পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

১০ কোটি ভোটারের ৩ কোটি যুবক, তাদের কথা শুনতে হবে: দেবপ্রিয়

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2018-09-01 19:51:40 BdST

bdnews24

এক-তৃতীয়াংশ ভোটার যুবক হওয়ায় রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের মতামতের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে এক অনুষ্ঠানে।

‘এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম’ আগামী ১৪ অক্টোবর ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে যুব সম্মেলন আয়োজন করতে যাচ্ছে।

ওই আয়োজন নিয়ে শনিবার ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ফোরামের আহ্বায়ক, সিপিডির সাবেক নির্বাহী পরিচালক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য ভোটের রাজনীতিতে যুব সমাজের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “নির্বাচন আসন্ন। এই নির্বাচনে তরুণ সমাজ থেকে দেড় কোটি ভোটার যুক্ত হয়েছে। আগের নির্বাচনের অতৃপ্ত ভোটারদের কথা স্মরণ করেন আরও দেড় কোটি ভোটার। তার মানে সাড়ে ১০ কোটি ভোটারের মধ্যে তিন কোটি বা ৩০ শতাংশ ভোটার হচ্ছে যুব সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।

“তাদের কথা শুনবো না তো কার কথা শুনব। তাদের দিয়ে যদি কাজ না করাই তাহলে কাদের দিয়ে করাব। এই কথাগুলো জোর দিয়ে বলার জন্যই আমাদের এই প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগ।”

তিনি বলেন, “সাম্প্রতিককালে আপনারা দেখছেন, বাংলাদেশের যুব সমাজ স্বাধীন কণ্ঠস্বর দিয়েও অনেক বিষয় সামনে নিয়ে এসেছে। তাদের কণ্ঠস্বর দিয়ে ভ্যাটের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে, তারা কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে, নিরাপদ সড়কের জন্য তারা আন্দোলন করেছে। আমাদের প্ল্যাটফর্মের দায়িত্ব হল তাদের সমর্থন দেওয়া।”

গ্রাম ও শহরে বসবাসরত যুবকদের মধ্যে টেকসই উন্নয়নের (এসডিজি) বিভিন্ন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে `যুব সম্মেলন’  ২০১৮ বাংলাদেশ এজেন্ডা ২০৩০ তারুণ্যের প্রত্যাশা” শীর্ষক এই সম্মেলনের আয়োজন হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ‘এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম’র কোর গ্রুপের সদস্য শাহীন আনাম ও ইফতেখারুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

এই সম্মেলনে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠী, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীসহ দেশের সব প্রান্তিক মানুষের প্রতিনিধিরা অংশ নেবে বলে জানানো হয়।

দেবপ্রিয় বলেন, “এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য আগামী ১৫ বছর নেতৃত্ব দেবে আজকের যুব সমাজ। আগামী ১০–১৫ বছরের মধ্যে আমার মতো অনেকেই হয়তো আর সামাজিকভাবে সক্রিয় থাকবেন না। কিন্তু নেতৃত্বমূলক ভূমিকায় থাকবেন আজকের যুব সমাজ। সেহেতু সেই যুব সমাজকে তাদের ভূমিকা সম্পর্কে তাদের সচেতন করা দরকার।”

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, আকাঙ্ক্ষা তরুণ প্রজন্মকে জানানোর পাশাপাশি স্বাধীনতা উত্তর প্রজন্মের চিন্তা, বেদনা, ক্ষোভ ও আক্ষেপও বোঝারও উপর জোর দেন তিনি।

দেবপ্রিয় বলেন, “যুব সম্প্রদায়ের মধ্যেও বিভাজন আছে। ধনী-গরিব আছে। তাদের মধ্যে একদিকে উচ্চ পর্যায়ের চাকরিজীবী আছে,  একইসঙ্গে নির্মাণশ্রমিকও আছে। এদের ভেতরে শারিরীকভাবে অসুস্থগ্রস্ত মানুষও আছে।

“যুব সমাজকে আমরা অখণ্ড স্বত্বা হিসেবে দেখি না। আমরা যুব সমাজকে বিভাজিত সমস্যা হিসেবে দেখি। এসডিজির মূল বক্তব্যটা হল কাউকে পেছনে রাখা যাবে না। যুব সম্প্রদারের ভেতরেও যারা সবচেয়ে পিছিয়ে আছে তাদের সামনে নিয়ে আসার কথা বলি।”

অনুষ্ঠানে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “এসডিজির সাফল্য তরুণরাই ভোগ করবে। আগামী প্রজন্মের জন্য টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়নে প্রবীণদের যেমন দায় আছে, আবার তরুণদেরও দায়িত্ব আছে। তরুণদের মাঝে এই দায়িত্ববোধের তাগাদা দিতেই এই সম্মেলনের অন্যতম লক্ষ্য।”