চট্টগ্রামের হালিশহর থানায় ৭ দিনে হয়নি কোনো মামলা

  • উত্তম সেন গুপ্ত, চট্টগ্রাম ব্যুরো বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-03-30 21:41:28 BdST

নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশজুড়ে চলমান সাধারণ ছুটিতে বন্দর নগরীর থানাগুলোতে মামলার সংখ্যা নেমেছে তলানীতে।

নগরীর ১৬ থানায় চলতি মার্চ মাসে মোট মামলা হয়েছে সাড়ে ৫০০। গত ১০ দিনে এই মামলার সংখ্যা ছিল ১০০টি। শেষ তিন দিনে মামলা হয়েছে হাতেগোনা কয়েকটি।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, জনসাধারণের চলাচল কমে যাওয়ায় দৃশ্যমান অপরাধও কম হচ্ছে। এরপরও যেসব ঘটনা ঘটছে তার অধিকাংশ পারিবারিক ও মাদক সংক্রান্ত।

নগরীর ১৬টি থানাকে চারটি জোনে ভাগ করে পরিচালিত হয় চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কার্যক্রম।

ডবলমুরিং, পাহাড়তলী, হালিশহর ও আকবর শাহ থানা নিয়ে গঠিত পশ্চিম জোন।

এই জোনে চলতি মার্চ মাসে মোট মামলা হয়েছে ১২০টি। যেখানে গত ১০ দিনে মামলা হয়েছে ২৫টি। অন্যান্য সময়ে সে পরিমাণ অনেক বেশি থাকত বলে বিভিন্ন থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়।

তারা জানান, গত কয়েক দিনে দিনে রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় অপরাধের সংখ্যাও তুলনামূলক কমে গেছে। যে কয়েকটি মামলা হয়েছে কিংবা হচ্ছে সেগুলোর বেশিরভাগ মাদক সংক্রান্ত মামলা।

চলতি মাসে ডবলমুরিং থানায় মোট মামলা হয়েছে ৪৪টি। যার মধ্যে গত ১০ দিনে হয়েছে ১৬টি। পাহাড়তলীতে ২১টি মামলার মধ্যে গত ১০ দিনে একটি, আকবরশাহ থানায় ২৮টির মধ্যে ১০ দিনে তিনটি ও হালিশহর থানায় চলতি মাসে ২৭ টি মামলার মধ্যে গত সাত দিনে কোন মামলা হয়নি।

এসব মামলার অধিকাংশই মাদক মামলা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

আকবর শাহ থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, নিম্ন আয়ের লোকজন অধ্যুষিত এলাকা হওয়ার তার থানা এলাকায় মূলত পারিবারিক বিরোধ, জায়গা-জমি দখল সংক্রান্ত বেশি মামলা হয়ে থাকে।

চলতি মাসে তার থানায় ২৮টি মামলা হলেও গত ১০ দিনে মামলা হয়েছে তিনটি। যার মধ্যে দুইটি মাদক ও একটি ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণার মামলা।  

পাহাড়তলী থানার ওসি মইনুর রহমান জানান, জায়গা জমি বিরোধ ও মাদক আইনে বেশি মামলা হয় তার থানায়। যেখানে গত দুই মাসে তার থানায় মামলা হয়েছে ৪৫টি সেখানে চলতি মাসে মামলা হয়েছে ২১টি। আর গত ১০ দিনে মামলা হয়েছে একটি। সেটিও মাদকের মামলা।

হালিশহর থানায় গত সাত দিনে কোন মামলা হয়নি বলে জানান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় সিনহা।

তিনি জানান, সর্বশেষ মামলা হয়েছে গত ২৩ মার্চ। মামলা দুইটির একটি হল মানব পাচারের অভিযোগে অপরটি সিএনজি অটো রিকশা চুরির।

ডবলুমরিং থানার ওসি সদীপ কুমার দাশ জানান, তার থানায় সবচেয়ে বেশি মামলা হয় মাদক, মারামরি ও পারিবারিক সহিংসতায়। করোনা প্রদুর্ভাবের কারণে এসব ঘটনাও হ্রাস পেয়েছে। গত ১০ দিনে তার থানায় যেসব মামলা হয়েছে তার বেশিরভাগ মাদক উদ্ধার ও পারিবারিক বিরোধের।

এছাড়াও গত তিন দিনে এই থানায় কোন মামলা হয়নি বলে জানান তিনি।

এদিকে বন্দর জোনের বন্দর ও পতেঙ্গা থানায় গত ১০ দিনে মামলা হয়েছে তিনটি।

বন্দর থানার ওসি সুকান্ত চক্রবর্ত্তী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এই থানায় বন্দর সংশ্লিষ্ট এবং পণ্য চুরি সংক্রান্ত মামলা বেশি হয়। চলতি মাসের প্রথম ২০ দিনে ৩২টি মামলা হলেও গত ২১ থেকে ২৯ তারিখ পর্যন্ত মামলা হয়েছে একটি।

সেটিও র‌্যাবের করা মাদকের মামলা বলে জানান তিনি।

পতেঙ্গা থানার ওসি উৎপল বড়ুয়া জানান, চলতি মাসে তার থানায় ২৭টি মামলার মধ্যে গত ১০ দিনে মামলা হয়েছে দুইটি।

চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ, খুলশী, বায়েজিদ বোস্তামী ও চান্দগাঁও থানা নিয়ে নগর পুলিশের উত্তর জোন।

এই জোনে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হয় খুলশী থানায়। এই থানায়ও গত ১০দিনে মামলা হয়েছে ছয়টি। যারমধ্যে রয়েছে মাদক, মারামারির।

খুলশী থানার ওসি প্রণব চৌধুরী বলেন, এই থানায় সবচেয়ে বেশি মামলা হয় রাজনৈতিক ঘটনায়। তবে এই পরিস্থিতিতে সেটিও নেমেছে শূন্যের কোটায়।

গত ১০ দিনে এই থানায় ছয়টি মামলা হলেও গত পাঁচ দিনে কোনো মামলা হয়নি বলে জানান তিনি।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি প্রিটন সরকার জানান, তার থানায় সবচেয়ে বেশি মামলা হয় মাদক, অস্ত্র, নারী নির্যাতন, জমি দখলের ঘটনায়।

গত ১০ দিনে এই থানায় ছয়টি মামলা হলেও তিন চারদিনে কোন মামলা হয়নি। আগে যেসব মামলা হয়েছে সেগুলোর বেশির ভাগ মাদক ও নারী নির্যাতন আইনে।

চান্দগাঁও থানায় গত পাঁচদিনে দুইটি মামলার তথ্য জানিয়েছেন পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রহিম।  

এদিকে চট্টগ্রামের সবচেয়ে বেশি মামলা হয়ে থাকে দক্ষিণ জোনের চারটি থানা কোতোয়ালী, বাকলিয়া, চকবাজার ও সদরঘাট থানায়।

এই জোনের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ মো. আব্দুর রউফ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, রাস্তায় সাধারণ মানুষের উপস্থিতি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বেশি। আর সড়কের সবকিছুই দৃশ্যমান।

তার জোনের চারটি থানায় মাদক, চুরি, পারিবারিক বিরোধের ঘটনায় বেশি মামলা হলেও তা এখন কমেছে।

চট্টগ্রাম নগরীর সবচেয়ে বেশি মামলা হয় কোতোয়ালী থানায় এই থানায় গত ফেব্রুয়ারি মাসে মামলা হয়েছিল ১০৫টি। আর গত ১০ দিনে মামলা হয়েছে ১৫টি। তবে গত তিন দিনে কোন মামলা হয়নি এই থানায়।

থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন জানান, তার থানায় সবচেয়ে বেশি মামলা হয় মাদক, চুরি, ছিনতাই এসব ঘটনায়। গত তিনদিনের মধ্যে ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার ছাড়া আর কোন মামলা হয়নি।

তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষ ঘরে, রাস্তায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। যার কারণে বাসায় চুরি কমেছে রাস্তায় ছিনতাই কমেছে।

বাকলিয়া খানার ওসি নেজাম উদ্দিন জানান, তার থানায় পারিবারিক কলহে নারী নির্যাতন, মাদক, অস্ত্র আইনে বেশি মামলা হলেও চলতি সময়ে তা হ্রাস পেয়েছে অনেক।

এই ১০ দিনে তার থানায় মাদক আইনে তিনটি, চুরির ঘটনায় একটি ও অস্ত্র আইনে দুইটি মামলা হয়েছে বলে জানান ওসি।

এছাড়া চকবাজারে গত ১০ দিনে তিনটি ও সদরঘাটে মামলা হয়েছে ১৪টি।