চট্টগ্রামের অলিগলিতে বাড়ছে জটলা, ‘দূরত্ব’ মানায়ও উদাসীনতা

  • মিন্টু চৌধুরী, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-03-30 20:25:03 BdST

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়া এবং একে অপরের সাথে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হলেও চট্টগ্রাম মহানগরীর বাসিন্দাদের মধ্যে তা নিয়ে খুব একটা সচেতনতা দেখা যায় না।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে শারীরিক দূরত্ব মানতে এবং জটলা কমাতে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও ফল মিলছে কম। ফলে ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের প্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়, নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় গণপরিবহন চলাচলেও। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষজনকে ঘরের বাইরে বের না হওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মানুষের মধ্যে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার কথাও বলা হয়।

এছাড়া কোথাও কোথাও দোকানে-বাজারে সোশ্যাল ডিসটেন্স মানতে ক্রেতাদের দাঁড়ানোর জায়গা চিহ্নিতও করে দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। 

২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর চট্টগ্রাম শহরের রাস্তাঘাট একপ্রকার ফাঁকাই হয়ে পড়ে। কিন্তু দুই-তিনদিন গড়াতেই চিত্র পাল্টাতে থাকে। নগরীর মূল সড়কগুলোতে লোকজনের উপস্থিতি খুবই কম দেখা গেলেও অলিগলির অবস্থা ছিল ভিন্ন।

সোমবার এবং গত রোববার নগরীর বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দিনের বেলা লোকজন কম দেখা গেলেও বিকাল হতেই অলিগলি ও পাড়ার দোকানগুলোতে ভিড় বাড়তে থাকে। কেউ প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করার জন্য দোকানে আসলেও অনেকেই শুধু আড্ডা দিতেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন।

মহানগরীর আগ্রাবাদ, বারিক বিল্ডিং, আন্দরকিল্লা, ঘাটফরহাদবেগ, হেম সেন লেইন, কাজীর দেউরী, লালখান বাজার, চেরাগী পাহাড়, ষোলশহর, মুরাদপুর, বহদ্দারহাটসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্রের দেখা মিলেছে।    

রোববার রাতে লালখান বাজার এলাকার মতিঝর্ণা মোড়ে হাতেগোণা কয়েকটি দোকান খোলা ছিল, দোকনগুলো ঘিরে ১০-১২ জন মানুষের জটলা দেখা গেছে। কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করতেই বললেন, কয়েকদিন ধরে ঘরে বসে থাকতে থাকতে বিরক্তি চলে এসেছে, সেজন্য একটু বাসা থেকে বের হয়েছেন।

নগরীর ষোলশহর এলাকাতেও ছিল একই চিত্র। ওই এলাকার বাসিন্দা সাইয়েদুল ইসলামও উত্তর দিলেন একই।

“করোনা নিয়ে আমরা সচেতন আছি। কিন্তু বাসায় আর কতক্ষণ বসে থাকা যায়। সেজন্য একটু বেরিয়েছি।”

সোমবার বিকালে নগরীর দেওয়ান বাজার এলাকার বাসিন্দা ভাস্কর ধর মুখে মাস্ক পড়ে বেরিয়েছেন কাঁচাবাজারের উদ্দেশে।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকার ও প্রশাসন থেকে যে নির্দেশনা দিয়েছে তা নিজেদের স্বার্থেই মেনে চলা উচিত। কিন্তু নগরীর বেশিরভাগ এলাকায় তা হচ্ছে না। লোকজন নির্দেশনা না মেনে শারীরিক দূরত্ব বজায় না রেখে বের হচ্ছে, দোকান থেকে জিনিসপত্র কিনছে।”

নগরীর সিআরবি সাত রাস্তার মাথা এলাকায় সোমবার বিকালের দিকে ভিড় দেখা যায় নিম্নআয়ের মানুষদের। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে দেওয়া সহযোগিতা নিতেই তারা জড়ো হয়েছেন।

এদের একজন আয়েশা জানান, করোনাভাইরাসের বিষয়টি তিনি জানেন। তারপরও পেটের তাগিদে বের হয়েছেন।

“রাস্তায় অনেকেই সহযোগিতা করছেন। তাদের কারও কাছ থেকে যদি সহযোগিতা পাই,” বলেন আয়েশা।

নগরীর বিভিন্ন এলাকায় খোলাদোকান এবং বাজারগুলোতেও মানুষজনকে নিরাপদ দূরত্ব না রেখে কেনাকাটা করতে দেখা গেছে। শুধু মাস্ক পরেই তারা বাইরে বেরোচ্ছেন তারা।

প্রশাসনের নির্দেশনা মানার জন্য চট্টগ্রাম নগর পুলিশ প্রশাসন (সিএমপি) ২৬ মার্চ থেকে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। লোকজন যাতে বাইরে বেশিক্ষণ অবস্থান করে জটলা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সিএমপি কমিশনার মো. মাহবুবর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কাজের ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং মানুষের জটলা কমানোর জন্য আমাদের পুলিশ সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছে। সচেতন করার জন্য শুরুর দিন থেকে মাইকিংসহ অন্যান্য সহযোগিতা চলছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য নিয়মগুলো মানা জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা আমাদের কাজ করছি। দিনে-রাতে টহল জোরদার করা হয়েছে। আমরা নগরবাসীকে আহ্বান জানাচ্ছি তারা যেন অন্তত নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ঘরেই থাকেন।”

পুলিশের পাশাপাশি নগরী ও জেলায় কাজ করছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। তাদের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন পর্যায়ে সহায়তামূলক কার্যক্রম গ্রহণের সাথে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

নগরীর অলিগলিতে জটলা বাড়ার বিষয়টি স্বীকার করে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন বলেন, “আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করছি, কিন্তু তারপরও হচ্ছে। মানুষ সচেতন না হলে এ থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।”

জোর করে সম্ভব না মন্তব্য করে তিনি বলেন, “বুঝিয়ে মোটিভেট করার চেষ্টা চলছে। লোকজন ঘরে থাকতে চাচ্ছে না।  কঠিন না হলে নিয়ন্ত্রণ করা জটিল। সরকারের তরফ থেকে আরও কঠোর নির্দেশনা আসলে আমরা তা পালন করব।”