বঙ্গবন্ধুর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ শোষিত মানুষের জন্য: নওফেল

  • চট্টগ্রাম ব্যুরো, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-08-15 20:52:24 BdST

শোষিত মানুষের বাসযোগ্য রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন নিয়ে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তা পূরণ করাই মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

শনিবার দুপুরে নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধু যে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন, তা শোষিত মানুষের বাসযোগ্য ভূমির জন্য। শুধু ভৌগলিক স্বাধীনতা জাতির জন্য যথেষ্ট পরিচয় নয়, মূল লক্ষ্য সাম্য-মৈত্রী-শান্তি ও প্রগতির জয়যাত্রা রচনা করা।

“প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর সে আরাধ্য জয়যাত্রার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এবারের জাতীয় শোক দিবস ভিন্নমাত্রায় এসেছে। এটা হল করোনাকালের দুর্যোগ-দুর্বিপাক মোকাবেলা করে সুন্দর একটি আগামীর প্রত্যাশা। কখনও কখনও শোক শক্তির উৎস হয়। শোককে শক্তিতে পরিণত করতে পেরেছি বলেই বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং দাঁড়াবেই।”

সভায় নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, “বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে একাত্তরের পরাজিত অপশক্তির দোসররা ভেবেছিল আবার পাকিস্তান কায়েম হবে। সেদিন যা ঘটেছিল তা একটি পৃথিবীর জঘন্যতম অপরাধ।

“এই অপরাধকে আড়াল করতে হত্যাকারীদের অপরাধের দায়মুক্তি জন্য রাতারাতি ইনডেমনিটি আদেশ জারি হয়। যাকে জিয়াউর রহমান আইনসিদ্ধ করেন এবং হত্যাকারীদের পুর্নবাসিত ও পুরস্কৃতও করেন। এই অপপ্রয়াস ইতিহাসের পাপবিদ্ধ অধ্যায়।”

নগর কমিটির সহ-সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেন, “আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের বলে দাবি করি, তাদের অনেকেই মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি। তবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং তার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য-প্রকৃতি ও তাৎপর্য যদি জানতে না পারি তা হলে ভবিষ্যত প্রজন্ম দেশপ্রেম বর্জিত হবে।”

জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “সেদিন বেশি দূরে নয়, বঙ্গবন্ধু হত্যার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি যারা বিদেশে পালিয়ে আছেন, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার কূটনৈতিক প্রয়াসকে জোরদার করে রায় কার্যকর করা হবে।”

সভায় সভাপতির বক্তব্যে নগর কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ অগাস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হলেও তিনি অবিনশ্বর ও মৃত্যুহীন। জীবিত মুজিবের চেয়ে শহীদ মুজিব অনেক বেশি শক্তিশালী।

নগর কমিটির প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুকের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন সহ সভাপতি নঈম উদ্দিন চৌধুরী ও আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ রশিদ, কার্যনির্বাহী সদস্য হাজী মোহাম্মদ ইয়াকুব, মোহাম্মদ আবুল মনসুর প্রমুখ।

জাতীয় শোক দিবসে দারুল ফজল মার্কেটের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনির্মিত রাখা, কালো পতাকা উত্তোলন, কালোব্যাজ ধারণ ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নেতারা।

এছাড়া গাছের চারা রোপন, কোরাস খতম, মিলাদ ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।