চবিতে কোয়ারেন্টিন স্থাপনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি শিক্ষকদের

  • চট্টগ্রাম ব্যুরো, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-03-25 22:11:44 BdST

bdnews24

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেসা মুজিব হলে প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন স্থাপনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেসা মুজিব হলে প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন স্থাপনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে বুধবার একটি বিবৃতি দিয়েছে শিক্ষক সমিতি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সমিতির সভাপতি এমদাদুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “করোনাভাইরাস মহামারী সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের এ যাবত গৃহীত পদক্ষেপকে শিক্ষক সমিতি স্বাগত জানায়। একই সাথে শিক্ষক সমিতি সরকার ও জেলা প্রশাসকের একাত্ম হয়ে কাজ করতে আগ্রহী।

“সম্প্রতি আমরা গণমাধ্যম ও জনমুখে জানতে পেরেছি যে করোনায় সন্দেহভাজন/আক্রান্ত ব্যক্তিগত ও তাদের পরিবারকে প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখার জন্য জেলা প্রশাসন চবির বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেসা মুজিব হলে প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন স্থাপানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এর সাম্প্রতিক কোয়ারিন্টিন বিষয়ক Infection Prevention and Control guidance for Long-Term Care Facilities in the context of COVID-19 নীতিমালায় সুস্পষ্ট ভাবে বলা আছে, কোয়ারেন্টিনের জন্য নির্ধারিত এলাকা হতে হবে জনবসতি থেকে দূরে এবং সুনির্দিষ্ট একটি দূরত্ব এক্ষেত্রে বজায় রাখতে হবে এবং আবাসস্থলে প্রতি রুমের সাথে সংযুক্ত শৌচাগার বা টয়লেট থাকতে হবে।

“কিন্তু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উক্ত হলের খুব কম দূরত্বের মধ্যেই আশেপাশে শিক্ষক ও কর্মচারিদের বসতি আছে এবং হলের রুমগুলোতে সংযুক্ত টয়লেট নেই যা এর নীতিমালার ব্যাতিক্রম।

“দ্বিতীয়ত, lancet গবেষণাপত্রে গত ২০ মার্চ ইরান ও ইটালিতে এই মহামারী ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে কোয়ারেন্টিন সুবিধা তৈরিতে তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা মেনে চলেনি এবং ইউভি (আল্ট্রাভায়োলেট রে) ও হট রুম সমৃদ্ধ নিয়মিত জীবাণুমুক্তকরণ সুবিধা অনেক কোয়ারেন্টিন সেন্টারে ছিল না। এরকম সুবিধা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসেও নেই। তাই এটি কোনোভাবেই করোনা আক্রান্তদের জন্য উপযুক্ত আবাস নয়।”

এতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো বায়সেফটি লেভেল২+ (জীবনিরাপত্তা স্কেল ২ এর অধিক) বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থাপনা নেই, যা নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিনে গত সপ্তাহে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের কোয়ারেন্টিনের একটি অত্যাবশ্যকীয় শর্ত।

এই ক্ষেত্রে সেই বর্জ্য নিশ্চিতভাবে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়বে, যার দীর্ঘস্থায়ী প্রতিক্রিয়া বহন করবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারী।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে জনবসতি শূন্য করা হয়েছে এই সংক্রমণ ঠেকাতে। সেই জায়াগায় আমাদের ক্যাম্পাসে এরকম সিদ্ধান্ত নেয়াটা অত্যধিক ঝুঁকির।

“কিন্তু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা সংক্রমণের সংখ্যা না কমিয়ে বরং বাড়িয়ে দিতে পারে। আমরা মনে করি দেশের পাশে দাঁড়ানো যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন তেমনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ হাজার ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মচারী এই দেশেরই সম্পদ। তাদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার কথা চিন্তা করাটাও আমাদের নৈতিক ও পবিত্র দায়িত্ব। অতএব, এই সিদ্ধান্তটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ হাজার মানুষের সুরক্ষায় বাতিল এবং পুনঃবিবেচনার জোরালো দাবি জানাচ্ছি।”

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের জন্য পাঁচটি স্থান নির্ধারণ করা হয়।

সেগুলো হলো- নগরীর সিআরবিতে রেলওয়ে হাসপাতাল, কাট্টলীর পিএইচ আমিন একাডেমি, নগরীর বহদ্দারহাটে সিডিএ গার্লস স্কুল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ ফজিলাতুন্নেছা হল এবং পটিয়া উপজেলায় মোজাফফরাবাদ স্কুল।