পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

কর্তৃপক্ষ এখন বলছে, চট্টগ্রামে খালের পাড়ে বেড়া হবে, নালার ওপর স্ল্যাব

  • চট্টগ্রাম ব্যুরো, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-08-27 14:14:01 BdST

জলাবদ্ধতার সময়ে খাল-নালায় পড়ে একাধিক ব্যক্তির মৃত্যুর পর এখন নগরীতে লোক চলাচল বেশি এমন এলাকায় খালের পাড়ে বেড়া আর নালায় স্ল্যাব বসানোর কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে এখনই সে কাজ শুরু হচ্ছে না। জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় খালের পাড়ে রাস্তা নির্মাণের কাজ শেষ হলে তারপর খালের ধারে ‘ফেন্সিং’ হবে।

আর নালায় স্ল্যাব বসানোর বিষয়ে প্রকৌশলীদের প্রয়োজনীয় কাজ শুরুর নির্দেশনা দিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।

ভারি বৃষ্টিতে গত বুধবার সকালে বন্দরনগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে মুরাদপুর এলাকায় খালে পড়ে তলিয়ে যান সালেহ আহমদ নামের এক সবজি ব্যবসায়ী। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত তার খোঁজ মেলেনি।

এর আগে চলতি বছরের ৩০ জুন নগরীর ষোলশহর চশমা হিল এলাকায় খালের পাশের সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় খালে পড়ে যায় একটি অটোরিকশা। স্রোত থাকায় খালে তলিয়ে মারা যান চালক সুলতান (৩৫) ও যাত্রী খাদিজা বেগম (৬৫)।

২০১৭ সালের ২ জুলাই এম এম আলী সড়কে রয়েল গার্ডেন কমিউনিটি সেন্টার সংলগ্ন বড় নালায় পড়ে তলিয়ে যান সাবেক সরকারি কর্মকর্তা শীলব্রত বড়ুয়া (৬২)। পরদিন প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে মিয়াখান নগরে চাক্তাই খালে তার লাশ পাওয়া হয়।

চট্টগ্রামে অটোরিকশা ড্রেনে পড়ে চালক ও যাত্রী নিহত

বিয়ের অনুষ্ঠানে এসে নালায় পড়ে প্রাণ গেল বৃদ্ধের  

বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর আসাদগঞ্জ কলাবাগান এলাকায় নিখোঁজ সালেহ আহমদের পরিবারের সাথে দেখা করতে যান সিটি মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী।

পরে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তাদের বাসায় গিয়েছিলাম। পরিবারের আকাঙ্ক্ষা, তারা সালেহ আহমদের সন্ধান চান। আমি জেলা প্রশাসক ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি। আজও উদ্ধার অভিযান চলবে।”

চট্টগ্রামের মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর আসাদগঞ্জ কলাবাগান এলাকায় যান নালায় পড়ে নিখোঁজ সালেহ আহমদের পরিবারের সাথে দেখা করতে।

চট্টগ্রামের মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর আসাদগঞ্জ কলাবাগান এলাকায় যান নালায় পড়ে নিখোঁজ সালেহ আহমদের পরিবারের সাথে দেখা করতে।

মেয়র জানান, সালেহ আহমদ যেখানে দুর্ঘটনায় পড়েছেন, সেখানে নির্মাণ কাজ চলছিল। পানিতে নালা আর রাস্তা এক হয়ে গিয়েছিল।

“সেখানে যদি একটা ব্যারিকেড থাকত, বাঁশের কঞ্চি দিয়েও যদি একটা ব্যারিকেড দিত, তাহলে এ দুর্ঘটনা ঘটত না। আমাদের সকলের গাফিলতির কারণেই…।”

সালেহ আহমদের পানিতে ডুবে যাওয়ার ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ হিসেবে বর্ণনা করে মেয়র রেজাউল বলেন, “উনার স্ত্রী-ছেলে ও আত্মীয়দের সাথে কথা বলেছি। তিনি সবজির ব্যবসা করতেন। উনাদের আয়ের অন্য কোনো উপায় নেই। উনার স্ত্রী ও ছেলেকে বলে এসেছি, যে কোনো প্রয়োজন কোনো ধরনের দ্বিধা না করে সরাসরি আমার সাথে যোগাযোগ করতে। আমার সাধ্যমত আমি করব।”

নগরীতে নালার ওপর স্ল্যাব বসানোর বিষয়ে মেয়র রেজাউল বলেন, “এটা আগেই সিদ্ধান্ত দিয়েছিলাম কয়েকটি কারণে। কারণ নালা পরিষ্কার করার পর আবার পলিথিনে ভর্তি হয়ে যায়। তাই বাসা-বাড়ি ও দোকানের সামনে যেসব নালা আছে সেগুলোতে স্ল্যাব করে দেওয়া হবে।  

“আর খালের পাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী বা ফেন্সিং করা হবে যেসব এলাকায় খালের পাশে লোক চলাচল বেশি আছে সেখানে। সব খালের পাশে করা সম্ভব হবে না।”

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিসিসি) হিসেবে নগরীতে ১৬১ কিলোমিটার খাল এবং ৯৪৬ কিলোমিটার পাকা নালা আছে।

জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরীতে চলমান ৫ হাজার ৬৬১ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের আওতায় ৩৬টি খালের ৫ লাখ ২৮ হাজার ঘনমিটার মাটি খনন এবং ৪ লাখ ২০ হাজার ঘনমিটার কাদা অপসারণ করা হবে।

পানি নিষ্কাশনের জন্য সড়কের পাশে নালা তৈরি করা হবে এক হাজার ৭৭ কিলোমিটার। প্রায় ১০৮ একর জমি অধিগ্রহণ এবং এক লাখ ৭৬ হাজার মিটার রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হবে। ৮৫ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করা হবে।

জলজটের চট্টগ্রামে নালায় পড়ে বৃদ্ধ নিখোঁজ  

নালায় পড়া বৃদ্ধের সন্ধান মেলেনি দুই দিনেও  

এছাড়া ছয়টি পিসি গার্ডার ব্রিজ প্রতিস্থাপন, পাঁচটি টাইডাল রেগুলেটর স্থাপন, ৪২টি সিল্ট ট্র্যাপ স্থাপন, বন্যার পানি সংরক্ষণে তিনটি জলাধার স্থাপন, বিদ্যমান নালার সংস্কার ও মেরামত, দুই হাজার বৈদ্যুতিক পোল স্থানান্তর এবং ৮৮০টি স্ট্রিট লাইট স্থাপন হবে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অধীনে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের পূর্ত কাজ পরিচালনা করছে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারি কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড।

এই প্রকল্পের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহ আলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রকল্প কাজে বড় খালগুলোতে স্ল্যাব বসানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেই। কারণ প্রকল্পের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা দিয়েছেন তা হল, খালকে ঢাকা যাবে না এবং খালের মাঝে ঢালাই এভয়েড করতে বলেছেন, যাতে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত না হয় এবং বর্ষায় কিছু পানি খালের নিচ দিয়ে ভূগর্ভে চলে যায়।

“তাই খালকে ঢাকা হবে না। প্রকল্পে ফেন্সিং নেই। খালের পাশে রাস্তা ও ফুটপাত করা হবে। তবে জনবহুল এলাকায় খালের পাড়ে রেলিং করে দেব, যাতে খালে কেউ পড়ে না যায়। রেলিং এ লাইটিং করা হবে যাতে সবার চোখে পড়ে। সেটা করা হবে খালের রিটেইনিং ওয়ালের কাজ শেষ হলে। যেখানে জন চলাফেরা খুব কম সেখানে করা হবে না।”

মুরাদপুরে যে এলাকায় সালেহ আহমদ তলিয়ে গেছেন সেখানে রেলিং করার পরিকল্পনা আছে বলেও জানান মো. শাহ আলী।