পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

মিতু হত্যা মামলার আসামি সাক্কু গ্রেপ্তার

  • চট্টগ্রাম ব্যুরো, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-05-13 00:22:48 BdST

সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যার ঘটনায় নতুন মামলা হওয়ার পর সাইদুল আলম শিকদার ওরফে সাক্কু নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

বুধবার রাতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রানীরহাট বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান র‌্যাব-৭ এর উপ-পরিচালক মেজর মুশফিকুর রহমান।

বুধবার মিতুর বাবা মোশারফ হোসেন যে মামলা করেছেন তাতে সাক্কুর নাম রয়েছে।

২০১৬ সালের ৫ জুন মিতু হত্যার পর ১ জুলাই শাক্কুকে গ্রেপ্তার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছিল, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া খুনিরা যে মোটর সাইকেল ব্যবহার করেছিল সেটা সরবরাহকারী ছিলেন সাক্কু। তার ছোট ভাই কামরুল ইসলাম শিকদার হত্যাকাণ্ডের অন্যতম পরিকল্পনাকারী।

র‌্যাব কর্মকর্তা মেজর মুশফিক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাবুল আক্তার যে মামলায় বাদী ছিলেন সে মামলায় জামিনে ছিলেন সাক্কু। নতুন করে বাবলু আক্তারের শ্বশুর মোশারফ হোসেনের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় মিতুকে।

পদোন্নতি পেয়ে পুলিশ সদরদপ্তরে যোগ দিতে ওই সময় ঢাকায় ছিলেন বাবুল। তার ঠিক আগেই চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশে ছিলেন তিনি।

হত্যাকাণ্ডের পর নগরীর পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়, যার বাদী ছিলেন বাবুল আক্তার নিজেই।

মামলায় যে অভিযোগ দিলেন বাবুল আক্তারের শ্বশুর  

‘পরকীয়ায় জড়িয়ে বাবুল খুন করান’ মিতুকে, মামলায় অভিযোগ বাবার  

স্ত্রী হত্যার আসামি হয়ে রিমান্ডে বাবুল আক্তার  

এদিকে মিতুর বাবা মোশারফ হোসেন প্রথম দিকে জামাতার পক্ষে কথা বললেও পরে নিজেই সন্দেহের আঙুল তোলেন।

পুলিশের সাবেক পরিদর্শক মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে হত্যার পেছনে তার জামাইয়ের যোগসাজশ রয়েছে বলে তার ধারণা।

আদালতের আদেশে পরে মিতু হত্যা মামলা যায় পিবিআইয়ের হাতে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় পাঁচ বছরের মাথায় বুধবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বলেন, মিতু হত্যার সঙ্গে তার স্বামী বাবুল আক্তারের ‘সম্পৃক্ততার প্রমাণ’ তারা পেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

“বাদী হিসাবে তার দায়ের করা মামলায় আইন অনুযায়ী তাকে গ্রেপ্তার করা যায় না। তার দায়ের করা মামলায় ফাইনাল রিপোর্ট দিয়ে তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।

ঢাকায় ওই সংবাদ সম্মেলনের পরপরই চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় যান মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন। বাবুলকে প্রধান আসামি করে আটজনের বিরুদ্ধে নতুন একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন তিনি।

বাবুল ও সাক্কু ছাড়াও মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বাবুলের ‘সোর্স’ কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুছা, এহতেশামুল হক ভোলা, মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম, মো. আনোয়ার হোসেন, শাহজাহান ও খায়রুল ইসলাম কালু।