিসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম।

বুধবার থেকে ১৬ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার তিনটি পানির ভাউজারের মাধ্যমে নগরীর প্রতিটি সড়কে জীবাণুনাশক ওষুধ ছিটানো হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইন থেকে জিইসি মোড় পর্যন্ত সড়কে মঙ্গলবার দুপুরে জলকামান থেকে জীবাণুনাশক ছিটায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)।

এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান।

এদিকে করোনাভাইরাস বিষয়ে জরুরি প্রয়োজনে নগরবাসীর যোগাযোগের জন্য চসিক দামপাড়া কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। কন্ট্রোল রুমের নম্বর হচ্ছে ০৩১-৬৩০৭৩৯ ও ০৩১-৬৩৩৬৪৯।

নেমেছে সেনা

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে চট্টগ্রাম নগরী ও উপজেলাগুলোতে সেনাবাহিনী টহল দেবে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে বিদেশ ফেরতদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করবে।

মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদের সভাপতিত্বে এক সমন্বয় সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সেনাবাহিনীর ঊর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় চট্টগ্রামে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের জন্য স্থান নির্ধারণসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভার বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজ (মঙ্গলবার) থেকেই সেনাবাহিনী মাঠে নেমেছে। আগামীকাল থেকে তারা পুরোদমে টহল দেবে।

“চট্টগ্রামের প্রতিটি উপজেলায় সেনাবাহিনীর দুটি করে টহল দল থাকবে। পটিয়ায় একটি ক্যাম্প করা হবে। পাশাপাশি দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপ নৌবাহিনী কাজ করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।”

সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে সেনাবাহিনী নগরীসহ উপজেলাগুলোতে টহল দেবে যাতে বেশি লোক এক জায়গায় জড়ো হতে না পারে।

জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন বলেন, “বিদেশ ফেরত অনেকেই হোম কোয়ারেন্টিন ঠিকমতো মানছেন না। সেটা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী সহযোগিতা করবে। যারা হোম কোয়ারেন্টিন মানছেন না প্রয়োজনে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হবে।”

প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের জন্য পাঁচটি স্থান নির্ধারণ করা হয় সভায় সেগুলো হলো- নগরীর সিআরবিতে রেলওয়ে হাসপাতাল, কাট্টলীর পিএইচ আমিন একাডেমি, নগরীর বহদ্দারহাটে সিডিএ গার্লস স্কুল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ ফজিলাতুন্নেছা হল এবং পটিয়া উপজেলায় মোজাফফরাবাদ স্কুল।

পাশাপাশি আইসোলেশনের জন্য দুটি হাসপাতালে ২৫০ শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে।

এরমধ্যে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১৫০ শয্যা এবং ফৌজদারহাটে বিআইটিআইডিতে ১০০ শয্যা আইসোলেশনে রাখার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

এছাড়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে পৃথক ফ্লু-কর্ণার খোলা হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।

জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “চট্টগ্রামে এখনও আইসোলেশনে পাঠানোর মতো কাউকে পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডিতে চিকিৎসকদের জন্য পারসোনাল প্রটেকশন ইক্যুইপমেন্ট (পিপিই) পাঠানো হয়েছে। আরও পিপিই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে আসবে।”

চট্টগ্রামের করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “চট্টগ্রামের ১৬ জন ব্যক্তির রক্তের নমুনা ঢাকায় পাঠিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের সবাই নেগেটিভ হয়েছেন।

“নতুন করে কোনো ফ্লাইট না আসায় ৯৭৩ জন এখনো হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন। এই সংখ্যা আর বাড়েনি।”

বিআইটিআইডির পরিচালক ডা. এম এ হাসান চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কোভিড-১৯ পরীক্ষার কিট আগামীকাল পৌঁছাতে পারে। কিটস আসলে কাল থেকে পরীক্ষা শুরু করা যাবে।”