চট্টগ্রামে ছাপা পত্রিকার বিক্রি কমেছে ৯০%

  • উত্তম সেন গুপ্ত, চট্টগ্রাম ব্যুরো বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-03-29 20:20:53 BdST

bdnews24

নভেল করোনাভাইরাসের মহামারী রুখতে বিধিনিষেধের বেড়াজালে স্থবির জীবনে চট্টগ্রামে সংবাদপত্রের বিক্রি কমেছে প্রায় ৯০ শতাংশ।

বন্দরনগরীর সংবাদপত্র বিক্রেতারা জানিয়েছেন সাধারণ সময়ে আঞ্চলিক ও জাতীয় পত্রিকা মিলে প্রায় পৌনে দুই লাখ সংবাদপত্র বিক্রি হয় প্রতিদিন। কিন্তু তা এখন কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ থেকে ২০ হাজারে।

করোনাভাইরাস সংক্রামণ ঠেকাতে সারা দেশে ১০ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণায় বন্ধ রয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় বাইরের লোকজনের প্রবেশ সীমিত করে ফেলা হয়েছে।

আবার রোগটি ছোঁয়াচে হওয়ায় হকারের মাধ্যমে আসা ছাপানো সংবাদপত্রও এড়িয়ে চলছেন অনেকে। সব মিলিয়ে চট্টগ্রামে পত্রিকা বিক্রি কমে এসেছে দশ ভাগের এক ভাগে।

হকার্স ইউনিয়ন বলছে, অনেক বাসা আর অফিস ‘আপাতত’ পত্রিকা বিলি করতে নিষেধ করে দিয়েছে। অনেক হকার বাড়ি চলে গেছেন। এর প্রভাব পড়েছে সংবাদপত্রের বিক্রিতে।

আবার অনেক জায়গায় ঘোষণা দিয়েই বন্ধ করে রাখা হয়েছে পত্রিকা ছাপানো। মানবজমিন পত্রিকা তাদের মুদ্রণ বন্ধ রেখে অনলাইন সংস্করণে চলছে।

চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত পত্রিকা মালিকদের সংগঠন চিটাগাং নিউজপেপার অ্যালায়েন্স (সিএনএ) ঘোষণা দিয়ে ১২ পৃষ্ঠার পত্রিকা আট পৃষ্ঠায় এবং আট পৃষ্ঠার পত্রিকা চার পৃষ্ঠায় ছাপানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। পাশাপাশি পত্রিকারও দাম কমিয়েছে এক থেকে দুই টাকা।

চট্টগ্রামের পুরনো দুটি সংবাদপত্র আজাদী ও পূর্বকোণ সরাসরি হকারদের কাছে পত্রিকা বিক্রি করে থাকেন। বাকি আঞ্চলিক এবং জাতীয় সব সংবাদপত্র বিক্রি করা হয় চট্টগ্রাম সংবাদপত্র এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও চিটাগাং সংবাদপত্র হকার্স বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের মাধ্যমে।

এই দুই সংস্থার অধীনে চট্টগ্রামে অন্তত ১৪০০ হকার প্রায় পৌনে দুই লাখ আঞ্চলিক ও জাতীয় সংবাদপত্র বিলি ও বিক্রি করে থাকেন। যার মধ্যে আঞ্চলিক পত্রিকার সংখ্যা প্রায় এক লাখ কপি।

চিটাগাং সংবাদপত্র হকার্স বহুমুথী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. ইউসুফ আলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তাদের সংগঠনের পাঁচ শাতাধিক হকার পত্রিকা বিলির কাজ করলেও এখন বিলি করছেন কেবল ৫০ থেকে ৬০ জন।

তিনি জানান, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর আগে তাদের সমিতির অধীনে দুটি আঞ্চলিক পত্রিকা ছাড়া প্রায় ২২ হাজার পত্রিকা বিলি হত চট্টগ্রামে। তা এখন চার থেকে সাড়ে চার হাজারে নেমে এসেছে।

“যেসব হকার বাড়ি চলে গেছে, তাদের অনেকে ফিরতে চাইলেও পরিবহন বন্ধ থাকায় পারছে না। তাই পত্রিকা বিলি হচ্ছে না। হকার না থাকায় আমরাও ঢাকা থেকে পত্রিকা অর্ডার করছি কম।”

চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি পত্রিকা বিলি হয় তিন এজেন্সির মাধ্যমে। ইসহাক, ইব্রাহীম ও আল হারুণ- এই তিনটি নিউজপেপার এজেন্সি নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম সংবাদপত্র এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন।

এই তিনটি এজেন্সির অধীনে চট্টগ্রামে নয় শতাধিক হকার পত্রিকা বিলি করেন বলে হকারদের সাথে কথা বলে জানা যায়।

ইসহাক নিউজপেপার এজেন্সির ব্যবস্থাপক আব্দুর রহিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তিন এজেন্সির মাধ্যমে নয় শাতাধিক হকার পত্রিকা বিলি করলেও এখন কাজে আছেন একশর মত হকার।

হকার্স সমবায় সমিতির সভাপতি ইউসুফের মত রহিমও বলেন, হকাররা বেশিরভাগই বাড়ি চলে গেছেন।

তিনি জানান, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর আগে তাদের তিনটি এজেন্সির অধীনে প্রায় ৫০ হাজার পত্রিকা বিলি হতো চট্টগ্রামে। বর্তমানে তা পাঁচ হাজারে নেমেছে।

“১০ দিনের সাধারণ ছুটিতে অফিস-আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। আবার অনেক ভবনে হকারদের যেতে নিষেধ করে দিয়েছে।”

রহিম বলেন, বাড়ি চলে যাওয়া হকারদের তারা দ্রুত ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। পত্রিকা মালিকরাও এ বিষয়ে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

হকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণ ছুটি শুরু হওয়ার পর তারাও সমিতি ও এজেন্টদের কাছে ছয় দিনের ছুটি চেয়েছিলেন। কিন্তু এজেন্টরা রাজি না হওয়ায় অনেকেই নিজ থেকে বাড়ি চলে যান।

চিটাগাং নিউজপেপার অ্যালায়েন্সের (সিএনএ) সদস্য ও দৈনিক পূর্বকোণের সম্পাদক ম. রমিজউদ্দিন চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাব ভবিষ্যতে ভয়াবহ হতে পারে, আবার নাও হতে পারে।

“ভবিষ্যতে কী হবে সেটা বোঝা যাচ্ছে না। সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করায় আপনারাও দেখছেন একটি অঘোষিত লকডাউন হয়ে গেছে। পত্রিকা বিলির সাথে যারা সম্পৃক্ত, তারাও নিজেদের সেফটির কথা বিবেচনা করে বিলি করছে না। পাশাপাশি কমে গেছে নিউজ কন্টেন্ট, গ্রাহক ও বিজ্ঞাপন।

“সবকিছু মিলিয়ে এবং সাপ্লাই চেইন বিবেচনায় নেওয়ার পাশপাশি মানুষের হাতে যেন পত্রিকা পৌঁছায় সেটি মাথায় রেখে আমরা সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে পত্রিকার পাতা কমিয়েছি, সাথে দামও।”

পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে উঠলে পত্রিকাগুলোও সামলে নিতে পারবে বলে আশা করছেন পূর্বকোণ সম্পাদক।