২৫ মার্চ ২০১৯, ১১ চৈত্র ১৪২৫

এডিপি বাস্তবায়নে গতি

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-02-20 00:34:36 BdST

bdnews24
জাজিরা প্রান্তে ৩৫ ও ৩৬ নম্বর পিলারের মধ্যে বসানোর জন্য মাওয়া প্রান্ত থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে পদ্মা সেতুর সপ্তম স্প্যানটি। দুই প্রান্ত মিলে বুধবার দৃশ্যমান হবে সেতুর ১২শ মিটার।

চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত সাত মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) জন্য বরাদ্দ ৬২ হাজার ২৮২ কোটি টাকা খরচ হয়েছে, এ বাস্তবায়ন মোট বরাদ্দের ৩৪ শতাংশের বেশি।

এই বাস্তবায়ন গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা বেশি। গত অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ৩৩ শতাংশ বা ৫৪ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা ব্যয় করা সম্ভব হয়েছিল।

চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে এডিপি‘র এ বাস্তবায়ন গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১২-১৩ অর্থবছরে প্রথম সাত মাসে ৩৮ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছিল।

চলতি অর্থবছরের জন্য প্রায় এক লাখ ৮১ হাজার কোটি টাকার এডিপি গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা বা ৬২ শতাংশ, প্রকল্প সহায়তার খাত থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশ এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৭ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা বা ৪ শতাংশের কিছু বেশি অর্থ জোগান দেওয়ার কথা রয়েছে।

এডিপি বাস্তবায়নে জড়িত কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন বাড়াতে নানা রকম উদ্যোগ নেওয়ার ফলে এই বিপুল অর্থ ব্যয় সম্ভব হয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের  (আইএমইডি) ভারপ্রাপ্ত সচিব আবুল মনসুর মোহা: ফয়জুল্লাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সম্প্রতি উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন বাড়ানোর জন্য আমরা বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছি। এসব পদক্ষেপের ফলেই বাস্তবায়ন হার বাড়ছে বলে আমি মনে করি।”

তিনি বলেন, “সম্প্রতি আমরা বিভাগ ভিত্তিক প্রকল্প পরিদর্শনে যাচ্ছি। এতে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক এবং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বসে কোনো প্রকল্পে কোনো সমস্যা আছে কি না, তা আমরা চিহ্নিত করছি। এরপর চিহ্নিত ওই সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।

“এছাড়াও সারা দেশে আমরা বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ও বড় প্রকল্পগুলো কোনো সমস্যা মোকাবেলা করছে কি না, তা জানার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে জানতে চাচ্ছি।”

আইএমইডির হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের (জুলাই-জানুয়ারি) প্রথম সাত মাসে ৬২ হাজার ২৮২ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে।

এরমধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৬ হাজার ৬২৪ কোটি টাকা বা বরাদ্দের ৩২ শতাংশের কিছু বেশি অর্থ  ব্যয় করা সম্ভব হয়েছে। প্রকল্প সহায়তার খাত থেকে ২২ হাজার ৫২৬ কেটি টাকা বা বরাদ্দের প্রায় ৩৮ শতাংশ ব্যয় করা সম্ভব হয়েছে। আর প্রকল্পের নিজস্ব অর্থায়নের ৩ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা বা প্রায় ৪০ শতাংশ ব্যয় করা হয়েছে।

আইএমইডি‘র প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের এডিপিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া ১০ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে বরাদ্দের আনুপাতিক হারে সবচেয়ে বেশি ৫৯ শতাংশ বাস্তবায়ন করেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৩ শতাংশ বাস্তবায়ন করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রায় ৪৩ শতাংশ বাস্তবায়ন করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। চতুর্থ সর্বোচ্চ ৪২ শতাংশ বাস্তবায়ন করেছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পঞ্চম সর্বোচ্চ স্থানীয় সরকার বিভাগ ৩৯ শতাংশ বরাদ্দ ব্যয় করেছে।

এছাড়াও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ প্রায় ৩১ শতাংশ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ প্রায় ২৮ শতাংশ, সেতু বিভাগ ২৩ শতাংশ বরাদ্দ ব্যয় করতে পেরেছে।

তবে বেশি বরাদ্দ পাওয়া ১০ বিভাগের মধ্যে রেলপথ মন্ত্রণালয় বেশ পিছিয়ে রয়েছে। এ বিভাগটি মাত্র ১২ শতাংশ বরাদ্দ ব্যয় করতে সক্ষম হয়েছে।