পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

সিআরবির হাসপাতাল প্রকল্প ঘুরে এলেন আওয়ামী লীগ নেতারা

  • চট্টগ্রাম ব্যুরো, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-07-14 21:15:01 BdST

bdnews24

চট্টগ্রামে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সদর দপ্তর সিআরবি এলাকায় পিপিপি প্রকল্পের আওতায় হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ নির্মাণ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা নেতৃবৃন্দ বুধবার দুপুরে প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনে যাওয়া নেতাদের মধ্যে ছিলেন- নগর কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, উত্তর জেলার সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালাম, সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, দক্ষিণ জেলার সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান ও শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শফর আলী।

এ বিষয়ে সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পরিবেশ বিনষ্ট করে শতবর্ষী গাছ কেটে শিরীষ তলায় নৈসর্গিক সৌন্দর্য্য নষ্ট করে হাসপাতাল হবে- এরূপ জেনে জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সেজন্য এ বিষয়ে জানতে আমরা নেতৃবৃন্দ সেখানে যাই।

“প্রকল্প পরিচালক ব্রিফ করেছেন। নকশা দেখিয়েছেন। আমাদের প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। যে জায়গায় দেখিয়েছেন সেটা গোয়ালপাড়া। বর্তমান রেলওয়ে হাসপাতালের সীমানা প্রাচীরের পরের অংশ।”

নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাছির বলেন, “পরিবেশের বিষয়টা আমরা জানতে চেয়েছি। তারা বলেছেন, বিদেশি বিশেষজ্ঞরা ডিজাইন করেছেন। এনভায়রনমেন্টাল ইফেক্ট এসেসমেন্ট এর জন্য দেয়া হয়েছে। পরিবেশ ছাড়পত্র ও সিডিএ অনুমোদন নিয়ে তারপর কাজ শুরু হবে।

“তারা জানিয়েছেন- এখানে হলে শতবর্ষী গাছ কাটা হবে না। পরিবেশও ক্ষতির মুখে পড়বে না। বৈশাখী মেলা ও নগরবাসী যেভাবে মুক্ত পরিবেশে বিচরণ করবেন সেটা অব্যাহত থাকবে। যা জানলাম, প্রধানমন্ত্রী দুবার এই প্রকল্পের বিষয়ে কোয়ারি করে তারপর চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন সবকিছু দেখে।”

এক প্রশ্নের জবাবে নাছির বলেন, “আমরা রেলমন্ত্রীর সাথেও যোগাযোগ করব। দলের সাধারণ সম্পাদক মন্ত্রী ওবায়দুলে কাদেরের সাথে কথা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, বিশেষ সহকারী ও শিক্ষা উপমন্ত্রীসহ অনেকের সাথে কথা হয়েছে।

সিআরবিতে হাসপাতাল প্রকল্প, বিরোধিতা নানা প্রশ্নে  

“আমরা চাই না এটা নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি তৈরি হোক বা ঘোলা পানিতে কেউ মাছ শিকার করুক। পরিবেশ যেমন সুন্দর রাখতে হবে তেমন চট্টগ্রামের জন্য ভালো মানের হাসপাতাল জনদাবি। শুধু একটা না ভালো কয়েকটা হাসপাতাল দরকার। তাতে সেবার মানও ভালো হবে। প্রতিযোগিতা থাকলে চিকিৎসার খরচও কমবে।”

আ জ ম নাছির বলেন, “এই হাসপাতাল প্রকল্প শিরীষ তলায় হচ্ছে না। এটা হচ্ছে গোয়ালপাড়ায়। সবার সাথে কথা বলে আমরা প্রেস ব্রিফ করব। যাতে নগরবাসী এই প্রকল্প বিষয়ে সবকিছু জানতে পারেন।” 

ইতিপূর্বে প্রকল্প কর্মকর্তা ও পূর্ব রেলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সেতু) মো. আহসান জাবির সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- “হাসপাতাল নির্মাণের জন্য সিআরবি রেলওয়ের নিজস্ব হাসপাতালের পাশের গোয়ালপাড়া এলাকাকে নির্ধারণ করা হয়েছে।… সেখানে শতবর্ষী কোনো গাছ বিদ্যমান নেই। উক্ত স্থানে বিদ্যমান গাছ ও ভূমিরূপ এর অবয়ব ঠিক রেখেই হাসপাতালটি নির্মাণ করা হবে।

“সিআরবি শিরীষ তলা এলাকা ও সাত রাস্তার মোড়ে শতবর্ষী গাছ বিদ্যমান কিন্তু উক্ত স্থানটি প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত জায়গা নয় বিধায় শতবর্ষী গাছ সমূহের বিনাশের কোনো সম্ভাবনাই নেই।… গোয়ালপাড়াতে হাসপাতাল নির্মাণ করা হলে সিআরবি এলাকার নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক পরিবেশ ও শিরীষ তলায় বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানসহ নানাবিধ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কোনোরূপ প্রতিবন্ধকতা/বিঘ্নতা ঘটবে না।”

পরিদর্শনের বিষয়ে উত্তর জেলার সভাপতি এম এ সালাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা পরিষ্কারভাবে সব জানতে পারিনি। প্রকল্প পরিচালক একটি স্কেচ দেখিয়েছেন। কিন্তু রেলের জিএম ছিলেন না। তিনি ঢাকায়। তাই উনার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

“প্রকল্পটির এলাকা ছয় একর। আমরা একটা অংশ আজ ঘুরে দেখেছি। ওই ছয় একরে এখন কী কী আছে, কারা আছেন সেটা পুরোপুরি জানতে হবে। রেলমন্ত্রীর সাথেও কথা বলব আমরা। সব তথ্য উপাত্ত নিয়ে উত্তর, দক্ষিণ ও নগর নেতৃবৃন্দ সংবাদমাধ্যমকে জানাব।”

পরিদর্শন বিষয়ে সাংসদ মোছলেম উদ্দিন আহম্মদ তার ফেসবুকে লেখেন, “সিআরবি শীরিষ তলা এলাকা ও সাত রাস্তার মোড়ে শতবর্ষী গাছ বিদ্যমান উক্ত স্থানটি প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত জায়গা নয় বিধায় শতবর্ষে গাছ সমূহের বিনাশের কোন সম্ভাবনা নেই।

“কোন শতবর্ষীয় গাছ কাটা হবে না এবং শীরিষ তলায় হাসপাতাল নির্মাণ হচ্ছে না। সিআরবি হাসপাতালের নির্ধারিত স্থানের সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের উচ্চমহল ও সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে সমন্বয় করে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হবে।”

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সদর দপ্তর সিআরবি এলাকায় বর্তমান রেলওয়ে হাসপাতাল ও সংলগ্ন খালি জমি, রেলওয়ে হাসপাতাল কলোনি স্টাফ কোয়াটারের ছয় একর জমিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে প্রকল্পটির চুক্তি সাক্ষর ও অনুমোদন হয় গত বছর।

বেসরাকরি ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ কোম্পানি লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠান ছয় একর জমিতে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল, ১০০ আসনের মেডিকেল কলেজ ও ৫০ আসনের নার্সিং ইনস্টিটিউট করবে। প্রকল্প বাস্তবায়ন সময় ১২ বছর।

ইতিমধ্যে রেলওয়েকে আট কোটি টাকা পরিশোধ করেছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটি। ৫০ বছর পর হাসপাতালটি রেলওয়েকে হস্তান্তর করা হবে।

রেলের সদর দপ্তরের পাশে ও স্টাফ কোয়াটার (৫০টির মত) সরিয়ে পিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়নের বিরোধীতা করছেন শ্রমিক-কর্মচারীদের একাংশ। তাদের দাবি এতে রেলের স্বার্থ রক্ষা হবে না। জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হলে সম্প্রতি প্রকল্পের জমিতে থাকা স্টাফ কোয়াটারের মধ্যে ২০টি ভেঙে ফেলা হয়।

চট্টগ্রামের ১৭ জ্যেষ্ঠ নাগরিক সোমবার দেয়া এক বিবৃতিতে, সিআরবির ঐতিহ্য ও পরিবেশ রক্ষায় হাসপাতাল প্রকল্পটি সেখানে বাস্তবায়ন না করার আহ্বান জানান। ইতিমধ্যে ওই এলাকায় একাধিক প্রতিষ্ঠান প্রতিবাদী কর্মসূচিও পালন করেছে।