এবার ঈদে ঘরের খাবার পাচ্ছেন না চট্টগ্রামের বন্দিরা

  • চট্টগ্রাম ব্যুরো, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-05-22 20:05:04 BdST

নতুন করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে এবার ঈদে কারাগারে বন্দিরা পরিবারের রান্না করা খাবার পাচ্ছেন না।

বছরের দুই ঈদে কারাগারে থাকা বন্দিদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা খাবার নিয়ে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পান। মহামারীর কারণে এবার তার ব্যত্যয় ঘটছে।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার রফিকুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বন্দিদের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কারণ করোনাভাইরাস ছোঁয়াচে রোগ, বিভিন্ন মাধ্যমে এটি ছড়িয়ে পড়ে।”

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে গত ২৫ মার্চ থেকে লকডাউন শুরু হয়েছে। ওই সময় থেকেই কারাগারের বন্দিদের সাথে স্বজনদের দেখা সাক্ষাতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। সাক্ষাৎ বন্ধ করে বন্দিদের টেলিফোনে যোগাযোগের সুযোগ দেয়া হয়।

এরপর থেকে সপ্তাহে একদিন পাঁচ মিনিটের জন্য বন্দিরা কারা কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে স্বজনদের সাথে টেলিফোনে কথা বলতে পারছেন। সাক্ষাতের সুযোগ না থোকলেও ঈদের সময়ও টেলিফোনে ব্যবস্থা থাকছে।

জেলার রফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রতি বছর ঈদে বন্দিদের জন্য স্বজনরা বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে সাক্ষাৎ করতে পারতেন। কিন্তু এবার সেটি করতে পারবেন না স্বজনরা। তবে কারা অভ্যন্তরে ঈদের দিন প্রতিবারের মতো এবারও উন্নত খাবারের ব্যবস্থা থাকবে।

“ঈদের দিন সকালে বন্দিদের খাবারের মেন্যুতে থাকবে মুড়ি, পায়েস। দুপুরে আর রাতে থাকবে পোলাও, মাংস, মিষ্টান্ন।”

প্রতিবছর ঈদের আগে বন্দিমুক্তির আদেশ আসলেও এবছর তা আসেনি জানিয়ে জেলার বলেন, সরকারি আদেশে বিশেষ বিবেচনায় দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে বন্দি মুক্তি দেয়া হয়েছে। সে তালিকায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকেও ৪২ জন বন্দি মুক্তি পেয়েছেন। 

দেশের অন্যান্য কারাগারের মতো চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারেও ধারণ ক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি কয়েদি ও হাজতি রয়েছেন।

কারাগার থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, প্রায় দুই হাজার বন্দির ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন চট্টগ্রাম কারাগারে গড়ে বন্দি থাকে পাঁচ হাজার। শুক্রবার কারাগারে মোট বন্দি ছিল ছয় হাজার ৯৭১ জন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে আগেই কারাগারে নেয়া হয়েছিল বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা।

কারাসূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ৪৬০ জন কর্মকর্তা ও কারারক্ষী রয়েছেন। তাদের আবার আনেকেই কারাগারের সীমানায় পরিবার নিয়ে থাকেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে এসব পরিবারের সদস্যরাও অনেকটা ‘লকডাউনের’ মধ্যে আছেন।

তাদের বাজার করতে একজন ডেপুটি জেলার ও দুইজন কারারক্ষীর সমন্বয়ে একটি কমিটি করে দেয়া হয়েছে। তারাই সবার জন্য বাজারের ব্যবস্থা করে দেন।

এছাড়াও কারারক্ষী ও কর্মকর্তারা প্রধান ফটক দিয়ে এবং কারা অভ্যন্তরে প্রবেশের আগে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে এবং ক্লোরিন মিশ্রিত পানিতে বুট ভিজিয়ে নেন।