করোনাভাইরাস: পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে কারাবন্দিদের জন্য টেলিফোন

  • চট্টগ্রাম ব্যুরো, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-03-26 17:30:30 BdST

নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে দেশে প্রায় অবরুদ্ধ উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যে সাক্ষাতের সুযোগ কমে আসায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বন্দিদের টেলিফোনে কথা বলার ব্যবস্থা করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।

দেশের অন্য কারাগারের মতো চট্টগ্রামেও বুধবার থেকে ব্যবস্থাটি চালু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. কামাল হোসেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কারা কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে শুধু পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলতে পারবেন বন্দীরা।

“একজন বন্দি সপ্তাহে একবার করে পাঁচ মিনিট করে কথা বলতে পারবেন। এজন্য তাদের পিসি (প্রিজনার ক্যাশ) অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতি মিনিটের জন্য এক টাকা করে কেটে নেওয়া হবে।”

বন্দিদের টেলিফোনে কথা বলার ব্যবস্থাটি কত দিন পর্যন্ত চলবে তা ঠিক না হলেও চলমান আপৎকালীন সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

এক কারা কর্মকর্তা জানান, বছরখানেক আগে টাঙ্গাইল কারাগারে বন্দিদের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলার জন্য একটি পাইলট প্রকল্প চালু করেছিল জেল কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পটি শেষ হওয়ার আগেই করোনাভাইরাসের পরিস্থিতিতে দেশের সব কারাগারে বন্দিদের সাথে তাদের স্বজনদের টেলিফোনে সাক্ষাৎ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বন্দিরা তৈরি করছেন ফেইস মাস্ক

এদিকে কারা অভ্যন্তরে উৎপাদন শাখার মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে ফেইস মাস্ক, যেগুলো বন্দিদের পাশাপাশি কারারক্ষী ও কারা কর্মকর্তারাও ব্যবহার করছেন।

জেল সুপার কামাল জানান, কারাগারে যেসব বন্দিরা বন্দিদের জন্য পোশাক তৈরি করতেন তারাই মাস্কগুলো তৈরি করছেন। সাধারণ মাস্কের চেয়ে উন্নত ধরনের এ মাস্কগুলো তৈরিতে প্রতিটিতে ২৬/২৭ টাকা করে খরচ হচ্ছে। কারা ক্যান্টিনের মাধ্যমে সেগুলো বিক্রি করা হচ্ছে ৩০ টাকা দরে।

তিনি বলেন, কারারক্ষী থেকে শুরু করে কারা কর্মকর্তা সবার জন্য মাস্ক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি আরপি গেইট, প্রধান ফটক ও সাক্ষাৎ কক্ষে দায়িত্বরতদের জন্য হ্যান্ড গ্লভস ও স্যানিটাইজার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এছাড়াও কারারক্ষী ও কর্মকর্তারা প্রধান ফটক দিয়ে এবং কারাভ্যন্তরে প্রবেশের আগে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে এবং ক্লোরিন মিশ্রিত পানিতে বুট ভিজিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কারা কর্মকর্তরা জানান, দর্শনার্থীদের জন্য বাইরে বেসিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেখানে তারা সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে দেখা করতে যেতে হচ্ছে। পাশাপাশি সেখানে হ্যান্ড মাইক ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের সচেতনতার কথা বলা হচ্ছে।

এদিকে কারাভ্যন্তরেও পরিচ্ছন্নতার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও জানান চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার কামাল হোসেন।

তিনি জানান, নতুন যেসব বন্দিকে কারাগারে আনা হচ্ছে তাদের থার্মোমিটারের মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা নির্ণয় করা হচ্ছে। পাশাপাশি ১৪ দিনের ভেতর তারা বিদেশ ভ্রমণ করেছেন কিনা কিংবা তাদের কোন স্বজন বিদেশ থেকে এসছেন কিনা সেগুলো যাচাই বাচাই করা হচ্ছে।

পাশাপাশি নতুন বন্দিদের ১৪ দিনের জন্য পুরাতন বন্দিদের থেকে আলাদা করে রাখা হচ্ছে। সেজন্য মহিলা ও পুরুষ বন্দিদের জন্য আলাদা দুটি ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। 

এদিকে কারা অভ্যন্তরে কর্মকর্তা ও বন্দিদের জন্য আলাদা করে আইসোলেশন ও কোয়েরেন্টিন ওয়ার্ডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানান জেল সুপার কামাল।

এছাড়াও কারাভ্যন্তরে প্রতিদিন ব্লিচিং পাউডার মিশ্রিত পানি ছিটিয়ে স্প্রে করার পাশাপাশি সকল বন্দিদের সাবান দিয়ে হাত ধুরে ওয়ার্ডে প্রবেশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নোট: ছবিগুলো কারা কর্তৃপক্ষের ফেইসবুক পেইজ থেকে পাওয়া।