রুট পারমিটের কথা বলে ৯১ লাখ টাকা নেন সাহেদ: চট্টগ্রামে মামলা

  • চট্টগ্রাম ব্যুরো, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-07-13 20:57:55 BdST

bdnews24
আত্মগোপনে যাওয়ার সাত দিনেও রিজেন্ট চেয়ারম্যান সাহেদকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে চিকিৎসার নামে ‘প্রতারণা করে’ পালিয়ে থাকা রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহম্মদ সাহেদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৯১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে।

গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেগা মোটরসের মালিক জিয়াউদ্দিন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের পক্ষে তার চাচাতো ভাই মো. সাইফুদ্দিন (৫৫) বাদী হয়ে সোমবার বিকালে নগরীর ডবলমুরিং থানায় এই মামলা দায়ের করেন।

মামলায় মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম ছাড়াও মো. শহীদুল্লাহ (৬০) নামে ফেনীর ছাগলনাইয়া এলাকার একজন বাসিন্দাকে আসামি করা হয়েছে।

ডবলমুরিং থানার ওসি সদীপ কুমার দাশ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মেগা মোটরসের আমদানি করা থ্রি হুইলার্স যানবাহনের ঢাকায় রুট পারমিট পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদ ও তার সহযোগী শহীদুল্লাহ প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও নগদে ৯১ লাখ ২৫ হাজার টাকা প্রতারণার মাধ্যমে নিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০১৭ সালের ২২ জানুয়ারি থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নগদে ৩২ লাখ টাকা এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সাহেদের মালিকানাধীন রিজেন্ট কেসিএস লিমিটেডের প্রিমিয়ার ব্যাংকের ঢাকার উত্তরা অ্যাভিনিউ গেইট শাখার মাধ্যমে বাকি ৫৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা জমা করা হয়।

দণ্ডবিধির ৪৭৮, ৪৭১, ৪২০ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।

মামলায় বলা হয়েছে, পূর্ব পরিচিত শহীদুল্লাহর মাধ্যমে রিজেন্টের মো. সাহেদের সাথে মালিক জিয়াউদ্দিনের পরিচয় হয়। তার মাধ্যমেই ঢাকায় রুট পারমিট পাইয়ে দেওয়ার জন্য নগদ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এসব অর্থ দেওয়া হয়।

“পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ৫ মার্চ রিজেন্টের সাহেদ বিআরটিএ চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত একটি পরিপত্রের ফটোকপি দেন, যা পরবর্তীতে জাল বলে প্রতীয়মান হয়।”

এ ঘটনার পর শাহেদ বিভিন্ন সময়ে টাকা দেবেন বলে কালক্ষেপণ করেন এবং টাকা চাইতে গেলে বিভিন্ন সময়ে জিয়াউদ্দিনকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ  ঘটনার পর মেগা মোটরসের মালিক জিয়াউদ্দিন অসুস্থ হয়ে পড়েন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

“ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত অর্থ ফেরত না দেওয়ায় এ প্রতারণার মামলাটি করা হয়েছে,” বলা হয়েছে এজাহারে।

পরীক্ষা না করেই করোনাভাইরাসের ভুয়া প্রতিবেদন প্রদান, করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় রোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পরেও সরকারের কাছে প্রায় দুই কোটি টাকার বিল জমাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ঢাকার উত্তরা ও মিরপুরে রিজেন্ট হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এসব ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় রিজেন্টের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদসহ ১৭ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে হাসপাতালের নয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারী গ্রেপ্তার হলেও এখনও প্রধান আসামি সাহেদের কোনো হদিস পায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।