পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বর্ধিত ‘হোল্ডিং ট্যাক্স’ চান সুজন

  • মিঠুন চৌধুরী, চট্টগ্রাম ব্যুরো বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-09-26 21:37:27 BdST

bdnews24
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন

দায়িত্ব নেওয়ার পর দেনার বোঝা কমাতে চট্টগ্রামের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে পুনর্মূল্যায়ন অনুসারে বর্ধিত গৃহকর আদায় করতে চান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিসিসি) প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন।

নিজের ইচ্ছের কথা জানিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর অনুমতি চেয়ে চিঠিও দিয়েছেন তিনি।

২০১৬ সালের মার্চে সেসময়ের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বর্ধিত হারে ভাড়ার ভিত্তিতে স্থাপনার কর নির্ধারণ শুরু করলে তার বিরোধিতাকারীদের একজন ছিলেন সুজন।

এখন অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলছেন, শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে পুনর্মূল্যায়ন অনুসারে গৃহকর আদায় করা যায় কিনা তা ‘জানতে চেয়েছেন’ মাত্র। বেসরকারি স্থাপনা তথা নগরবাসীর জন্য তা প্রযোজ্য হবে না। 

সিটি করপোরেশন এলাকার সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে পঞ্চবার্ষিক গৃহকর পুনর্মূল্যায়ন অনুসারে গৃহকর আদায়ের অনুমতি চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের কাছে ২৩ সেপ্টেম্বর চিঠি দেন প্রশাসক।

চিঠিতে বলা হয়, সিসিসি’র বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ম্যাচিং ফান্ড, উন্নয়ন কাজের বকেয়া এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আনুতোষিক বাবদ ৮৩০ কোটি টাকা ঘাটতির বোঝা রয়েছে।

ব্যক্তিগত হোল্ডিংগুলো ‘বাদ দিয়ে’ শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহও যদি পুনর্মূল্যায়ন কৃত হারে গৃহকর প্রদান করে তাহলে বার্ষিক প্রায় ১৯১ কোটি টাকা বেশি গৃহকর আদায় করা সম্ভব।

সিটি করপোরেশন সমূহের (কর) বিধি ১৯৮৬ এর ২১ বিধি অনুসারে পাঁচ বছর পর পর কায়িক অনুসন্ধানের মাধ্যমে গৃহকর পুনর্মূল্যায়নের এখতিয়ার সিটি করপোরেশনগুলোকে দেয়া হয়েছে।

সে অনুসারে ২০১৬-১৭ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পুনর্মূল্যায়নের কার্যক্রম গ্রহণ করলেও বিভিন্ন মহলের বিরোধিতার কারণে স্থানীয় সরকার বিভাগ তা স্থগিত করার নির্দেশনা দেওয়ায় তা আর বাস্তবায়ন করতে পারেননি নাছির।

সুজনের সময় স্বল্প, কিন্তু স্বপ্ন অনেক

সিসিসি: দায়ের ভারে ন্যুব্জ, টাকার খোঁজে সুজন  

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রশাসক সুজন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম বলেন, “সরকারের কাছে জানতে চেয়েছি, শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে নতুন হারে গৃহকর আদায় করা যায় কি না। আমাদের অনেক দায়-দেনা। এখনও মন্ত্রণালয় থেকে কিছু জানানো হয়নি।”

তিনি বলেন, “আজকে (শনিবার) পরামর্শক কমিটির সভায় অনেকে বলেছেন, পাঁচ বছরে অনেক স্থাপনা দৈর্ঘ্য প্রস্থে বেড়েছে। সেখানে কেউ স্থাপনার পূর্ববর্তী আয়তন অনুসারেই কর দিচ্ছে কি না, তা যাচাই করে দেখতে।”

২০১৬ সালের মার্চে ‘পঞ্চবার্ষিকী কর মূল্যায়ন কর্মসূচি’র মধ্য দিয়ে নতুন করে হোল্ডিং এর কর নির্ধারণ শুরু করেন মেয়র আ জ ম নাছির। মূল্যায়ন শেষে ওই বছরের ৩১ অগাস্ট তা প্রকাশ করা হয়।

নতুন মূল্যায়নে ১ লাখ ৮৫ হাজার ২৪৮টি স্থাপনার বিপরীতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৮৫১ কোটি ৩০ লাখ ৬৪ হাজার টাকা গৃহকর নির্ধারণ করেন নাছির।

এরপর এ বিষয়ে আপিল করতে সময় বেঁধে দেয় সিসিসি। নতুন কর মূল্যায়নের পর থেকেই নগরবাসী অতিরিক্ত হোল্ডিং ট্যাক্স ধার্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে।

পাশাপাশি ‘করদাতা সুরক্ষা পরিষদ’ নামের একটি সংগঠন নতুন পদ্ধতিতে ভাড়ার ভিত্তিতে হোল্ডিং ট্যাক্সের পরিবর্তে আগের নিয়মে স্থাপনার আয়তন হিসেবে হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ ও আদায়ের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।

প্রয়াত নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ দলীয় নেতারাও বিরোধিতা করেন নাছিরের ওই উদ্যোগের।

পরে ২০১৭ সালের নভেম্বরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় গৃহকর পুনর্মূল্যায়ন স্থগিতের আদেশ দেয়। পাশাপাশি মন্ত্রণালয় হোল্ডিং ট্যাক্স কার্যক্রম অটোমেশনের আওতায় এনে তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কর পুনর্মূল্যায়ন স্থগিত রাখতে এবং আগের এসেসমেন্ট অনুসারে গৃহকর আদায়ের নির্দেশ দেয়।

গত ৪ অগাস্ট ২০২০-২১ অর্থ বছরের জন্য দুই হাজার ৪৩৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার বাজের ঘোষণা করেন মেয়র নাছির, যাতে ৭৯০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় ধরা হয় দায় শোধে।

পাশাপাশি কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতা ও পারিশ্রমিক বাবদ ব্যয় ধরা হয় ২৯০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতার এই টাকা করপোরেশনের নিজস্ব আয় থেকে পরিশোধ করতে হয়।

২০১৯-২০ অর্থ বছরে সব খাত মিলিয়ে সিসিসি’র রাজস্ব আদায় হয় ২৫৩ কোটি সাত লাখ টাকা।

২০২০-২১ অর্থ বছরের বাজেটে হালকর ও অভিকর খাতে ১৪৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা, অন্যান্য কর ১৩১ কোটি টাকা এবং বকেয়া কর ও অভিকর খাতে ১৯৯ কোটি ১৭ লাখ ৪০ হাজার টাকাসহ মোট ৪৭৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

তার আগে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে এ খাতে ২০১ কোটি টাকা পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করে মাত্র ৫৩ কোটি টাকা আদায় হয়েছিল।

অটোমেশন কত দূর

সিটি করপোরেশনে অটোমেশনের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পে অধীনে এটিন-আরকে (জেভি) নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

২০১৮ সালের ৩০ জুন ওই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত অটোমেশনের জন্য সফটওয়্যার প্রস্তুত হয়েছে। আর ওই সফটওয়্যারে নগরীর স্থাপনাগুলোর ডাটা এন্ট্রির কাজ চলছে।

সিসিসি পরিচালিত চার মাস অন্তর মূল্যায়ন অনুসারে বর্তমানে নগরীতে স্থাপনার সংখ্যা ১ লাখ ৯৪ হাজার ৯০৪টি। এরমধ্যে প্রায় ২৫০০ সরকারি স্থাপনা। বাকিসব বেসরকারি স্থাপনা।

তবে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৬৭ হাজার প্রতিষ্ঠানের ডাটা এন্ট্রি শেষ করা সম্ভব হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও প্রায় ২৭ হাজার প্রতিষ্ঠানের তথ্য এখনও অন্তর্ভুক্ত করা বাকি।

সিসিসি’র আইটি অফিসার ইকবাল হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, অনলাইন পেমেন্টের জন্য সাতটি ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। সফটওয়্যার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নতুন করে প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ প্রক্রিয়াধীন।

“স্বল্প পরিসনে এটিএন-আরকে আমাদের এখনও সহায়তা করে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।”

এক প্রশ্নের জবাবে ইকবাল হাসান জানান, স্থাপনার এসেসমেন্ট সিটি করপোরেশনই ম্যানুয়েলি করবে। সেসব তথ্য ডিজিটালি আপডেট করা হবে।