১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

খান জাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ পিপিপিতে

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2017-02-08 18:57:27 BdST

বাগেরহাটের রামপালে নির্মিতব্য খান জাহান আলী বিমানবন্দর সরকারি-বেসরকারি অংশিদারিত্বের (পিপিপি) আওতায় করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এই অনুমোদন দেয়া হয়।

সভার পরে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খান জাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্প পিপিপির আওতায় বাস্তবায়নের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা কমিটি।

২০১৫ সালের ৫ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘খান জাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ’ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে বাগেরহাটের রামপালের এই বিমানবন্দর সম্পূর্ণ সরকারি ব্যয়ে করার সিদ্ধান্ত হয়। সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে এখন সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বে বিমানবন্দরটি করার সিদ্ধান্ত হলো।

২০১৫ সালে একনেকের ওই সভার পর পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেছিলেন, প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৪৪ কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৪৯০ কোটি টাকা দেওয়া হবে। বাকি ৫৪ কোটি টাকা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেওয়ার কথা ছিল।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে এই বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ করবে।

বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্প সম্পর্কে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, মংলা বন্দর, ইপিজেড, চিংড়ি শিল্প ও রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে ঘিরে বাগেরহাটে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণের দ্রুত যোগাযোগ নেটওয়ার্কের দরকার হবে। খান জাহান আলী বিমানবন্দর থেকে খুলনা শহর ও মংলা সমুদ্রবন্দর উভয়েরই দূরত্ব মাত্র ২০ কিলোমিটার।

“ওই এলাকায় বিমানবন্দর হলে সুন্দরবন, ষাটগম্বুজ মসজিদ ও খান জাহান আলীর মাজারকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্প প্রসারিত হবে। এছাড়াও উপকূলীয় অঞ্চলে দ্রুত ত্রাণকার্যও এ বিমান বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যাবে।”

১৯৯৬ সালে বাগেরহাট জেলায় খানজাহান আলী বিমানবন্দরটি একটি ‘শর্ট টেক অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং বন্দর’ হিসেবে চালু করার জন্য ৪১ দশমিক ৩০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়নের পর কাজ বন্ধ করা হয়।

২০১১ সালের ৫ মার্চ খুলনা জেলা সফরকালে খানজাহান আলী বিমানবন্দরটি পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দরে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১৯ বছর পর বিমানবন্দর প্রকল্পটি বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।