পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

লকডাউনের প্রথম দিন চট্টগ্রাম শহর ফাঁকা

  • চট্টগ্রাম ব্যুরো, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-07-23 18:29:17 BdST

করোনাভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে ঈদের পর আবার শুরু হয়েছে লকডাউন; প্রথম দিনে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সড়ক ছিল অনেকটাই ফাঁকা।

শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় আর সকাল থেকে বৃষ্টি থাকায় চট্টগ্রাম শহরের বাসিন্দারা ঘর থেকে বের হননি খুব একটা। তবে বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে পথে পথে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর টহল আর চেক পোস্টে তল্লাশি চলতে দেখা গেছে।  

লকডাউনে গণপরিহন না থাকলেও ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটর সাইকেল ও কিছু পণ্যবহনকারী যানবাহন চলতে দেখা গেছে রাস্তায়। তবে সেগুলোর সংখ্যাও অন্য দিনের তুলনায় কম।

শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই ‘কঠোর লকডাউনে’ অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাসা থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। বিধিনিষেধ মানাতে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবির সঙ্গে সেনাবাহিনীও মাঠে আছে।

শপিংমল, মার্কেটসহ সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ। জরুরি সেবার দপ্তর বাদে অফিস-আদালত আর শিল্পকারখানাও বন্ধ রাখা হয়েছে। ৫ অগাস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ চলবে।

তবে কোরবানির পশুর চামড়া সংশ্লিষ্ট খাত, খাদ্যপণ্য এবং কোভিড-১৯ প্রতিরোধে পণ্য ও ঔষধ উৎপাদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান বিধিনিষেধের আওতায় বাইরে থাকছে। পাশাপাশি রোববার থেকে সীমিত পরিসরে চলবে ব্যাংকিং কার্যক্রম।

দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা জানান, গ্রামের বাড়িতে ঈদ করে শুক্রবার সকালে বিভিন্ন স্থান থেকে কিছু মানুষ চট্টগ্রাম শহরে ফিরেছেন। আবার হাসপাতালে বা জরুরি কাজে বাসা থেকে বের হওয়ার কথা বলছেন কেউ কেউ। তবে রাস্তায় মানুষের চলাচল একেবারেই কম। 

আকবার শাহ থানার সিটি গেইট, বাকলিয়া থানার শাহ আমানত সেতু, বায়েজিদ থানার অক্সিজেন মোড়কে চট্টগ্রাম নগরীর প্রবেশপথ বলা হয়। সেসব জায়গায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শহরের ভেতরে বিভিন্ন পয়েন্টেও তাদের তৎপর দেখা গেছে।

নগরীর বাকলিয়া এলাকায় দায়িত্বরত জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামনুন আহমেদ অনিক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঈদের ছুটি, শুক্রবার সবমিলিয়ে জনসমাগম কম। লকডাউন বাস্তবায়নে তেমন কোনো বেগ পেতে হচ্ছে না।”

তিনি জানান, শাহ আমনত সেতু দিয়ে কোনো যানবাহন নগরীতে প্রবেশ না করলেও কিছু লোকজন ঈদের ছুটি কাটিয়ে নগরীতে প্রবেশ করছেন। তারা ব্রিজের অন্য পাড়ে নেমে কেউ পায়ে হেঁটে, আবার কেউ রিকশা নিয়ে ব্রিজ পার হয়ে শহরে প্রবেশ করছেন।

ম্যাজিস্ট্রেট অনিক জানান, সবজি ও দুধবহনকারী কিছু যানবাহন চলাচল করছে। জরুরি পণ্যের আওতায় সেগুলোকে শহরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।

শাহ আমানত সেতু এলাকায় দায়িত্বরত পরিদর্শক (টিআই) মো. শামসুদ্দিন জানান, কিছু কিছু মোটর সাইকেল চালককে যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে। পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

লকডাউন অমান্য করে যাত্রী পরিবহন করায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পাঁচটি ব্যাটারিচালিত রিকশা ও দুটি মোটর সাইকেল জব্দ করেছে পুলিশ। এছাড়া তিনটি মোটর সাইকেল ও একটি অটো রিকশাকে জরিমানা করা হয়েছে বলে জানান শামসুদ্দিন।

নগরীর প্রধান প্রবেশপথ সিটি গেইট এলাকায় দায়িত্বরত টিআই মোস্তফা আল মামুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ থেকে আসা কিছু বাসকে শহরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়েছে। তবে শহর থেকে কোনো ধরনের গণপরিবহন বের হয়নি।

“অনেকেই ঈদের ছুটিতে বাড়ি গেছেন। তারা পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপন করে বৃহস্পতিবার বিকালে চট্টগ্রামে রওনা করেছেন। মহাসড়কে যানযটের কারণে অনেক বাস নির্দিষ্ট সময়ে পেঁছাতে পারেনি। তাই সেসব বাসগুলোকে শহরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়েছে।”

নগরীর টাইগার পাস এলাকায় চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনকারী টিআই শেখ ফরহাদুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শিল্প ও পোশাক কারখানা বন্ধ থাকায় নগরীতে তেমন কোনো চলাচল নেই। কেউ কেউ অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে বের হয়েছেন। তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখা হচ্ছে। যারা সঠিক উত্তর দিতে পারছেন না, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে।”

সকাল থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত সময়ে চট্টগ্রামে বিভিন্ন ধরনের পাঁচটি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা এবং একটি বাসসহ তিনটি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে বলে জানান টিআই ফরহাদ।