সিসিসি মেয়রের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দূতের সাক্ষাৎ

  • চট্টগ্রাম ব্যুরো বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-02-28 19:35:59 BdST

bdnews24

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিসিসি) মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করে বন্দর নগরীতে বিনিয়োগে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার।

রোববার এই সাক্ষাতের সময় তিনি চট্টগ্রামে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে বিনিয়োগ করতে মেয়র যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার বলেন, চট্টগ্রামে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে বিনিয়োগে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী। এজন্য দূতাবাসের বাণিজ্যিক কাউন্সিলরকে পর্যবেক্ষণ ও সম্ভাব্যতা যাচাই পূর্বক প্রতিবেদন প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

“এর ভিত্তিতেই এই খাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কি পরিমাণ বিনিয়োগ করা যাবে সে ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।”

রাষ্ট্রদূত বলেন, “চট্টগ্রাম ভূ-প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্যে একটি বৈচিত্র্যময় অপরূপ নগরী। এখানে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক বন্দর। এই চট্টগ্রাম বন্দর শুধু জাতীয় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রধান অবলম্বন নয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক পোতাশ্রয়। তাই চট্টগ্রামের প্রতি আমাদের আগ্রহ ও সুনজর রয়েছে।

“সিটি মেয়র অত্যন্ত সুন্দরভাবে চট্টগ্রামের গুরুত্ব, সম্ভাবনা এবং সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম ও সেবার পরিধি নিয়ে যেসব কথা বলেছেনে তার সাথে আমি সহমত পোষন করি। কূটনৈতিক পেশাগত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আমি তার পরামর্শ ও প্রস্তাবনাসমূহ বিবেচনা করতে আন্তরিকভাবে আগ্রহী।”

এর আগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “চট্টগ্রাম বিশ্বের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রবেশ দ্বার। চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করে রিজিওনাল কানেক্টিভিটি সম্পৃক্ততার সূত্রে ভারতের পূর্বাঞ্চল, ভূ-সীমান্তবর্তী দেশ নেপাল, ভুটানসহ মিয়ানমার হয়ে চীনের কুনর্মিং সিটি পর্যন্ত অর্থনৈতিক প্রাগ্রসরতা নতুন ভাবে সংযোজিত হলে চট্টগ্রাম বিশ্ব অর্থনীতি ও বাণিজ্যের অগ্রগতি ও উন্নয়নের নাভিমূল হিসেবে প্রাণময় গতিময়তা পাবে।

“বে-টার্মিনাল, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্প, মহেশখালী গভীর সমুদ্র বন্দর, চট্টগ্রাম বন্দর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে  টানেল নির্মাণ, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ, চট্টগ্রাম নগরীতে আউটার রিং রোড নির্মাণ, মিরসরাই থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নতুন নতুন পর্যটন স্পট, উপ-শহর এবং অর্থনৈতিক জোন স্থাপনের মধ্য দিয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রাম শিল্পায়ন ও বহুমাত্রিক উন্নয়নে বিদেশী বিনিয়োগের উর্বর ভূমি হিসেবে পরিগণিত হতে যাচ্ছে।”

তিনি মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সারা দেশের একমাত্র স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান-বহুমাত্রিক নাগরিকসেবার পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি দলিত শ্রেণীর (সেবক) জন্য আবাসন ব্যবস্থা নিরসনে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

“আইটিসহ বিভিন্ন বেসরকারি খাতে আপনাদের সরকারের বিনিয়োগ ও সহায়তা প্রদানের সুবিবেচনা বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্বকে আরো উন্নত ও সদৃঢ় করবে।”

এসময় উপস্থিত সিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, ভারপ্রাপ্ত সচিব ও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মফিদুল আলম, মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক।