খাদ্য সহায়তার নামে দরিদ্রদের জড়ো নয়: কাউন্সিলরদের নাছির

  • চট্টগ্রাম ব্যুরো, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-03-31 22:04:01 BdST

খাদ্য সহায়তা দেওয়ার নামে দরিদ্র মানুষদের জড়ো না করতে কাউন্সিলরদের নির্দেশনা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিসিসি) মেয়র আ জম নাছির উদ্দীন।

মঙ্গলবার সিসিসির কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

এ সময় কাউন্সিলরদের উদ্দেশে নাছির বলেন, “সরকারি খাদ্য সহায়তা যত দ্রুত বণ্টন করা যায় ততই মঙ্গল। এজন্য অগ্রাধিকার তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। খাদ্য সহায়তার নামে অসচ্ছল মানুষকে জড়ো করা যাবে না।

“তালিকা অনুয়ায়ী তাদের ঘরে ঘরে পৌঁছায়ে দিতে হবে। এতে কোনো ধরনের গাফিলতি করা যাবে না।”

মেয়র বলেন, “একই ব্যক্তি বার বার সরকারি খাদ্য সহায়তা যেন না পায়, সেই ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। অসচ্ছল ব্যক্তি কোন দলের, কার সমর্থক সেটা বিবেচনায় না নিয়ে মানবিক বিবেচনায় সরকারি খাদ্য সহায়তা তার ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। কারণ এই মুহূর্তে মানুষকে বাঁচানোই আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”

সিটি মেয়র নাছির বলেন, “এই দুর্যোগের মুহূর্তে কাউন্সিলরদের যেভাবে কাজ করার সুযোগ আছে, সেভাবে এখনো সকল কাউন্সিলর দায়িত্ব পালন করছেন না। তাই বলে কেউই করছেন না, তাও নয়।”

একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের কাছাকাছি যাওয়ার যে সুয়োগ আছে তা কাজে লাগিয়ে জনসচেতনা সৃষ্টিতে কাজ করতে কাউন্সিলরদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বিচ্ছিন্নভাবে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ না করে সম্মিলিতভাবে বিতরণের জন্য স্থানীয় বিত্তবানদের সাথে সমন্বয় করতে কাউন্সিলরদের পরামর্শ দেন নাছির।

নগরীতে মশার উপদ্রবের কথা উল্লেখ করে সিটি মেয়র বলেন, “মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার এবং মশক নিধন শতভাগ নিশ্চিতকরণের ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সুস্পষ্ট নিদের্শনা দিয়েছেন।

“করোনাভাইরাসের সংক্রমন রোধে প্রতি ওয়ার্ডে জীবাণুনাশক পানি ছিটানোর  পাশাপাশি আগামীকাল থেকে প্রত্যেক ওয়ার্ডে মশা নিধনে লার্বিসাইড ওষুধ ছিটানো হবে। ওয়ার্ড এলাকায় ঝোপ-ঝাড়সহ মশার প্রজনন স্থানগুলো ধ্বংস করতে হবে।”

সভায় নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর, সিসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামসুদ্দোহা, সচিব মো. আবু শাহেদ চৌধুরীসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে দুপুরে ইউএনডি ও ইউকেএইডের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের (এলআইইউপিসি) উদ্যোগে নগরীর ২০টি ওয়ার্ডের ৩৮৪টি স্পটে হাত ধোয়ার পয়েন্ট হস্তান্তর করেন মেয়র।

সিসিসি পরিচালিত এই প্রকল্পের অধীন পয়েন্টগুলোতে থাকছে সাবান, পানির ট্যাংক ও বালতি। পাশাপাশি এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭৫ হাজার উপকারভোগীকে সাবান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়া হবে।

এ সময় মেয়র জানান, সিসিসির উদ্যোগে নগরীর বাকি ২১টি ওয়ার্ডে তিনশটি স্পটে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হবে।