পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

চট্টগ্রামের বাসায় বিস্ফোরণ, দেয়াল ভেঙে একজনের মৃত্যু

  • চট্টগ্রাম ব্যুরো, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-10-17 12:48:11 BdST

চট্টগ্রামের বালুছড়া এলাকার এক বাসায় বিস্ফোরণে দেয়াল ভেঙে একজনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও তিনজন।

রোববার সকালে বালুছড়া কাশেম কলোনিতে বিস্ফোরণের ওই ঘটনা ঘটে বলে ফায়ার সার্ভিস বায়েজিদ বোস্তামী স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার কবির হোসেন জানান।

কবির হোসেন বলেন, কলোনীর একটি তিন তলা ভবনের নিচ তলার একটি কক্ষে বিস্ফোরণ হয়। পরে তিনজনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সেখানে ওমর ফারুক নামে ২৪ বছর বয়সী এক যুবককে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন বলে মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নুরুল আলম আশেক জানান।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মোখলেসুর রহমান জানান, যখন বিস্ফোরণ ঘটে, ফারুক তখন ওই ঘরের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। বিষ্ফোরণের ফলে দেয়াল ভেঙে তার গায়ে পড়ে।

যে ঘরে বিস্ফোরণ হয়েছে, সেখানে ফোরকান উল্লাহ (৬০) ও মো কালাম (৩০) নামে দুজন ছিলেন। তাদের দগ্ধ অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আহতদের মধ্যে ফোরকানের শরীরের ৪৫ শতাংশ এবং কালামের শরীরের ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে বলে জানান বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান।

বিস্ফোরণে ওই ঘরের দেয়াল ভেঙে পাশের কক্ষে দিদার হোসেন নামে আরেকজন আহত হন। তবে আঘাত গুরুতর না হওয়ায় তাকে হাসপাতালে নিতে হয়নি।

উপ-কমিশনার মোখলেস বলেন, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, ঘরের ভেতর গ্যাস জমে বিস্ফোরণ হয়েছে। খালি চোখে দাহ্য কিংবা বিস্ফোরকের কোনো আলামত মেলেনি।”

পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের বোমা নিষ্ক্রীয়করণ ইউনিটের পরিদর্শক আফতাব হোসেনও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঘরের ভেতর কোনো ধরনের বিস্ফোরক দ্রব্যের আলামত পাওয়া যায়নি। বিস্ফোরক থেকে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। যে কোনোভাবে গ্যাস জমে বিষ্ফোরণ হয়ে থাকতে পারে।

ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে আসা কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্টিবিউশন কোম্পানির (কেজিডিসিএল) ব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সার্ভিসেস) রওনক উল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, গ্যাস লাইনে কোনো ত্রুটি তারা পাননি। চুলা ও লাইন অক্ষত ছিল।

“ঘরে ভেন্টিলেশন সুবিধা নেই। এমনকি গ্যাসের চুলার পাশেও কোনো জানালা নেই। যার কারণে ঘরের মধ্যে গ্যাস জমে ওই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।”

তিন তলা ওই ভবনের উপরের তলায় মাদ্রাসা এবং দ্বিতীয় তলায় মসজিদ। নিচ তলায় দুই পাশে ১৪টি কক্ষে লোকজন ভাড়া থাকে। সরু গলি দিয়ে সেসব ঘরে প্রবেশ করতে হয় পেছনের কাশেম কলোনিতে। সেখানে বেড়ার ঘরে ভাড়া থাকেন আরও বেশ কিছু পরিবার।

ভবন মালিকের ছেলে মো. খুবচুর আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, যে কক্ষে বিস্ফোরণ হয়েছে, সেখানে ফোরকান ও কালাম দশ বছরের বেশি সময় ধরে ভাড়া আছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা পৌনে ১১টার দিকে হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণের পর ভবনের নিচতলায় আগুন লেগে যায়। বিস্ফোরণের ধাক্কায় ঘরের দেয়ালও ভেঙে পড়ে। আহত তিনজনকে উদ্ধার করে অটোরিকশায় করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।