পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

চট্টগ্রাম নগরী সন্ধ্যার মধ্যে পরিচ্ছন্ন হবে: মেয়র

  • চট্টগ্রাম ব্যুরো,
    Published: 2021-07-21 17:53:05 BdST

ঈদুল আজহার দিন বিকেল চারটার মধ্যে বন্দর নগরীর কোরবানির পশুর ৭৫ শতাংশ বর্জ্য অপসারণ করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সিসিসি)।

বুধবার সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে শতভাগ বর্জ্য অপসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন  মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী।

বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নগরীর দামপাড়া ওয়াসার মোড় এলাকা থেকে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন শুরু করেন মেয়র।

সেখানে নগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি জানান, ১০ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণের পূর্ব ঘোষণা বাস্তবায়নে স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান, জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলর, পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবকরা মাঠে রয়েছে।

মেয়র রেজাউল, “এখন সাড়ে তিনটা, শহরটা ঘুরে দেখেন। প্রধান সড়কে কোনো বর্জ্য নেই। সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে আশাকরি শতভাগ না হলেও, দুয়েক শতাংশ হয়ত বাকি থাকতে পারে।

“আমরা ৯৮ ভাগ বর্জ্য অপসারণ করে ফেলতে পারব। আগামীকালও কিছু কোরবানি হবে। আগামীকালের জন্যও একই ব্যবস্থা নিয়েছি। আশা করি, আমরা যে ঘোষণা দিয়েছিলাম সে ব্যাপারে শতভাগ সফল হব।”

গত দুবছর নগরীতে যত্রতত্র কোরবানির পশুর চামড়া ফেলে যাওয়ার পর চলতি বছর এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দেয় সিসিসি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, “শহরের যেখানে যেখানে চামড়া রাখে সেখানে আগে থেকে পরিচ্ছন্ন বিভাগের লোকজন থাকবে, যাতে কেউ ফেলে না যায়।

“আর যদি চামড়া থেকে যায় আমরা চেষ্টা করব সেগুলো সংগ্রহ করে প্রয়োজনে কোনো ট্যানারিতে দিয়ে দিতে।”

নগরীর আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মেয়র মহোদয়ের নির্দেশনায় সকাল ৮টা থেকে বেলা দুইটার মধ্যে আমাদের ওয়ার্ডের সব সড়ক ও অলিগলির বর্জ্য অপসারণ করে ব্লিচিং পাউডার ছিটানোর কাজ শেষ করেছি।

“আমাদের ওয়ার্ডের কোনো এলাকায় আর কোনো কোরবানির বর্জ্য নেই। কোনো অলিগলিতে নতুন করে কোনো আবর্জনা দেখা গেলে কর্মীরা তা পরিষ্কার করার জন্য প্রস্তুত আছে।”

সিসিসির বর্জ্য অপসারণ স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর মোবারক আলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, নগরীকে চারটি জোনে ভাগ করে চারজন কাউন্সিলরের নেতৃত্বে বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যে সকাল থেকে একটানা কাজ চলছে।

“ইতিমধ্যে ৭৫ শতাংশ বর্জ্য অপসারণ হয়ে গেছে। এবার নগরীতে লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে আর্বজনা হয়নি। আমাদের লক্ষ্য ছিল ৭৫০০ টন আবর্জনা অপসারণ। এখন পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজার টনের মত সংগ্রহ হয়েছে। হয়থ পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টন হতে পারে দিন শেষে। আমরা আগে যে ধারণা করেছিলাম সে তুলনায় কোরবানি এবার কম হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।”

এছাড়া তিনদিন ধরে ক্রাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে নগরী সবগুলো এলাকা থেকে পুরনো বর্জ্য ও খড়কুটো সরিয়ে ফেলায় আবর্জনার চাপ কম জানিয়ে মোবার আলী বলেন, “৩৭০০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী, বিদ্যুৎ বিভাগ ও গাড়ি চালকসহ সাড়ে চার হাজার লোক এই কাজে যুক্ত আছেন।”

নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ১৪০টি বড় আকারের কন্টেইনার রাখা আছে। আশেপাশের এলাকা থেকে সেখানে বর্জ্য এসে জমা হওয়ার পর তা সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। মোট ৩৩০টি গাড়ি নিয়ে সিসিসি’র পরিচ্ছন্ন কর্মীরা আবর্জনা সরিয়ে নিচ্ছে।